তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ যেমন আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে, তেমনি এর অন্ধকার দিকটিও প্রতিদিন আমাদের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ডিপফেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর অডিও-ভিডিও এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত অপপ্রচার আজ শুধু ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্তরেই নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার আগের আইনটি সংশোধন করে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ নামে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সময়োচিত। তবে যেকোনো সাইবার আইনের সাফল্য নির্ভর করে এর প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার ভারসাম্যের ওপর।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক নোটিসের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তাতে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে যে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ রক্ষার কথা বলা হয়েছে, তার বড় শত্রু এই বটনেট। হ্যাকার যখন তার এই লাখ লাখ ‘জম্বি’ ডিভাইসকে একসঙ্গে নির্দেশ দেয় কোনো সরকারি বা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য, তখন অতিরিক্ত ট্রাফিকের চাপে ওই ওয়েবসাইটটি ক্র্যাশ করে বা বন্ধ হয়ে যায়। একে বলা হয় (DDoS) আক্রমণ।

সাধারণ মানুষ যখন দেখে কোনো একটি পোস্টে ১০ হাজার লাইক এবং পাঁচ হাজার শেয়ার হয়েছে, তখন তারা অবচেতনভাবেই ধরে নেয় তথ্যটি সত্য। বটবাহিনী এই মনস্তাত্ত্বিক সুযোগটিই নেয়। কোনো একজন মানুষের পক্ষে একা বসে হাজার হাজার মানুষের চরিত্রহনন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই বট নেটওয়ার্কের কারণে একজন মাত্র দুষ্কৃতকারী ঘরে বসেই পুরো একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ভেতর বিশৃঙ্খলা বা দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারে। এই বট অ্যাকাউন্টগুলো ভিপিএন এবং ভুয়া আইপি ব্যবহার করে চালানো হয় বলে এদের মূল হোতাকে খুঁজে বের করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথমত, মেটা (ফেসবুক), এক্স (টুইটার) বা ইউটিউবের মতো আন্তর্জাতিক টেক জায়ান্টগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ‘সাইবার স্পেস’-এর পরিধি বাড়িয়ে বর্তমানের ভার্চুয়াল ও অনলাইনভিত্তিক সব প্ল্যাটফর্মকে এর আওতায় আনা হচ্ছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআই-জেনারেটেড ভুয়া কনটেন্ট, জাল আইডি এবং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত অপপ্রচার এবং নারী ও শিশুদের টার্গেট করে তৈরি সাইবার ক্রাইম রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ইতিবাচক দিক
প্রস্তাবিত এই সংশোধনের বেশ কিছু দিক অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বর্তমান সময়ের জন্য অপরিহার্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের চেহারা বা কণ্ঠ বিকৃত করে তৈরি করা কনটেন্ট এখন সাইবার অপরাধীদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বিশেষ করে, নারী ও শিশুদের ব্ল্যাকমেইল বা হেনস্তা করার ক্ষেত্রে এর অপব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই অপরাধগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
বাংলাদেশে ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত গুজব ছড়ানো হলেও, আগের আইনগুলোয় এই বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার মতো শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার ছিল না। নতুন আইনের মাধ্যমে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করা গেলে অনলাইন প্রোপাগান্ডা দ্রুত থামানো সম্ভব হবে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ যেভাবে ভিন্নমত দমন এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধে ব্যবহৃত হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই ধারাগুলো বাতিলের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তা দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য একটি বড় স্বস্তি।
সম্ভাব্য ঝুঁকি
