বাঙালির অনেক কিছুর অভাব থাকলেও টেনশনের কোনো অভাব নেই । এসব টেনশনের কিছু জেনুইন, অধিকাংশই অহেতুক! এখন টেনশন শুরু হয়েছে, আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচনে গেলে সেটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য হবে কি না! এই টেনশন লেনলেওয়ালারা গত ১৫ বছর এই ভূখণ্ডের ওপরেই বসবাস করেছেন । তখন একবারের তরেও এই ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথাটি তাদের মনে পড়েনি! এই বিশেষ টেনশন লেনলেওয়ালাদের মধ্যে সর্বশেষ যোগ দিলেন সেনাপ্রধান!
দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে। এখন একটা সফট আওয়ামী লীগ নাকি খুবই দরকার! কিন্তু আওয়ামী লীগের কোনো জায়গা থেকে অনুশোচনা আসেনি। বরং আগেই ভালো ছিলাম—এমন একটা ন্যারেটিভ আওয়ামী লীগের সফট ও হার্ড সব গ্রুপ থেকেই ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে!
হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস পুরো রাজনীতিকে গরম করে ফেলেছে! এরপর সারজিসের স্ট্যাটাস দিয়ে এটাকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করা হয়েছে। । ছাত্রনেতাদের আগ্রহেই এই বৈঠক হয়েছে—এই কথাটিতেও খুব বেশি আশ্বস্ত হওয়া যাচ্ছে না। দেশের রাজনীতি নিয়ে সেনাবাহিনীর টেনশন কিংবা অতি উৎসাহ কোনোটাই কাম্য নয়। ছাত্রনেতারা আগ্রহ প্রকাশ করবেন বলেই তিনি রাজনৈতিক বৈঠক করবেন, সেটাও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার সঙ্গে যায় না।
পতিত আওয়ামী লীগকে নিয়ে আমাদের ক্যান্টনমেন্ট থেকে টেনশন না করলেও চলবে। দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি, ইন্টেলেকচুয়াল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিলে একটা পন্থা বের করে ফেলতে পারবেন। তা ছাড়া বিশ্বের সামনে এটি নতুন কোনো সমস্যা নেই। ধর্মীয় আবেশ কিংবা সেকুলার আবেশ, যেটা নিয়েই ক্ষমতায় আরোহণ করেন না কেন, সময় হলে এই নরম চেয়ার ছাড়তে হবে। অনেক রক্তের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার এই বিজয়টি অর্জিত হয়েছে। যেকোনো মূল্যে তা ধরে রাখতে হবে।
সারা পৃথিবী ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে হারিয়ে রোদন শুরু করে দেবে, এই ভাবনা বা টেনশনটি কতটুকু যথাযথ হচ্ছে? যারা ইন্ডিয়াকেই সারা পৃথিবী ভাবেন, তাদের কথা অবশ্য ভিন্ন!
এক্ষেত্রে একটা আশাজাগানিয়া খবর এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। সেখানকার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেখ মুজিবের একটি মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছে! আর এর পেছনে যারা শ্রম দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককেই অভিনন্দন জানাচ্ছি!
আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান তার নির্বাসনকাল যথাযথভাবে কাজে লাগিয়েছেন। শেখ হাসিনা ও তার লেসপেন্সারদের মগজে কিছু এলিমেন্ট থাকলে এ রকম বোকামি কখনোই করতেন না। শেখ হাসিনা যাদেরই নির্বাসনে পাঠিয়েছেন, তারা প্রত্যেকে হাজারগুণ শক্তিশালী হয়ে তার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। ড. মাহমুদুর রহমান আমাদের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সাউথ এশিয়ান পলিসি ইনিশিয়েটিভ (সাপি) নামে একটি থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন । সাপি বেশ কয়েকটি গবেষণাধর্মী কাজ করেছে । ওই থিংক ট্যাংকের পরিচালনায় ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী ড. ফারজানা মাহবুবা, সাপি’র রিসার্চার সুমাইয়া রাবেয়া ও ব্যারিস্টার সুমাইয়া আনজুম কাশফির যৌথ গবেষণায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান : ফ্রম লিবারেশন টু অথোরিটারিয়ানিজম ইন পোস্ট-ইনডিপেনডেন্স বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এই রিপোর্টটিও কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করা হয়। শেখ মুজিবের মূর্তি সরানোতে এই রিসার্চ রিপোর্টটি নিঃসন্দেহে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্ববাসী এই ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল রয়েছে। ফ্যাসিবাদ হলো গণতন্ত্রের জন্য ক্যানসার এবং মানবপ্রগতির জন্য হুমকি—এ কথাটি বিশ্ববাসীকে আমাদের নতুন করে বোঝানোর দরকার পড়বে না! কাজেই ডিনাজিফিকেশনের মতো ডিআওয়ামিফিকেশন কেন জরুরি, সেগুলো বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার জন্য মাশাল্লাহ আমাদের অনেক ফারহানা, সুমাইয়া ও কাশফি তৈরি হয়ে গেছেন।
অন্যদিকে সাংবাদিক মাসুদ কামাল নতুন এক হুক্কা হুয়া তুলেছেন, আওয়ামী লীগের যে শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ সমর্থক ছিল, তাদের কি রাজনৈতিক স্পেস দিতে হবে না? হিটলার ও মুসোলিনির সমর্থকদের জন্য দুর্ভাগ্য যে তারা তাদের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার জন্য সাংবাদিক মাসুদ কামালের মতো কাউকে পায়নি। ডিআওয়ামিফিকেশন ব্যবস্থায় মূল ক্রিমিনালদের বিচারের পর বাদবাকিদের জন্য রিকনসিলিয়েশন বা তওবার দরজা খোলা থাকবে! অর্থাৎ, Reconciliation will be part of Deawamification same like Denazification.
মাসুদ কামালদের এই হুক্কা হুয়ার জবাব দিতে চলুন এবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানি ও ইতালির দিকে একটু নজর বুলাই।
জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলার ও নাৎসি পার্টির প্রতি প্রকৃত সমর্থকদের সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। তবে ইতিহাসবিদদের গবেষণা থেকে জানা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগণ হয় সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছিল, না হয় নীরবে মেনে নিয়েছিল।
হিটলারের প্রতি জার্মান জনগণের সমর্থন নিয়ে এবার একটু আলোচনা করা যাক।
১. নির্বাচনী সমর্থন
হিটলার ক্ষমতায় আসার আগে শেষ অবাধ নির্বাচনে (মার্চ ১৯৩৩) নাৎসি পার্টি ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পায়। তার আগের নির্বাচনে (জুলাই ১৯৩২) তারা ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, যা উল্লেখযোগ্য, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। ১৯৩৩ সালের পর নির্বাচনগুলো কারসাজির মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং বিভিন্ন গণভোটে নাৎসিরা ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি সমর্থন দেখানোর দাবি করেছিল, যদিও এগুলো বিশ্বাসযোগ্য ছিল না।
২. সক্রিয় ও নীরব সমর্থক
ইতিহাসবিদদের অনুমান অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জার্মান জনগণ ছিলেন কট্টর নাৎসি সমর্থক (যেমন এসএস, গেস্টাপো ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা)। আরেক ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ছিলেন অনুগত অনুসারী, যারা নাৎসি নীতিগুলোর সুবিধা পেয়েছিলেন এবং প্রচারণার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। বাকিরা হয় নীরব সমর্থক ছিলেন বা ভয়ে চুপ করে ছিলেন এবং মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ জনগণ সক্রিয়ভাবে নাৎসি বিরোধিতা করেছিলেন।
১৯৪৫ সালে জার্মানি পরাজিত হওয়ার পর মিত্রশক্তি ডিনাজিফিকেশন (Denazification) প্রক্রিয়া শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে নাৎসি প্রভাব নির্মূল করা। তবে ঠান্ডা যুদ্ধের কারণে এই প্রক্রিয়াটি সীমিত ছিল। ডিনাজিফিকেশন ছিল মিত্রশক্তির একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সমাজ, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং রাজনীতি থেকে নাৎসি আদর্শ দূর করা হয়।
ডিনাজিফিকেশন কার্যকর করার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল!
