হার্টের রিংয়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, দাম কমতে পারে ২০ হাজার টাকা

স্টাফ রিপোর্টার

হার্টের রিংয়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার, দাম কমতে পারে ২০ হাজার টাকা

বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা এসেছে। হার্টের রিং (স্টেন্ট), চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস চিকিৎসার খরচ কমাতে বেশ কয়েকটি কর ও ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এতে প্রতিটি রিংয়ে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে। আবার কিডনির সমস্যাজনিত রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ফিল্টারের দাম কমবে। এতে ডায়ালাইসিস বাবদ প্রত্যেক রোগীর খরচ ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট পেশ করার সময় এই প্রস্তাবনা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় পকেট খরচ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। জনসাধারণের চিকিৎসা খরচ কমানোর লক্ষ্যে আমদানিকৃত হার্টের রিং বা স্টেন্ট এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স-এর সরবরাহের ক্ষেত্রে যোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করছি। ফলে প্রতিটি হার্টের রিং বা স্টেন্ট-এর মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হ্রাস পাবে। আর চোখের প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হ্রাস পাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হেমোডায়ালাইসিসের ব্লাড টিউবিং সেট আমদানিতে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।ফলে কিডনি ডায়ালাইসিস-এর খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে।

অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যনীতির মূল উদ্দেশ্য সর্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ; চিকিৎসা-কেন্দ্রিক থেকে প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রূপান্তর, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া; মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও টিকাদান জোরদারকরণ; স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিল্পের বিকাশ ঘটানো। আমরা স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেমের আওতায় আধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, জটিল রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা সহজলভ্য ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে সমন্বিতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মা, নবজাতক, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা থাকবে; সার্জারিসহ জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীভূত করা হবে। করোনারি কেয়ার, কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট ইত্যাদি ব্যবস্থা থাকবে।

রোগী পরিবহনের দুর্দশা লাঘবে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক’ গঠন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের খর্বাকৃতি মোকাবিলায় সরকার বহুমুখী ও বহু খাতভিত্তিক একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচীি বাস্তবায়ন করবে। এপিআই শিল্প পার্কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ওষুধ শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশ, উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে প্রযোজনীয় আর্থিক প্রণোদনা ও সহায়ক নীতিগত সুবিধা দেওয়া হবে। দেশব্যাপী একটি টেকসই, আধুনিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ ও টিকা পৌঁছানো সম্ভব হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...