যেকোনো কঠোর আইনি কাঠামোর ভেতরেই কিছু নেতিবাচক দিক বা অপব্যবহারের ফাঁকফোকর থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা মুক্ত সমাজ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ‘অপপ্রচার’ বা ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’-এর সংজ্ঞা যদি আইনে সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট না করা হয়, তবে আমলাতন্ত্র বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এর অপব্যাখ্যা দিয়ে সরকারের সমালোচনা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে কনটেন্ট সরাতে ‘বাধ্য’ করার আইনি বিধান রাখা সহজ হলেও, বাস্তবে তা কার্যকর করা বেশ জটিল। যদি মেটা বা গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের আইনি নোটিস উপেক্ষা করে, তবে কি রাষ্ট্র তাদের ব্লক বা ফিল্টার করার মতো চরম পথ বেছে নেবে? তেমনটি হলে তা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বট নেটওয়ার্ক বা ভুয়া আইডি শনাক্ত করার নামে যদি সাধারণ নাগরিকদের অনলাইন যোগাযোগ বা ডেটার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়, তবে তা সংবিধান স্বীকৃত ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে।
কেমন হওয়া উচিত টেকসই আইন? সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখতে আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, তবে আইনটি যাতে কোনোভাবেই ‘নিপীড়নের হাতিয়ার’ না হয়ে ওঠে, সেজন্য সংশোধনী প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিষয় কঠোরভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজনÑ
১. ‘গুজব’ বা ‘অপতথ্য’ কী—তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট করতে হবে। রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যঙ্গাত্মক কোনো কনটেন্টকে যেন এই অপরাধের আওতায় ফেলা না যায়।
২. আইনটির চূড়ান্ত খসড়া তৈরির সময় দেশের আইটি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক এবং আইনজ্ঞদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা করা দরকার।
৩. শুধু আইন করলেই এআই বা বট নেটওয়ার্কের অপরাধ ধরা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন পুলিশের সাইবার উইংয়ের আধুনিকায়ন, ফরেনসিক ল্যাবের উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল তৈরি।
৪. শাস্তির ভয় দেখিয়ে অপরাধ কমানোর চেয়ে নাগরিকদের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো বেশি কার্যকর। পাঠ্যপুস্তকে এবং গণমাধ্যমে সাইবার হাইজিন (অনলাইন নিরাপত্তা সচেতনতা)-সংক্রান্ত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।
৫. আদালতে মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন বিচারক অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়ে অপরাধমূলক কনটেন্টটি ইন্টারনেটে ব্লক বা হাইড করার নির্দেশ দিতে পারেন, সেই আইনি ক্ষমতা আদালতকে দিতে হবে। বাকস্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, যে কেউ এসে অন্য একজন সম্মানিত নাগরিকের গায়ে কাদা ছিটিয়ে চলে যাবে। সমাজকে সুস্থ রাখতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নোংরামি থেকে মুক্ত রাখতে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এ এ ধরনের ডিজিটাল চরিত্রহননকারীদের জন্য কোনো ছাড় না রেখে দ্রুত বিচার ও কঠোরতম শাস্তির বিধান রাখা এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করাই হবে একমাত্র টেকসই সমাধান।
৬. কোনো সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া কনটেন্ট বা রিল তৈরির পর ভুক্তভোগী যদি ফেসবুক বা ইউটিউবকে তা সরানোর জন্য রিপোর্ট বা আইনি নোটিস পাঠান এবং তারা যদি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণ না করে, তবে আইনত ওই প্ল্যাটফর্মকেও অপরাধের সহযোগী হিসেবে গণ্য করা উচিত। এর ফলে ফেসবুক-ইউটিউব তাদের মডারেশন ব্যবস্থা আরো কঠোর করতে বাধ্য হবে।
৭. সাইবার অপরাধের বিচারের জন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ ‘সাইবার ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ থাকা উচিত। এ ধরনের মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ ৩০ দিন এবং বিচারকার্য ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। অপরাধীকে দ্রুত শাস্তি পেতে দেখলে অন্য দুষ্কৃতকারীরা এই অপরাধ করার সাহস পাবে না।
৮. আইনে এমন ধারা থাকা প্রয়োজন, যাতে কোনো অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মানহানি বা ভুয়া কনটেন্ট ছড়ানোর প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে, দেশের ভেতর থেকে সেই অ্যাকাউন্টের মনিটাইজেশন (টাকা আয়ের সুযোগ) চিরতরে ব্লক করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে (যেমন : গুগল বা মেটা) রাষ্ট্র আইনি নোটিস পাঠাতে পারে।
