বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। এটি সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার দুপুর ১২টায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছিল। এ সময় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪৭৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার এবং পায়রা বন্দর থেকে ১ হাজার ৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে তা ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় আপাতত বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস নেই।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বুধবার তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে; দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


