কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
এদিকে, আগুনের শিখা বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় চার হাজার পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিট থেকে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ আজ বুধবার রাত পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির নিচ থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তাতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করলেও ভূগর্ভ থেকে অনবরত গ্যাস বের হতে থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বুধবার বিকেলে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেন। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। সেখান থেকে ভূগর্ভের ফাটল বা ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির মাধ্যমে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। তবে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ ছাড়া গ্যাসের প্রকৃতি, উপাদান ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও জানান, এখন গ্যাসের নির্গমন বা চাপ জোর করে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে এসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আপাতত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী কাইজার নুর জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই মঙ্গলবার ভোর থেকে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। তবে বিকল্প সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চালু করার কাজ চলছে এবং আজ রাতেই তা স্বাভাবিক হতে পারে।
সার্বিক বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘ইনানীর গ্যাসের আগুনের বিষয়টিকে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নজরদারিতে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

