পরপর তিনটি চরম বিতর্কিত ও একতরফা নির্বাচনের পর অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আগে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে তিনটি দেয়াল টপকাতে হবে। একটি হচ্ছে, সংস্কার প্রশ্নে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা।
দ্বিতীয়টি হলো আইনশৃঙ্খলায় সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপন। আরেকটি হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা অথবা দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা না করা নিয়ে তৈরি হওয়া দেয়াল। বর্তমান মুহূর্তে এ দেয়ালটিই কী বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, এই প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগ ইস্যুতে রাজনীতির মাঠে অনেক দিন ধরেই বাহাস চলছিল।
প্রধান উপদেষ্টার একটি বক্তব্য এবং নবগঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর ভেরিফাইড ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে দলটির নেতৃত্বের মধ্যে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশের আদালতে বিচার হবে।’ ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তাদের নবগঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপি প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা করেছে। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে জুলাই গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। গণহত্যার দায়ে দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের বিচার চেয়েছেন এনসিপি।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুকে লেখেন, “সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে।
তিনি একে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ এবং ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ১১ মার্চ এ প্রস্তাব ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসেছে।” সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করছে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে আলোচনা করেছে, তা রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ মনে করছি। রাজনীতিবিদরাই রাজনীতি নির্ধারণ করবে।’ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে এনসিপি সারাদেশে বিক্ষোভ জারি রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য হচ্ছে, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে থাকবে কি না সে সিদ্ধান্ত নেবে দেশের জনগণ। শুক্রবার দলের মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘যারা ছাত্র হত্যা করেনি, যারা অর্থ লোপাট করেনি, সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির, তারা নেতৃত্বে এলে আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না।’ জামায়াতের বক্তব্য হচ্ছে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ গ্রহণ করবে না। আগে জুলাই হত্যার বিচার এবং তাদের আমলে পাচার করা টাকা ফেরত আনার পর দলটির বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবা যেতে পারে।
সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বৃহস্পতিবার এলডিপির সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে এই সংলাপের সূচনা হয়। ঈদের আগে কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপ হবে, বাকি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশন ঈদের পরে বসবে।
জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ সুনির্দিষ্ট না হওয়া সত্ত্বেও কমিশন বিভাজিত রাজনৈতিক দলগুলোকে একমত করার প্রয়াস চালাবে। তবে জাতীয় নির্বাচন আগে, নাকি গণপরিষদ নির্বাচন আগে, আনুপাতিক ভোট, সেকেন্ড রিপাবলিক- এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান বিপরীতমুখী। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ করা প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তার এই প্রত্যয় বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, সংস্কার প্রশ্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ওপর তা অনেকখানি নির্ভর করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘শান্তি সংলাপ ও ঐক্যের’ আহ্বান জানিয়ে গেছেন। চার দিনের সফরের তৃতীয় দিনে গুতেরেস বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সাতটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জাতিসংঘ ঢাকা কার্যালয়ের আয়োজনে এই বৈঠকে সংস্কার কমিশনগুলোর প্রধানরা সংস্কারের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। বৈঠকে বিএনপি দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচনের কথা বলেছে। জামাতের চাওয়া টেকসই গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আর এনসিপি গণপরিষদে সংবিধান সংস্কারের কথা বলছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর নানা মত প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলে গেছেন, ‘সংস্কার কীভাবে কতটুকু, হবে তা জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে একমত হয়ে করতে হবে।’ পর্তুগালের উদাহরণ টেনে তিনি এই আশাবাদের কথা বলেন, জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো মিলে এই পথ পাড়ি দিতে হবে। শান্তিতে দেশের একমাত্র নোবেল জয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘শান্তি, সংলাপ, ও ঐক্যের’ আহ্বান কীভাবে এগিয়ে নেবেন, আগামী কয়েক মাসে তা স্পষ্ট হবে।
সংস্কার প্রশ্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য স্থাপনের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন সংলাপ শুরুর আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে ১৬৬টি প্রস্তাবনার বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। চিঠিতে সুপারিশের বিষয়ে ‘একমত’ ‘আংশিক একমত’ এবং ‘ভিন্নমত’- এই তিনটি প্রশ্ন ছিল। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে টিক চিহ্ন দিতে বলা হয়।
বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ছকে টিকচিহ্ন দিয়ে সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মতামত দিতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, টিকচিহ্ন দিয়ে মতামত চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে হেয় করা হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু স্কুলের পরীক্ষার মতো টিক দিয়ে হতে পারে না। এই টিকচিহ্ন নিয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা টিপ্পনী কেটে বলেছেন, ‘দেশে কি টিকচিহ্নের রাজনীতি শুরু হচ্ছে।’
