‘মা, রাজপথে যদি আমি মারা যাই, যতদিন না পর্যন্ত আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তুমি রাজপথ থেকে আমার লাশ উঠাবা না’—বলে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর উত্তরায় শাহাদাত বরণ করা শহীদ শেখ ফাহমিন জাফর।
রোববার রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্স ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সিম্পোজিয়াম অন একাউন্ট্যাবিলিটি, জাস্টিস অ্যান্ড হিলিং ইন পোস্ট জুলাই বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একথা বলেন শহীদ ফাহমিনের মা কাজী লুলুল মাখমিন।
কাজী মাখমিন বলেন, জুলাই বিপ্লবের ঠিক এক বছর আগে আমি ঢাকায় আসি সন্তানের পড়াশোনার জন্য। সরকারি টঙ্গী কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল ফাহমিন। আমার ছেলে একটা কবিতা পকেটে নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছে। আমি জানি, আমার সন্তান দেশকে অনেক ভালোবাসত, অনেক কথা বলত দেশ নিয়ে, এই রাষ্ট্র নিয়ে। ও যখন বলত, সেগুলো আমি অবাক হয়ে শুনতাম। আমার ছেলে বের হওয়ার সময় বলেছিল, ‘মা, রাজপথে যদি আমি মারা যাই, যতদিন না পর্যন্ত আমাদের দাবি না মেনে নেয়, তুমি রাজপথ থেকে আমার লাশ উঠাবা না’। আমি হতবাক হয়ে শুনেছিলাম ছেলের কথা। পরবর্তীতে সেদিনই দেড়টা নাগাদ জানতে পারি, আমার সন্তান গুলিবিদ্ধ হয়ে অসুস্থ। ছুটে যাই হাসপাতলে এবং সেখানে গিয়ে তার পকেট থেকে একটি চিরকুট পাই। যা বাসায় গিয়ে পড়ার পর বুঝতে পারি, আমার সন্তান কী পরিমাণে এই দেশকে ভালোবেসে জীবনটা উৎসর্গ করেছে। তার কবিতার শেষ দুই লাইন ছিল, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, স্বাধীন দেশে রক্ত দিয়ে আবারও স্বাধীনতা আনব’।
বিচারকার্যে আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার জন্য আমরা চাই ন্যায়বিচার, কিন্তু এই বিচার খুবই স্লো। মাত্র সাত মামলায় দুই বছরে বিচার হয়েছে। শহীদমাতা হিসেবে, শহীদ পরিবার হিসেবে আমরা এটা মেনে নিতে পারি না। আমরা চাই দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে এই বিচার সফল করা হোক এবং রাষ্ট্রের সামনে আমরা শুধু এক জায়গায়, একটা কাঠগড়ায়, একটা রুমের মধ্যে আমরা শুনতে চাই না। প্রত্যেকটা বিচার আমরা দেখতে চাই সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে। আমরা সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল বিচার চাই এবং তাড়াতাড়ি চাই। আমরা এত দেরি করতে চাই না, কারণ আল্লাহ তো যেকোনো মুহূর্তে আমাকেও নিয়ে যেতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, আমি আজকে চারটা রাত ঘুমাইনি, কারণ গত ১০ তারিখে আমার সন্তানের জন্মদিন ছিল। তার কয়েকদিন আগের থেকে আমার ঘুম নেই। আমার সন্তান চব্বিশের ১১ জুলাই আমার সঙ্গে খুব রাগ করেছে, সারাদিন কথা বলেনি। কারণ সে আন্দোলনে যাবে আর আমি যেতে দিইনি। সেই সন্তানের কষ্টটা আমাকে নাড়া দেয়, অন্য কাউকে নাড়া দেয় না। আজকে ফেসবুকে দেখলাম, এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়ানোর জন্য ২০ জন বিএনপি সদস্য সিগনেচার করে তাকে বের করেছে। আমরা চাই না এসব। খুনের সঙ্গে জড়িতদের পক্ষে আমরা কাউকে দেখতে চাই না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

