সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে লোক ঠেলে পাঠানো বা পুশ ইন এবং সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠকে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার ইসলাম বিদ্বেষের কারণে মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে পুশ ইন করছে। শেখ হাসিনা তো ভারত আছে, তাহলে তাকে কেন পুশইন করা হচ্ছে না? ভারত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুশইন করে না কেন? দেখি আপনাদের কত সাহস?
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে নাগরিক ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন।
ভারতের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, আপনারা কি মনে করেছেন যে, আপনাদের পারমাণবিক বোমা আছে বলে, আপনারা যা ইচ্ছা তাই করবেন? আমরা পারমাণবিক বোমা ভয় পাই না। আমরা বন্দুকের মুখে স্বাধীনতা দেখি, আপনারা মৃত্যু দেখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া, জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন, ডিভাইন কোডেকের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল্লাহ মানসুর আবির, জাতীয়তাবাদী চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন।
এ সময় ভারতের জনসংখ্যার সঙ্গে বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে একত্রিত করার বিষয়ে ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বক্তারা।
তারা বলেন, ভারতের হাইকমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন তার ব্যাখ্যা তিনি দেননি। আমরা মনে করি তাকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। আমরা একটি যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, কোনো আধিপত্যবাদী বন্ধু আমরা চাই না।
ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান বলেন, ভারত নিজেকে গণতান্ত্রিক দেশ দাবি করলেও তারা মূলত সন্ত্রাসী ও আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তের সমস্যা সমাধান করতে হবে, নইলে জনগণ কিন্তু অস্ত্র হাতে নিয়েছে, রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে, সেটি ভালো হবে না। দেশের জনগণ স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে, ভারতকে তাড়িয়ে দিতেও পিছপা হবে না।
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারত আমাদের পাশে ছিল, এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, কেন তারা আমাদের পাশে ছিল? স্বাধীনতার পরে আমাদের শোষণ-নির্যাতন করার জন্য তারা আমাদের পাশে ছিল। তারা আমাদের দেশে একটি তাবেদারি সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিল।
জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন বলেন, পুশইন ঠেকাতে হলে দলমত নির্বিশেষ আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের মত সবাইকে এক কাতারে আসতে হবে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।
বক্তারা বলেন, পৃথিবী যখন জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিখরে আরোহণ করছে, তখন ভারত গোমূত্র নিয়ে গবেষণা করছে। তারা পশ্চাৎপদ চিন্তার অধিকারী। আমাদের দুর্বল মনে করলে ভুল হবে, আমরা প্রস্তুত আছি। যে কোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভোৗমত্ব রক্ষা করবো।
একজন বক্তা বলেন, ভারত কোনো দিন বাংলাদেশের ভালো চায়নি, যখন আমাদের পানি প্রয়োজন তখন পানি দেয় না, যখন প্রয়োজন নেই, তখন পানি দিয়ে ফসল তলিয়ে দেয়। বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভারত হাসিনাকে নিয়োজিত করেছিল, বাংলাদেশের মানুষ তা বুঝতে পেরে, তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ভারত স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশকে অঙ্গরাজ্য বানাবে, সেই স্বপ্ন কোনো দিন সফল হবে না।
পুশইন ঠেকাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। বিজিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ভারত মুসলমানদের সঙ্গে শত্রুতার অংশ হিসেবে পুশইন করছে। হিন্দুত্ববাদীদের হাতে সীমান্তে মুসলমানদের রক্ত ঝরছে, মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, নরেন্দ্র মোদিকে বলতে চাই বাপের বেটা হয়ে থাকলে বুকের পাটা থাকলে হাসিনা ও তার নেতাকর্মীদের পুশইন করুন। শুভেন্দু অধিকারীর মা নাকি বাংলাদেশি, তাকে পুশইন করুন; তাহলে বুঝবো আপনার বুকের বাটা আছে। তিনি বলেন, সীমান্তে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কারণে বিগত সময়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

