খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন এলাকায় ডাকাত দল ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্টগার্ডের বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে।
নিহতের নাম ডাকাত শওকত সরদার। অভিযানে ৬টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ১টি মোবাইল ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
শনিবার কোস্টগার্ডের সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দল ‘দুলাভাই বাহিনী’র তিন সক্রিয় সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ডাকাত দল ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহিনে অবস্থান করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা থেকে টানা দুই দিনব্যাপী কোস্টগার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং স্টেশন নলিয়ান কর্তৃক ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন দস্যুদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্টগার্ড সদস্যরা থামার সংকেত দেয়। সংকেত অমান্য করে বোটে অবস্থানরত ডাকাত দল কোস্টগার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং অপর একটি বোট ডুবে যায়।
সূত্র জানায়, বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম এবং ডাকাত শওকত সরদারকে আটক করা হয়। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আটককৃত ডাকাত রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত ডাকাত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা থানার এবং ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা। আটককৃত ডাকাত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত ডাকাতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

