আলোচনা সভায় বক্তারা

সাব-এজেন্টদের জবাবদিহি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গ্রেডিং প্রয়োজন

সাব-এজেন্টদের জবাবদিহি ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গ্রেডিং প্রয়োজন

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিবন্ধনহীন সাব-এজেন্টদের মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অথচ কর্মীদের জন্য এসব সাব-এজেন্টের পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যব্যবস্থা নেই। সাব-এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যার ব্যবস্থাও এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এ পরিস্থিতিতে অনিয়ম ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন প্রতিরোধে সাব-এজেন্টদের নীতিমালার আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘অভিবাসন সংলাপ ০১’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কোয়ালিশন ফর ফেয়ারার লেবার মাইগ্রেশনের (সিএফএলএম) আওতায় যুক্তরাজ্যের এফসিডিওর অর্থায়নে এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের ‘পেরি’ কর্মসূচির সহায়তায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় বক্তারা বলেন, সাব-এজেন্টদের নিবন্ধন ও তদারকব্যবস্থা দুর্বল। ফলে বিদেশগামী কর্মীরা অর্থ দেওয়ার আগে রিক্রুটিং এজেন্সি বা তাদের প্রতিনিধিদের পরিচয় যাচাই করার নির্ভরযোগ্য উপায় পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের তালিকা সংগ্রহ করে তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে কর্মীরা অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির পরিচয় যাচাই করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, ‘নিজ নির্বাচনী এলাকার কেউ চাইলে নির্দ্বিধায় কোনো একটি এজেন্সির নাম বলতে পারি না। কারণ, ওই রকম নির্ভরযোগ্য কেউ নেই। দেখা যাবে, আমি একটি নাম বলেছি, কিন্তু পরে আমার কথার ওপর ভিত্তি করে টাকা-পয়সা দিয়ে কেউ প্রতারিত হয়েছেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব রিক্রুটিং এজেন্সির কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। তা না হলে প্রতারণার আশঙ্কা বাড়বে। এ ছাড়া নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাব-এজেন্টদের তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যার ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ভবিষ্যতে এজেন্সিগুলোকে তাদের প্রতিনিধিদের তালিকা জমা দিতে হবে। সেই তালিকা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে কর্মীরা অর্থ দেওয়ার আগে প্রতিনিধিদের পরিচয় যাচাই করতে পারেন।

উইটনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, একজন অভিবাসী কর্মীর নিয়োগ ব্যয় তুলতে গড়ে প্রায় ১৫ মাস সময় লাগে। সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৪১৪টি অভিযোগের মধ্যে ৭৮৫টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা ৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, অনেক কর্মী অর্থ লেনদেনের রসিদ বা অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করেন না। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সংলাপে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বিদেশে কর্মী পাঠানোর ৭৩ শতাংশই ছিল সৌদি আরবকেন্দ্রিক। বক্তাদের মতে, এ চিত্র একক শ্রমবাজারের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ নির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম বলেন, ২০২০ সালের শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি। বিদেশে নিজস্ব প্রতিনিধি না রেখে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো কেন ভিসা-মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই সঙ্গে কিছু কর্মী বিদেশে যাওয়ার তিন মাসের মধ্যে কেন দেশে ফিরে আসেন কিংবা প্রতিশ্রুত কাজ পান না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের অ্যাডভোকেট ফরিদা ইয়াসমিন, ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সৈয়দ সাইফুল হক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সচিব ফখরুল ইসলাম, মাইগ্রেশন রিপোর্টার্স নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি সাদ্দিফ অভি এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আহমেদ আজিজ প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন