আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় থাকবে ২ লাখ আনসার-ভিডিপি

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় থাকবে ২ লাখ আনসার-ভিডিপি
ছবি: আমার দেশ

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পূজামণ্ডপে আটজন এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং পেট্রোল।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

মহাপরিচালক বলেন, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯১৪টি পূজামণ্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপে মোতায়েন করা সদস্যদের পাশাপাশি ১০৪টি স্ট্রাইকিং পেট্রোল দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখবে, যাতে সুযোগসন্ধানীরা ছোট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং পেট্রোল সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় গত বছরের মতো এবারও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হবে বলে জানান আনসার মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অ্যাপটিতে ৬৬ হাজার সদস্য নিবন্ধিত থাকবেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে এবং পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সফল প্রয়োগ করা হয়েছিল। এবারও অ্যাপটিকে সমন্বয়ের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো হবে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কার্যক্রম তদারকির জন্য বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের ভাতা তুলনামূলক কম উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য একজন সদস্য দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাতা পান। তবে সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য ইতিপূর্বে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের গভীর রাত পর্যন্ত মণ্ডপে অবস্থান করতে হয়; তাই তাদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

মহাপরিচালক বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সদস্যদের মধ্যে সেবাধর্মী মানসিকতা গড়ে তোলা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তারা যেন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সে বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে আনসার মহাপরিচালক বলেন, ‘সদস্য সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তাদের যথাযথভাবে দায়িত্বে উপস্থিত রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো পরিস্থিতিতে গণজমায়েত বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সদস্যদের ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। কোনো কারণে তাদের ওপর আক্রমণ হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গুজব প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বিক সমন্বয় রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ব্রিফিং ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন