ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, শুধু সমালোচনা না জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কম্প্রোমাইজ ছাড়া গণতন্ত্র সম্ভব নয়। তা না হলে একদলীয় শাসনের ঝুঁকি তৈরি হয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কঠোর সমালোচনা না করে বরং তাদের সময় দেওয়া উচিত।
আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি ছিল এবং এই সময়ে অনেকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং উগ্রবাদ প্রতিরোধের প্রশ্নে ঐক্য ধরে রাখা জরুরি। সরকারকে সময় দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করতে হবে।
ঐতিহাসিক ২ মার্চের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আ স ম আবদুর রব-এর সাহসী ভূমিকা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ইতিহাস সাময়িকভাবে বিকৃত করা গেলেও তা পরিবর্তন বা মুছে ফেলা যায় না। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বিভক্তির পথে না গিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিতে হবে।
জেএসডি'র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ঘটনাপঞ্জি নয়; এটি একটি জাতির নৈতিক জাগরণ। রাজনৈতিক আত্মনির্ধারণ এবং ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধের দলিল। স্বাধীনতার ঘোষণার মুহূর্তে যে পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল তা কেবল ভূখণ্ডের স্বাধীনতার প্রতীক ছিল না—তা ছিল শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক এবং অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রব বলেন, অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র মানে কেবল ভোটাধিকার নয়; এর অর্থ নীতি নির্ধারণে নাগরিকের সক্রিয় ভূমিকা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
জুলাই জাতীয় সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচি সেই ঐতিহাসিক রূপান্তরের দিকেই অগ্রসর হওয়ার একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রূপরেখা। এই সনদ কেবল একটি দলীয় প্রস্তাব নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষিত আদর্শ—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—বাস্তবায়নের একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, গণফোরামের সভাপতি অ্যাড সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জেএসডির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন,মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান,অ্যাড.বেলায়েত হোসেন বেলাল, নারী জোট নেত্রী ফারজানা দিবা, জাতীয় যুব পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, শফিক, ছাত্রলীগের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন বিজয় প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

