ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতনের ঘটনায় ১৮৫৫ মামলা: সংসদে আইনমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার

ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতনের ঘটনায় ১৮৫৫ মামলা: সংসদে আইনমন্ত্রী

বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় এক হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, এর মধ্যে হত্যা মামলার সংখ্যা ৭৯৯টি এবং অন্যান্য ধারার অধীনে এক হাজার ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম- ১ আসনের (জামায়াত) সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন জেলার থানাগুলোতে দায়েরকৃত এক হাজার ৮৫৫ টি মামলার মধ্যে ১৫৮টি মামলার তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, যার মধ্যে হত্যা মামলা ৪৮ টি এবং অন্যান্য মামলা ১১০টি। বাকি এক হাজার ৬৯৭টি মামলার তদন্ত চলমান আছে। এই বিপুল সংখ্যক মামলার তদন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বিচারের সময় কোনো আইনী দুর্বলতা না থাকে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ারাধীন। তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনপূর্বক সক্রিয়ভাবে আসামীদের জামিনের বিরোধিতা করছেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত নৃশংস অপরাধের শিকার ব্যক্তিগণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে, গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পঙ্গু করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে সে সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগারের প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান। তবে মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দায়েরকৃত হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ওই মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপন করা সম্ভব নয়। এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

তবে মন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যের উল্লেখ করে বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২৩ হাজার ৮৬৫ রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। জেলা কমিটি থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সরকার গত ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।

মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের জন্য অনুমোদিত সাব-রেজিস্ট্রার পদের সংখ্যা ৪৯৭টি। শূন্য পদ ১১৫টি। যার মধ্যে ৫ শতাংশ কোটায় পদোন্নতিযোগ্য ১৪টি পদ শূন্য। বাকী ১০১টি পিএসসির মাধ্যমে পূরণ যোগ্য। এর মধ্যে ৮০ পদ পূরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৪৫তম বিসিএস হতে যার সাব-রেজিস্ট্রার ৬জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।

এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন ২০২১-২২ অর্থবছরে এক লাখ ৩৫ হাজার বালাম বহির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এক লাখ বালাম বহি সরবরাহ করা হয় এবং ৩৫ হাজার বালাম বহি বকেয়া ছিল। ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বালাম বহির জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর বরাবর কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি কিংবা বালাম বহি সংগ্রহ করা হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৫০ হাজার বালাম বহির কার্যাদেশ প্রদাণ করা হলেও ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৩ হাজার ২৩৫ বালাম বহিয়া বকেয়া ছিল।

আসাদুজ্জামান বলেন, বিগত অর্থবছরে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর কর্তৃক চাহিদা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী বালাম বহি সরবরাহ না করায় বালাম বহির সংকট তৈরি করা হয়। বর্তমানে বালাম বহির সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। দেশে এখন ৬৬ হাজার ৫৪৮টি বালাম রক্ষিত আছে। এ ছাড়া আরও ১০ হাজার বালাম বহি মুদ্রণ করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন