সাগরে লঘুচাপ, রোববার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি: আবহাওয়া অধিদপ্তর

সাগরে লঘুচাপ, রোববার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি: আবহাওয়া অধিদপ্তর

প্রকৃতিতে এখন বর্ষার পূর্ণ যৌবন, বাংলা সনের শ্রাবণ মাস। আকাশে মেঘের আনাগোনা আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ছন্দে চারপাশ স্নিগ্ধতায় ভরে থাকলেও, আপাতত দেশের কোথাও অতিভারী বর্ষণের কোনো বড় সতর্কবার্তা নেই।

বিজ্ঞাপন

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বার্তা অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের উপকূলের আকাশ ও বাতাসে নতুন উত্তাপ ছড়াতে উঁকি দিচ্ছে একটি নতুন লঘুচাপ। এর প্রভাবে আগামী রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরপশ্চিম এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামীকাল রোববার থেকে আবারও দেশের বৃষ্টি বাড়তে পারে। তবে লঘুচাপটি পুরোপুরি সৃষ্টি হওয়ার পরই এর গতিপ্রকৃতি দেখে বোঝা যাবে এটি পরবর্তীতে নিম্নচাপে রূপ নেয় কি না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত থাকায় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর মাঝারি রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা দেখা গেছে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ দিন তাপমাত্রায় তেমন কোনো বড় পরিবর্তন আসবে না। তবে রবিবার সন্ধ্যা থেকে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহের কিছু কিছু অংশে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই দিনে দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পরবর্তীতে সোমবার থেকে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে, গত শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায় ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রী এবং রাজধানীতে তাপমাত্রা ছিল ৩১. দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস । এ দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মাত্র ২১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকলেও ঢাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বেশ কমে এসেছে। তবে একই সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে; যার মধ্যে সাতক্ষীরায় সর্বোচ্চ ১৮৫ মিলিমিটার, যশোরে ৭১ মিলিমিটার এবং খুলনায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়নি।

সহকারী আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ কাজী জেবুন নেসা জানিয়েছেন, নতুন করে কোনো বড় ধরনের ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা না থাকলেও বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দে দেশজুড়ে থেমে থেমে এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী বর্ষণের কোনো আশঙ্কা নেই। সবমিলিয়ে, প্রকৃতির স্নিগ্ধ চাদরে মুড়ে থাকা শ্রাবণের এই দিনগুলোতে মেঘের লুকোচুরি ও শীতল বাতাসে জনজীবনে এক প্রশান্তির সুবাতাস বইছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন