ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন কর্মকর্তারা। আগামী বৃহস্পতিবার এটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের কার্যতালিকায় উঠবে এবং তা অনুমোদন হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রোববার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ জানান, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া আজ রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণের আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়/বিভাগের মতামত সংগ্রহ, ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ, শিক্ষক-শিক্ষাথী-সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান, বিশেষজ্ঞদের অভিমত গ্রহণের মত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে।
অধ্যাদেশ এর খসড়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সবার যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং উদ্বেগসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী কাঠোমা নির্ধারণ করাই ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মূল লক্ষ্য। সবার ধৈর্যশীল সহযোগিতা এবং গঠনমূলক ভূমিকার কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় জটিল এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সময়ে সময়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ধারাবাহিক অগ্রগতির তথ্য সর্বসাধারণকে অবহিত করেছে।
মন্ত্রণালয় থেকে আরো বলা হয়, টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মৌলিক ও উপরিকাঠামোগত সংস্কারের কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে ধাপে ধাপে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হয়। যে কোন পর্যায়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা পুরো উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এমতাবস্থায়, অধ্যাদেশটি যেহেতু এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, সেহেতু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহবান করেছে মন্ত্রণালয়টি। যেকোনো আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের এই অর্জন ও শ্রমকে নসাৎ করে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, দীর্ঘদিনের ধৈর্য্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত রেখে তারা অতি দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিশ্চিত করতে পারবে, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সূত্রমতে, শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত বছর ঢাকার সরকারি সাত কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় সরকার। তারই অংশ হিসেবে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করে মতামত চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির কাঠামো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি আন্দোলনও করেন ছাত্র-শিক্ষকদের বিভিন্ন পক্ষ। উদ্ভুত পরিস্থিতি বিভিন্ অংশীজনের সঙ্গে দফায় দফায় মতবিনিময় ও পরামর্শ নিয়ে অধ্যাদেশটি পরিমার্জন করে গত ১৩ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
এটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলেও ওইদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। তবে এই অধ্যাদেশ দ্রুত ঘোষণার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে রাস্তা অবরোধসহ বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অধ্যাদেশের চূড়ান্ত রোডম্যাপের স্পষ্ট ডেডলাইন নিয়ে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রুপান্তর টিম, ক্রীড়াশীল ছাএসংগঠন গুলোর প্রতিনিধি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব ড. এ.কে.এম. তাজকির-উজ-জামানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের অধ্যাদেশটি অনুমোদনের আশ্বাস দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা সে পর্যন্ত অপেক্ষার থাকার কথা জানিয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষায় ইতোমধ্যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস শুরু করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার এই নতুন কাঠামোটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেশাদারিত্ব এবং ধৈর্যশীল হতে সহযোগিতা চায় মন্ত্রণালয়। সেইসঙ্গে কোনো ধরনের অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানায়।
প্রক্রিয়াধীন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে থাকা সরকারি কলেজগুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ।
পরিমার্জিত খসড়া অনুযায়ী, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও কলেজগুলো তাদের বর্তমান স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ হিসেবে কার্যক্রম চালাবে। এটি অনেকটাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত কলেজগুলোর ব্যবস্থার মতো হবে বলে জানা গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

