সংসদে সাউন্ড সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে: চিফ হুইপ

সংসদ রিপোর্টার

সংসদে সাউন্ড সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে: চিফ হুইপ

সংসদের সাউন্ড সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অধিবেশন চলার কারণে এখন কিছু করতে পারছি না। আমরা সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে খুবই বিব্রত, সংসদ কক্ষেও কাজ করে না। ওই সময় একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ছিল। তারা শুনলে অবাক হবেন যে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজের চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কাজটা বুঝে নেবে এমন কোন লোক নিয়োগ করা হয়নি। ৩৮ গ্রামের মাইক্রোফোন দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু ২৫৮ গ্রামের মাইক্রোফোন দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার জাতীয় সংসদে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, মাত্র ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার ব্যবধানে যে কোম্পানি মালামাল সরবরাহ করেছে তারা কাজটি পায়নি। এটা অনেক স্পর্শকাতর ও বিশেষায়িত কাজ। সেখানে আরেকটা কোম্পানি কাজ পেয়েছে। দুই কোম্পানিই টেন্ডারে অংশ নিয়েছিল। শুনলে অবাক হবেন উনি কাজ পেয়ে, যে লোক টেন্ডারে দ্বিতীয় হয়ে কাজ পায়নি তাকে দিয়ে কাজ করিয়েছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। চরম অনিয়ম হয়েছে। এখন ব্যবস্থা নিয়ে সাউন্ড সিস্টেম বাতিল করলে সাউন্ড চলবে না, তাই সাউন্ডটা (অধিবেশন ) শেষ হোক, এরপর অনেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনে রাজপথের ত্যাগীরা 'অগ্রাধিকার' পাবে বলে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, নারীরা আসুক। যত দ্রুত আসে তত লাভ। আমরা ফ্যামিলি কার্ড করেছি নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য। যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাদের সংসদে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী যেকোনো নারীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে পারেন- এমন ক্রাইটেরিয়া সংবিধানে আছে।

তিনি বলেন, যারা রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারবে- এমন বিবেচনায় আমাদের সংসদ নেতা নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করবেন। সব মিলিয়েই একটা সিদ্ধান্ত হবে এরকমের যে, যাতে আমরা সকল সেকশনকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি এবং রাজপথে ত্যাগী নেতা এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারেন, এমন মানুষকেই আমরা খুঁজে বের করব।

সংসদে সন্ত্রাস বিরোধী আইন পাস প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল মানুষের বিচার হবে। যিনি দোষ করেছেন তার বিচার হবে, যিনি নির্দোষ তার বিচার হবে না। আর শেখ হাসিনা বা অতীত সরকার যা করে গেছেন, যেভাবে বিচার হতে পারে-আইন অনুযায়ী বিচার হবে। একটা জিনিস পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না।

তিনি আরও বলেন, তিনটা অর্ডিনেন্স একটা বিলের মধ্যে আসছে, এই বিল আমরা পাশ করেছি। চারটা অর্ডিনেন্স একটা বিলের মধ্যে আছে- একটা বিল পাস করা মানে চারটা অর্ডিনেন্স পাশ হয়েছে। একটা বিল একটা বিল পাশ করা মানে তিনটা অর্ডিনেন্স পাশ হয়েছে। সেই হিসাবে আমরা ৪৪টি অর্ডিনেন্স ইতিমধ্যে পাস করে ফেলেছি। বাকি যা আছে দুই এক দিনের ফয়সালা করতে পারব।

চিফ হুইপ বলেন, শুক্রবারে আমরা সেশন করব। শুক্রবারে আমরা ফার্স্ট সেশন, সেকেন্ড সেশন- দুইটা সেশনই করব।

চিফ হুইপ বলেন, আমাদের কাজ করতে হবে। এই দেশের মানুষ ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে। সুতরাং মানুষের জন্য পরিশ্রম করবেন সংসদ সদস্যরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...