অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া করা একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।
এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে। সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি ৩৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছিল দেশটি।
শনিবার ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে নোয়াখালীর ১৪ জন, ঢাকার ৭ জন, কুমিল্লার ২ জন ও মুন্সিগঞ্জের ৩ জন রয়েছেন। অন্যরা ফেনী, মৌলভীবাজার, সিলেট ও মাদারীপুরের বাসিন্দা। সকালে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহায়তায় ফেরত আসা এসব কর্মীদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি যেতে পরিবহন সুবিধা দেয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা এসব বাংলাদেশির অধিকাংশই প্রথমে বৈধ পথে ব্রাজিলে যান। পরবর্তীতে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
এভাবে দেশটিতে পৌঁছাতে তাদের জনপ্রতি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে। তবে কারও ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্তও খরচ হয়েছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। একপর্যায়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসাদের মধ্যে নোয়াখালীর সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে ব্রাজিলে পাড়ি জমান তিনি। পরবর্তীতে সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ পাড়ি দিয়ে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন।
প্রায় একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন দিয়াদ চৌধুরী। তিনি জানান, ২২ লাখ টাকা খরচ করে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৪ সালের শেষদিকে সাইফুল ইসলামের মতো তিনিও প্রথমে ব্রাজিলে যান। এরপর সেখান থেকে ম্যাক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ এক বছর জেলে থেকে শনিবার দেশে ফিরলেন তিনি।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভিজিট ভিসায় ব্রাজিলে গিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার আব্দুল সবুর। পরবর্তীতে সেখান থেকে একাধিক দেশ হয়ে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান তিনি। এরপর আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে অন্যদের সঙ্গে শনিবার তাকেও দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪১০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন। এরমধ্যে শুধু নোয়াখালীরই ৯৯০ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বড় একটি অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় ফেরত পাঠাচ্ছে দেশটি।
এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩১ জন, ২৮ নভেম্বর চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩৯ জন এবং ৮ জুন চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এছাড়াও চলতি বছরের ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত একাধিক ফ্লাইটে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

