উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে, পরে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতার আরো বাড়তে পারে। এ অবস্থা কয়েকদিন অব্যাহত থাকলেও আগামী শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংস্থাটি বলছে, এর প্রভাবে প্রাথমিকভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি বাড়লেও পরবর্তীতে মধ্য ও উত্তরেও বৃষ্টি ঝরাতে পারে। ফলে এই বৃষ্টির প্রবণতা আগামী ১৯ তারিখ পর্যন্ত থাকতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে; পরে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার দিকে স্থল নিম্নচাপ আকারে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল এবং তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে শুক্রবার উপকুলসহ সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। তবে ১৫ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত উপকূলসহ সারাদেশেই বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে পারে। তিনি জানান, এ ছাড়াও দেশের উপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় চলতি মাসজুড়েই সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি থাকতে পারে।
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় এরই মধ্যে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত সামুদ্রিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ জন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে বারবার তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। অপর সতর্কবার্তায় উপকূলীয় এলাকার নৌবন্দর সমূহে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে রাজধানীসহ সারাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। রাতের মধ্যে রাজধানীতে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তর। আগের দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। রাজধানীতে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও সর্বোচ্চ ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় কক্সবাজারে। এছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩৭, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ১১৩, ভোলায় ৮০, নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে ৭০, চট্টগ্রামে ৫৮ ও পটুয়াখালীতে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ায় এ দিন সারাদেশে আগের দিনের মতো তাপমাত্রা কিছুটা কমে দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমও কমেছে। বৃহস্পতিবার সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল আগের দিনের মতো ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রী।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গিয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে এবং পরবর্তীতে নিম্নচাপে রূপ নিয়ে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল এবং তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে, পরদিন থেকে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা সারাদেশেই বাড়তে পারে। বর্ধিত ৫ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