তবে টিকচিহ্নের পাশাপাশি সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে পাঁচটি বিকল্প দিয়ে মতামত চাওয়া হয়। বিকল্পগুলো হলোÑ নির্বাচনের আগে অধ্যাদেশের মাধ্যমে, নির্বাচনের আগে গণভোটের মাধ্যমে, নির্বাচনের সময় গণভোটের মাধ্যমে এবং নির্বাচনের পর সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে। টিকচিহ্ন নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ এর আগে বলেছেন, স্প্রেডশিটে মন্তব্যের ঘর রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে অতিরিক্ত কাগজে লিখে মতামত দিতে পারে।
সংস্কার প্রশ্নে সমঝোতা হওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে একটি দেয়াল তৈরি হয়ে আছে। বিএনপির দাবি সবার আগে জাতীয় নির্বাচনে আয়োজন এবং তা ডিসেম্বরের মধ্যেই। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা শুরু থেকে বলে আসছেন, সংস্কার কমিশনগুলোর অধিকাংশ প্রস্তাবনা তাদের ৩১ দফার মধ্যে আছে। দলটি নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার দরকার, ঠিক ততখানি সংস্কার করে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। শুরু থেকেই তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বাদবাকি সংস্কার নির্বাচিত সরকার এবং সংসদের মাধ্যমে হবে।
জামায়াতে ইসলামী আনুপাতিক ভোটের দাবিতে বেশ উচ্চকিত। আর বিএনপি এই আনুপাতিক ভোটের বিরোধিতা করছে। বিএনপি একই সঙ্গে ঘোরবিরোধী গণভোট ও গণপরিষদের। গণপরিষদ ও সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করতে পারে- এমন শঙ্কা রয়েছে দলটির মধ্যে। জাতীয় নাগরিক পার্টির অবস্থান হচ্ছে, গণপরিষদের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। সংসদের মাধ্যমে হলে সংস্কার টেকসই হবে না। এনসিপি প্রথমে সংসদ নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচনে দাবি তুললেও এখন নবগঠিত দলটি গণপরিষদ ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করা সম্ভব বলে মনে করে।
জাতীয় নির্বাচন, আনুপাতিক ভোট ও গণপরিষদ নিয়ে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির মধ্যে বাহাস চলছেই। প্রধানত, এই তিন দলের মধ্যে তৈরি হওয়া দেয়াল ঐকমত্য কমিশন, মূলত প্রফেসর ইউনূসকেই অপসারণ করতে হবে।
ঐকমত্য কমিশন এখন দলগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে সংলাপ করছে। ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে সংলাপে বিরতি থাকবে। প্রথম পর্যায়ের সংলাপ শেষ হতে এপ্রিল মাস গড়িয়ে যেতে পারে। এই পর্বের সংলাপ শেষ হওয়ার পর তাদের সুপারিশ বা মতামত নিয়ে ঐকমত্য কমিশন দলগুলোকে একসঙ্গে বৈঠকে ডাকবে। চূড়ান্ত বৈঠকটি করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
সংস্কারের বিষয়টি আসলে কোথায় গিয়ে এবং কীভাবে হবে, তার একটা ধারণা প্রফেসর ইউনূস দিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো ‘সংক্ষিপ্ত সংস্কার প্যাকেজে’ একমত হলে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। আর দলগুলো ‘বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ’ গ্রহণ করলে নির্বাচন হবে আগামী বছরের জুনে।
তবে প্রধান উপদেষ্টা ‘সংক্ষিপ্ত প্যাকেজ’ এবং ‘বৃহৎ সংস্কার প্যাকেজ’-এর কোনো ব্যাখ্যা দেননি। বর্তমানে রাজনীতির মাঠের প্রধান দল বিএনপি নির্বাচন কোনোভাবেই ডিসেম্বরের পরে না হওয়ার বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কার শেষ করে গণপরিষদ পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। এনসিপি গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার ও মৌলিক সংস্কার শেষ করে নির্বাচন চায়। বৃহস্পতিবার বরিশালে দলের নেতাকর্মীদের তিনি এ কথা বলেন।
সংস্কার নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ শুরু হয়েছে, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা গত সোমবার পুলিশের শীর্ষ ১২৭ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচনের জন্য পুলিশকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। দুদিনের মধ্যে তিনি এ-সংক্রান্ত আরেকটি বৈঠক করেন। দুটি বৈঠকেই প্রধান উপদেষ্টা যেকোনো মূল্যে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি এখন থেকেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বলেন। তবে এ কাজটি পুলিশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। কারণ থানা লুটের অনেক অস্ত্র এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সময় জেল ভেঙে চলে যাওয়া আসামিরা ধরা পড়েনি। এসব আসামি নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে। মব সহিংসতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে পুলিশকে নানা গোষ্ঠীর চাপ ও হস্তক্ষেপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ আক্রান্ত হচ্ছে। থানায় ঢুকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। সহসা ও অবস্থা কাটিয়ে উঠে আইনশৃঙ্খলা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট করা কঠিন হবে।
এবার ইফতারের রাজনীতিও ছিল বেশ জমজমাট। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটি আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রায় সব দলের বিপুলসংখ্যক নেতা যোগ দেন। আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা যার যার নির্বাচনী এলাকায় ইতোমধ্যে ছুটতে শুরু করেছেন।
ঈদের লম্বা ছুটিতে তারা এলাকায় থেকে জনসংযোগের কাজটি বেশ ভালোভাবে করে নিতে চান। ঈদের ছুটির পর সবার দৃষ্টি থাকবে সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপের দিকে। সংবিধান, নির্বাচনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো কোন কোন বিষয়ে একমত হতে পারে- সেদিকে সবার নজর থাকবে। আর কোন কোন বিষয়ে সমঝোতা না হয় এবং তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তাও, দেখার অপেক্ষায় থাকবে সব মহল। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা বা না করা নিয়েও রাজনীতি চলতে থাকবে।
লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