১. শাস্তি ও বিচার
নুরেমবার্গ ট্রায়ালসে (Nuremberg Trials) ১৯৪৫-৪৬ সালে প্রধান নাৎসি নেতাদের বিচার করা হয়, তবে খুব কমসংখ্যক নেতাকে ফাঁসি বা দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নিচু স্তরের অধিকাংশ নাৎসি কর্মকর্তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি, কারণ প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের দরকার পড়েছিল।
২. পুনর্বাসন ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি
গত শতকের পঞ্চাশের দশকে সাবেক নাৎসিদের পশ্চিম জার্মানির রাজনীতি, সরকারি চাকরি ও শিল্প খাত পুনঃএকীভূত করা হয়। পশ্চিম জার্মানির প্রথম চ্যান্সেলর কনরাড অ্যাডেনাওয়ার (Konrad Adenauer) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নাৎসিদের ব্যাপকভাবে শাস্তি না দিয়ে পুনর্বাসন করেন।
১৯৫২ সালে Socialist Reich Party (SRP) নামে একটি নাৎসিঘেঁষা দল নিষিদ্ধ করা হয় এবং নাৎসি মতাদর্শ আইনত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৩. সংস্কৃতি ও শিক্ষায় পরিবর্তন
পশ্চিম জার্মানিতে স্কুল পাঠ্যসূচিতে গণতন্ত্র ও নাৎসি অপরাধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট সরকার দাবি করেছিল, সব নাৎসিই পশ্চিম জার্মানিতে থেকে গেছে এবং ফ্যাসিবাদকে পুঁজিবাদের ফল হিসেবে চিত্রিত করেছে।
পরবর্তী সময়ে পশ্চিম জার্মানি গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করলেও সাবেক নাৎসিরা দেশের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে গোয়েন্দা সংস্থা, বিচার বিভাগ ও আমলাতন্ত্রে। ২০ শতকের শেষভাগে এসে জার্মানি তাদের নাৎসি অতীতের মুখোমুখি হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
একইভাবে বেনিটো মুসোলিনির ফ্যাসিবাদী দল ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি (PNF) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে নিষিদ্ধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়িত হয়—
১. মুসোলিনির পতন (১৯৪৩)
১৯৪৩ সালের জুলাই মাসে মুসোলিনিকে তার নিজের গ্র্যান্ড কাউন্সিল অপসারণ করে এবং রাজা ভিক্টর ইমানুয়েল তাকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর ইতালিতে নতুন সরকার গঠিত হয় এবং ফ্যাসিস্ট পার্টিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
২. ইতালীয় প্রতিরোধ ও গণবিচার (১৯৪৫)
১৯৪৫ সালে মুসোলিনি ও তার অনুসারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিরোধ আন্দোলনের (Italian Resistance) গেরিলা যোদ্ধারা তাকে ধরে ফেলে এবং ফাঁসি দেয়। ফ্যাসিবাদী নেতাদের বিচার করে মৃত্যুদণ্ড বা দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৩. নতুন সংবিধান ও ফ্যাসিবাদের নিষেধাজ্ঞা (১৯৪৭)
১৯৪৭ সালে ইতালির নতুন সংবিধানে (Italian Constitution of 1948) ‘Scelba Law’ নামে একটি আইন যুক্ত করা হয়, যা ফ্যাসিবাদী আদর্শ ও সংগঠন নিষিদ্ধ করে। ফ্যাসিবাদ প্রচার বা এর পুনরুজ্জীবন ঘটানোর চেষ্টা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
ডিআওয়ামিফিকেশনের সফলতা নির্ভর করে আমাদের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার ওপর, বিশেষ করে প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির ওপর। বিএনপির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিরোধী দল হিসেবে দুর্বল আওয়ামী লীগকে পছন্দ করছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সেই দুর্বল আওয়ামী লীগ কি আসলেই দুর্বল থাকবে? ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালেও আওয়ামী লীগ এ রকম দুর্বল ছিল এবং পরবর্তী সময়ে তারা আর দুর্বল থাকেনি! কাজেই জামায়াতের উত্থান ঠেকাতে বিএনপি আত্মবিধ্বংসী পদক্ষেপ নিলে বিএনপি নিজেকেই একটা আদর্শিক ঝুঁকিতে ঠেলে দেবে।
