আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হারিছ চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সিলেটে দাফন

খালেদ আহমদ, সিলেট

হারিছ চৌধুরীকে  রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়  সিলেটে দাফন

মৃত্যুর ৩ বছর ৩ মাস পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা,সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী অবশেষে নিজ জন্মভূমিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন।

মরহুমের শেষ ইচ্ছেনুযায়ী রোববার বিকেল ৫টায় মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে কানাইঘাটে দর্পনগর গ্রামে তার গড়া শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানা প্রাঙ্গণে কবরের পাশে নির্ধারিত স্থানে তার মরদেহ (দেহাবশেষ) পুনরায় দাফন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রোববার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে হারিছ চৌধুরীর লাশ আনা হয় সিলেটে। পরে বাদ জোহর সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হজরত শাহজালাল রহ. দরগাহ মসজিদের খতিব ও ইমাম তার চাচাতো ভাই হাফিজ মাওলানা হুজায়ফা হোসাইন। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন শাহী ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল মুমিন। পরে মরদেহ কানাইঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

দোয়া মাহফিল পূর্বে সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন- বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ও হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। সামিরা তারঁ বক্তব্যে পিতার শেষ ইচ্ছা পুরণ করতে পেরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং প্রশাসনসহ যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা জানান।

শাহী ঈদগাহ ময়দানে কফিনে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী , শাবির রেজিস্ট্রার সলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, কবি সালেহ আহমদ খসরু সহ বিএনপির নেতা কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ শরীক হন।

Haris2

পরে, কানাইঘাটে দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন সড়কের বাজার আহমদিয়া আলিম মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাও. আব্দুল মন্নান, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মামুন রশিদ চাকসু, বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়ছল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন, ওয়েছ আহমদ, ঝিঙ্গাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর, দিঘীরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, উপজেলা বিএনপি র সাংগঠনিক সম্পাদক খসরুজ্জামান পারভেজ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ফয়ছল আহমদ, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, হারিছ চৌধুরীর পরিবারের পক্ষে তার চাচাতো ভাই টিপু চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন, সহকারী কমিশানার ভূমি মো: সাইদুল ইসলাম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নানা শ্রেনিপেশার মানুষ।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পান্থপথে মারা যান হারিছ চৌধুরী। ১/১১ এর পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তখন বিভিন্নভাবে প্রচার হয় তিনি ভারত, ইরান পরবর্তিতে লন্ডনে পালিয়ে রয়েছেন। আসলে তিনি দেশ ছেড়ে যাননি এবং দীর্ঘ ১১ বছর অধ্যাপক 'মাহমুদুর রহমান' নামে ঢাকার পান্থপথের একটি ফ্ল্যাটে থাকছিলেন । ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান।

ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকারের হয়রানির কারনে তার পরিচয় গোপন করে 'অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান' নামে সাভারের বিরুলিয়ায় জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যিন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।

পরবর্তীতে মেয়ে সামিরার এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ তোলার পর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডি নমুনা সংগ্রহ করে এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ টেস্টে লাশটি হারিছ চৌধুরীর নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেটে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রয়াত হারিছ চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ বিএনপির গুরুতপূর্ণ পদে দায়িত্বে পালন করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: