সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না করা এবং প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে। সংবিধানে যা আছে আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’
সোমবার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এক মণ্ডপ পরিদর্শন ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে—ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেছি এবং করব। এছাড়া ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, উপাসনালয় ও ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করি।’
ধর্ম ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসিনার সময় বলা হতো ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। কিন্তু আমরা বলি—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে, যা সেই ধর্মের মানুষের অন্তরের বিষয়। তাই অন্য ধর্মের মানুষ যাতে একে অপরের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা পোষণ করে, সেটাই আমাদের কাম্য।”
পূজার সরকারি ছুটি প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এবার সর্বোচ্চ ছুটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। আগামীতেও যাতে এই ছুটির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সেই দাবি সময়মতো পূরণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি পূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান ও বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বী নয়, দেশের সব ধর্মাবলম্বীর নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


