ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পোশাকবিধি নেই। এতে চিকিৎসক, নার্স ও দালালদের আলাদা করে চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কয়েকটি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি দেখে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিয়মিত অভিযোগ, তারা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না এবং চিকিৎসকদের অনেকেই কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন। এ কারণে তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা মেডিকেলে আসা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য হাসপাতালও পরিদর্শন করা হবে।
জরুরি বিভাগের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিদর্শনের সময় কয়েকটি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের পাওয়া যায়নি। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের পোশাকেও চিকিৎসক পরিচয়ের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন ছিল না। ফলে কে চিকিৎসক, কে নার্স আর কে দালাল, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, দুপুর সোয়া ১২টার সময়ও কোনো চিকিৎসক বাইরে, আবার কেউ চা খেতে গেছেন বলে জানাচ্ছিলেন। অথচ রোগীরা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটছিলেন। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, চিকিৎসাকক্ষের অপরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন অনিয়ম নজরে এসেছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিচালককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুদকও এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
সরকারি হাসপাতালে দালালদের তৎপরতা এবং চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে দালালদের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসা বন্ধ করা দুদকের কাজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এ সময় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। এরই মধ্যে হাসপাতালের কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান পরিদর্শনে যেসব সমস্যা তুলে ধরেছেন, সেগুলো সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


