মৌসুমি বায়ুর বিদায়ে দেশের আবহাওয়ায় বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন

মৌসুমি বায়ুর বিদায়ে দেশের আবহাওয়ায় বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন
আবহাওয়া অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এর মধ্য দিয়ে প্রায় চার মাস পর বিদায় নিল চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম। মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা শেষ হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

আগামী বুধবার থেকে তিন দিন দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, এমনকি ভারি বৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকায়ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবারের দিকে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, গত শুক্রবার মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে বর্ষা মৌসুমের অবসান হলেও বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হবে না। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ দিকের বায়ুর সংমিশ্রণে আগামী বুধবার থেকে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।

এদিকে রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন শনিবার সীতাকুণ্ডে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং ঢাকায় ৩১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সোমবার সকাল থেকেই আকাশ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল আবহাওয়ায় রোদের প্রখরতা ক্রমেই বাড়ছে।

এর আগে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, দেশের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭২ শতাংশ হয় বর্ষাকালে। তবে অক্টোবর-নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এদিকে মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসে আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি কমে গেছে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ জুন টেকনাফ উপকূল হয়ে চট্টগ্রামে প্রবেশের পর পুরো দেশে সক্রিয় হতে কয়েক দিন সময় নিয়েছিল মৌসুমি বায়ু। দীর্ঘ চার মাস সক্রিয় থেকে শুক্রবার টেকনাফ রুট দিয়েই বিদায় নেয় এটি।

এদিকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ায় আকাশ সাধারণত রোদ্রোজ্জ্বল ও পরিষ্কার হয়ে আসবে। বাতাসে জলীয় বাষ্প কমায় ভ্যাপসা গরম দূর হবে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য বাড়বে। ফলে চলতি অক্টোবর মাসের শেষের দিকেই দেশে ধীরে ধীরে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করবে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপ সৃষ্টির স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার ফলে আবহাওয়া ও পরিবেশে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। মৌসুমি বায়ু চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যায় এবং অধিকাংশ অঞ্চলের আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে আসে। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা অনেকটা কমে যায়, ফলে ভ্যাপসা গরম বা অস্বস্তি কিছুটা কম অনুভূত হয়। মেঘলা ভাব কেটে গিয়ে আকাশ সাধারণত রোদ্রোজ্জ্বল ও পরিষ্কার হতে শুরু করে। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় তারতম্য দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে শীতের আমেজ শুরু হতে থাকে। তবে এ সময় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ বা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতা বাড়ে।

মৌসুমি বায়ু বিদায়ের ফলে এখন আর আগের মতো দেশে টানা কিংবা ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বিচ্ছিন্নভাবে হঠাৎ ছিটফোঁটা বৃষ্টি হলেও পরক্ষণেই শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে।

এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, মৌসুমি বায়ু বিদায়ের ফলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম বা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসে আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও কমতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন