স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরিসহ বিভিন্ন স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনে স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে আনা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত পুনর্বাসনসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এ গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের উদ্যোগে এবং জেনারাস কো. লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন কর্মশালা ২০২৬’-এ সহায়তা দেয় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার অভিজ্ঞতা বিনিময়, সেবার মানোন্নয়নের সুযোগ চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ শাকুর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. তসলিম উদ্দিন, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক ড. ভ্যালেরি এ টেলর এবং জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়োকো। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ কে আজাদ। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাদিম কামাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী।
কর্মশালায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিআরপি, কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল, আইচি হেলথকেয়ার গ্রুপ এবং জেনারাস কো. লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী অধিবেশন, গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন কর্মশালাভিত্তিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে নিউরো রিহ্যাবিলিটেশনের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্ট্রোক বা গুরুতর স্নায়বিক আঘাতের পর অনেক রোগীর চলাফেরা, দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন রোগীর অবশিষ্ট কার্যক্ষমতা কাজে লাগানো, স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সমন্বিত অংশগ্রহণ এ সেবার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ কর্মশালা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পুনর্বাসনসেবায় সমন্বিত উদ্যোগকে আরও কার্যকর করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আধুনিক ও রোগীকেন্দ্রিক পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের পথ সুগম হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


