স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক

টিকা কর্মসূচির কারণে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কমছে

স্টাফ রিপোর্টার

টিকা কর্মসূচির কারণে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কমছে

হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির কারণে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ফোয়ারা তাসনীম। তিনি বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দেশব্যাপী হাম নিয়ে যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা তৈরি হয়েছে তা কেটে যাবে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিসেফের সহযোগিতায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান, ইউনিসেফের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. রিয়াজ মাহমুদ, গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. মারুফ নাওয়াজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক ফোয়ারা তাসনীম বলেন, বর্তমান সরকার হামের টিকাদানের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং এ লক্ষে সবাই কাজ করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে হাম নিমূর্লের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হঠাৎ করেই এটির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, কিছু শিশুর অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে কেন ঘটেছে সেটা নিয়ে আমরা আর আলোচনা করতে চাই না। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আশা করছি সবাই একসাথে কাজ করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, হাম খুবই ছোঁয়াছে রোগ। তবে হামের টিকা নেওয়া থাকলে শিশুর আক্রান্ত হওয়ার আশংকা অনেকটাই কম থাকবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়েসী (৫ বছরের কম) শিশুদের হামের টিকা নেওয়া থাকলেও তারা বিশেষ ক্যাম্পেইনে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে পারবে। হামের টিকা অত্যন্ত নিরাপদ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, টিকা দেওয়া থাকলে শিুশু অনেক বেশি ঝুঁকিমুক্ত থাকবে। হামে আক্রান্তদের মধ্যে টিকা না নেওয়া শিশুর সংখ্যাই বেশি। এ জন্য শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত।

কর্মশালায় জানানো হয়, হামে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যাই হচ্ছে ৮৩ শতাংশ। ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। এ কারণে ৬ থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে হামে আক্রান্ত কিংবা অসুস্থ কোনো শিশুকে টিকা দেওয়া যাবে না। সুস্থ্য হওয়ার পর কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে তাদের এ টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ক্যাম্পেইন শেষ হয়ে গেলে এবং শিশুর বয়স যদি ২ বছরের কম হয় তাহলে নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, হাম, রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় সারাদেশে বিনামূল্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় এবং ১৩টি পৌরসভায় চলছে এ কর্মসূচি। ১২ এপ্রিল থেকে ৪টি সিটি করপোরেশনে এ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং চার সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচি চলমান থাকবে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে অবশিষ্ট সকল জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে এই কর্মসূচি শুরু হবে এবং চার সপ্তাহব্যাপী চলবে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও গ্যাভির সহযোগিতায় পালন করা হচ্ছে বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচি।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...