যশোর শহরের গরিব শাহ (র.)-এর মাজারের সামনে বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। রোববার দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুকে প্রচার করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের কয়েক নেতা।
ঘটনা জানার পর সোমবার বেলা ১২টার দিকে যশোর জেলা পুলিশের একটি দল স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এর আগে রোববার খুব সকালে যুবলীগের নামে শহরের মাইকপট্টিতে একটি ঝটিকা মিছিল হয়। এই মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবলীগের ১৭ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
সব মিলিয়ে জেলায় নাশকতার অভিযোগে ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে নিচ থেকে ছয়-সাত ফুট ওপর পর্যন্ত কালো দাগ রয়েছে। আগুন ধরানোর পর কে বা কারা দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে।
স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে স্থাপিত বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে তিন যুবক স্মৃতিস্তম্ভের সামনে যান। তাদের দু’জন পেট্রলজাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের নিচে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন, আর একজন ভিডিও করছেন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন, ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আগুন দেওয়ার দৃশ্য প্রচার করেছেন।
ফেসবুকে স্মৃতিস্তম্ভ সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তার সত্যতা মেলেনি। পুলিশ বলছে, দুর্বৃত্তরা গোপনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে, তবে স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত আছে। স্তম্ভের দক্ষিণ পাশে কালো চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে বোঝা যায় সেখানে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বলেন, রোববার খুব সকালে যশোর শহরে ঝটিকা মিছিল হয়েছে। আর গভীর রাতে কে বা কারা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশ ঘটনাটি অনুসন্ধান করে দুর্বৃত্তদের আটকের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, যশোরের নয়টি থানার পুলিশ ও ডিবি পুলিশ নাশকতার অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলা এলাকার ১৭ জন রয়েছেন, যাদের সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া চৌগাছা থানা পুলিশ দুজন, মণিরামপুর তিনজন, শার্শা দুজন, অভয়নগর চারজন, কেশবপুর তিনজন, বাঘারপাড়া চারজন, বেনাপোল পোর্ট থানা চারজন এবং ঝিকরগাছা থানা পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্ররোচনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির কিছু নেতাকর্মী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে জেলার আট উপজেলা থেকে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-6ca8a5-720x405.webp)