সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ' ব্যর্থ হলে জনআকাঙ্খা ভেস্তে যাবে। এছাড়া জনগণ সচেতন হলে নির্বাচন বানচালে কোনো বাধা ও ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, সেটা তাদের বুঝতে হবে। তবে নাগরিক হিসেবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট দিতে পারবে। হাসিনার আমলে প্রহসন হয়েছে। তার আমলে নির্বাচন হয়নি বলেই বিপ্লব হয়েছে।
রোববার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির অায়োজনে নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আবাদুল মতিন বলেন, অসংখ্য মানুষের রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটিয়েও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। এখনও রক্তের দাগ শুকায়নি। আওয়ামী লীগে তাদের অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলে, অনুতপ্ত হলে ক্ষমা পেতে পারে।
এ সময় তিনি মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রাপ্ত পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্র নিয়ে বলেন, তিনি এতো শক্তিশালী হলে কেন পালিয়ে গেলেন। জনগণ তাকে চায়নি বলেই পালাতে হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ বলেছিল এদেশে কোনো সরকার বসতে পারবে না, কাজ করতে পারবে না। তারা শপথ নিয়েছিল এদেশের মানুষকে শান্তিতে রাখবে না। তাদের এ আশা দুরাশায় পরিণত হয়েছে। তাদের কোনো চাপেই কাজ হয়নি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে সাধারণ মানুষ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারা দলটি নির্বাচন ভন্ডুল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। ১৪শ মানুষকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার করছে। সম্প্রতি এক অডিও ভাষণে তাকে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলে মিথ্যা বয়ান দেন। যা মেটেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেজন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের এমন কোনো কার্যক্রম করা উচিত হবে না যাতে পতিত শক্তি নির্বাচন ভন্ডুল করার অপচেষ্টা করতে পারে।
‘আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই প্রধান’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশর বিতার্কিকগণ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সিনিয়ার সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক মশিউর রহমান খান, সাংবাদিক আফরিন জাহান ও সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