কর্তৃপক্ষীয় ভেরিফিকেশন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র বা ভেরিফিকেশন ছাড়া শুধু একটি ইমেইল বা ফোন নম্বর দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় বলেই অপরাধীরা এর পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে। ফেক বা ভুয়া আইডি তৈরি করে মানুষের মানহানি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি, ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উগ্রবাদ ছড়ানো এবং সাইবার বুলিং করার পর সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে, কারণ অপরাধীর প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে রাখা সহজ।
এই প্রেক্ষাপটে, জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার বাধ্যবাধকতা রাখার প্রস্তাবটি সামাজিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি কার্যকর সমাধান মনে হতে পারে। অ্যাকাউন্টের পেছনে একজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি আছেন এবং অপরাধ করলে পুলিশ সরাসরি তাকে ধরতে পারবে—এই ভয় থাকলে মানুষ অনলাইনে মানহানিকর মন্তব্য, গুজব বা উগ্রবাদ ছড়ানোর সাহস পেত না। লাখ লাখ ফেক অ্যাকাউন্ট ও স্বয়ংক্রিয় বট নেটওয়ার্ক, যা দিয়ে কৃত্রিমভাবে জনমত প্রভাবিত করা হয় বা অপপ্রচার চালানো হয়, তা এক নিমেষেই বন্ধ হয়ে যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে, যেখানে মানুষ বাস্তব সমাজের মতোই আচরণ করতে বাধ্য হবে। কিন্তু এতে অসুবিধারও বিরাট দিক আছে।
সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক দেশ বা ফেসবুক-এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এই নিয়ম পুরোপুরি চালু করতে পারছে না, তার পেছনে কিছু বড় কারণ রয়েছে। মেটা (ফেসবুক) বা এক্সের মতো বিদেশি বেসরকারি কোম্পানির কাছে দেশের কোটি কোটি নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জমা দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যদি কোনো কারণে তাদের সার্ভার হ্যাক হয় বা ডেটা লিক হয়, তবে নাগরিকদের পরিচয় চুরি এবং আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। অনেক সময় স্বৈরাচারী বা কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলো এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে সরকারের যেকোনো যৌক্তিক সমালোচনা বা দুর্নীতিবিরোধী কণ্ঠস্বরকে সহজেই স্তব্ধ করে দিতে পারে। নাম প্রকাশ না করে জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করার বা হুইসেলব্লোয়ার (Whistleblower) হওয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
বিকল্প টেকসই সমাধান
এনআইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক করার চেয়ে আন্তর্জাতিকভাবে এবং বর্তমান আইনি কাঠামোতে অন্য কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে ফেসবুক বা এক্স টাকার বিনিময়ে বা সরকারি নথির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড করার সুযোগ দিচ্ছে। সরকার এমন নিয়ম করতে পারে, যেখানে ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টগুলোর সামাজিক বা ব্যবসায়িক গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকবে এবং আনভেরিফাইড অ্যাকাউন্টের রিচ (প্রচার পরিধি) কমিয়ে দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এ যেভাবে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছে, তা কঠোরভাবে কার্যকর করা। কোনো অপরাধ ঘটলে ফেসবুক যেন দ্রুত বাংলাদেশ সরকারকে সংশ্লিষ্ট আইপি অ্যাড্রেস বা ডিভাইস আইডি সরবরাহ করে, সেই কূটনৈতিক চুক্তি জোরদার করা। মেটা বা এক্সের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাংলা ভাষার সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও গালাগাল শনাক্তকরণে আরো উন্নত করতে বাধ্য করা, যাতে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানোর আগেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যায়।
সরকার ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল অপরাধের নতুন রূপগুলো মোকাবিলা করার যে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তবে মনে রাখতে হবে, একটি নিরাপদ সাইবার স্পেসের মূল ভিত্তি হলো নাগরিকের নিরাপত্তা এবং তার অধিকারের সুরক্ষা। আইনটি যেন শুধু অপরাধ দমনের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কোনোভাবেই যেন তা মুক্তচিন্তার ওপর তরবারি হয়ে না ঝোলে—এটাই হোক এই সংশোধনের মূল দর্শন। তবেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন টেকসই রূপ পাবে।
লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অন্তর্বর্তী সরকার
drkhalid09@gmail.com
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