ন্যাড়া একবার বেলতলায় গেলেও আমাদের ন্যাড়ারা ইতোমধ্যে দুবার বাকশালের বেলতলায় গিয়েছেন এবং তৃতীয়বার যাওয়ার সুবন্দোবস্ত করছেন! বিএনপিতেও অনেক নতুন সুহৃদের আবির্ভাব হয়েছে, যারা আশ্বস্ত করছেন বাকশালি বেল নাকি ইসলামি বেলের চেয়ে অনেক নরম হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের একটি অংশও নাকি বিএনপিকে ছাড়াই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে। আমি এখানে ওহুদ যুদ্ধের পুরা সিম্পটম দেখতে পাচ্ছি বিজয়ী পক্ষের গনিমতের মাল বা ক্ষমতার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে । আতঙ্কে আছি যারা আমরা এই ভাগাভাগি থেকে একটু দূরে আছি।
বিএনপির রাজনীতির একটা বৈশিষ্ট্য ছিল, কর্মী-সমর্থকরা নেতাদের মাইন্ড পড়তে পারতেন। এবারই কেমন যেন একটু জটিল ঠেকছে! বিএনপির কয়েকজন টপ নেতার প্রো-ইন্ডিয়ান ও সফেন-টু-আওয়ামী লীগ কথাবার্তা জনগণের এই সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে! আর দলের সুযোগসন্ধানী ও লোভী অংশটি, যারা পতিত আওয়ামী লীগারদের টাকার বিনিময়ে প্রশ্রয় দিয়ে আসছিল, তারাও তাদের কাজের একটা নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ‘দুর্বল আওয়ামী লীগ’ তত্ত্বের মধ্যে খুঁজে পেয়েছে।
জেনারেল ওয়াকারের কাছে শিরীন শারমিন ও সাবের হোসেন যেমন সফট আওয়ামী লীগার, তেমনিভাবে বিএনপি-জামায়াতের যিনি যে লীগের কাছ থেকে টাকা খেয়েছেন, সেই লীগই ‘সফট আওয়ামী লীগার’ বলে গণ্য হবে।
আমরা জানি, অনেক লোভী ফিলিস্তিনি বেশি টাকার লোভে নিজেদের জমি ইহুদিদের হাতে তুলে দিয়েছিল। হুবহু একই ফেনোমেনা এখানে দেখা যাচ্ছে। কিছুসংখ্যক নেতানেত্রীর লোভ, ক্ষোভ বা ভুলের কারণে সম্ভবত আমরা আরেক গাজা সৃষ্টি করতে যাচ্ছি!
বিএনপির দ্রুত নির্বাচন চাওয়া—এটি একটি ন্যায্য দাবি। এই দাবির সঙ্গে অন্য সব রাজনৈতিক দলের মতৈক্য জরুরি ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি। বিএনপিকে এই অবস্থায় ঠেলে দিতে জামায়াতের দায়টাও বোধ হয় পুরাপুরি এড়ানো যাবে না।
এ অবস্থায় জেনারেল ওয়াকার এগিয়ে এলেন। এতে আমিও তার ওপর প্রসন্ন ছিলাম! কিন্তু এই সমর্থন যে বিনা কারণে ঘটছে না, সেটাও দিন দিন পরিষ্কার হচ্ছে । হাসনাত-সারজিসের সঙ্গে সেনাপ্রধানের সর্বশেষ সাক্ষাতের পর এই বিষয়টি আরো সামনে চলে এসেছে!
এখনো আমরা বেনিফিট অব ডাউটটা বিএনপিকে দিতে চাই। বিশ্বাস করতে চাই, বিএনপি এই টোপ এখনো গিলেনি! গণতান্ত্রিক মানুষ হিসেবে আমিও মনে করি, দ্রুত নির্বাচন দরকার; তবে তা জেনারেল ওয়াকার বা ইন্ডিয়াকে কিছু দেওয়ার বিনিময়ে নয়!
এই ডিআওয়ামিফিকেশনকে পুরোপুরি কার্যকর করতে হলে আগামী তিনটি ইলেকশনে বিএনপি, জামায়াত ও নবগঠিত এনসিপির মধ্যে একটি ন্যূনতম বোঝাপড়া থাকা উচিত। এটি করতে ব্যর্থ হলে এর চরম মাশুল সবাইকে দিতে হবে। এখানে এক দলের সঙ্গে অন্য দলকে বিলীন হয়ে যেতে পরামর্শ দিচ্ছি না, বরং এই ডিআওয়ামিফিকেশনের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু সম্পর্ক আপনারা রাখুন এবং তা প্রদর্শন করুন!
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

