বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির রূপকল্প

বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির রূপকল্প
ফাইল ছবি

বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার এক রূপকল্প ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই রূপকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে একটি উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

এ বছর ২৩ জুলাই রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে (এফডিআই) প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের এই অর্থনৈতিক ভিশন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায়। এজন্য তিনি দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ এবং ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানান। বিনিয়োগ সম্মেলনে ৬০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

দেশ পরিচালনায় এ বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ক্ষেত্রে এই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাকে ইঞ্জিন বা চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাধারণত নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ১০০ দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়েছেন ১৮০ দিনের কর্মসূচি। কারণ তিনি মনে করেন, অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে হলে কার্যকর কিছু করতে হবে। তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সংসদের গত অধিবেশনে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস করে। এই বাজেটকে বলা হচ্ছে, এটি কেবল একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে হবে প্রাথমিক জ্বালানি। সঠিক নীতি বাস্তবায়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে এই অর্থনৈতিক স্বপ্ন সময়ের ব্যবধানে বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভব বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। কারণ এবারের জাতীয় বাজেটে কিছু বিশেষ উদীয়মান খাতকে সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা দিয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিক খাত।

অর্থনৈতিক রূপকল্পের মূল স্তম্ভ ও খাতগুলো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সরকারের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ঘোষণা করে এফডিআই সম্মেলনে বলেছেন, এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে দেশকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি, তবে তার পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। বাংলাদেশের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ, পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্র হয়ে কাজ করলে ২০৩৪ সালের মধ্যে সহজেই আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে তার সরকার আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছে; বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছে। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ঝামেলামুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লালফিতার দৌরাত্ম্য দূর করা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি সেবাগুলো ডিজিটালাইজ্ড করার কথাও জানান তিনি। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর সুবিধা, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ও উদ্যোক্তাদের জানান প্রধানমন্ত্রী।

এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে দেশকে পৌঁছাতে হলে প্রধান চালিকাশক্তি হবে তিনটি—রপ্তানি বহুমুখীকরণ, তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়ন এবং সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভর না করে আইটি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে সমাদৃত করতে হবে। দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। তাদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে পারলে লক্ষ্য অর্জন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে রূপকল্প বাস্তবায়নের মূল ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং আর্থিক খাতের টেকসই সংস্কার, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এ জন্য বাজেট বাস্তবায়নে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে। ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার (জিডিপি গ্রোথ) প্রতি বছর গড়ে আট শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে ধরে রাখতে হবে। এজন্য প্রয়োজন বিশাল কর্মযজ্ঞ।

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির সুফল

ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হলে দেশ কতটা লাভবান হবে—এ প্রশ্ন অনেকেরই রয়েছে। এর জবাব হচ্ছে, এই অর্থনৈতিক ভিশন বাস্তবায়িত হলে তা সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের জন্য অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা বয়ে আনবে। মানুষের জীবনযাত্রার মান ও বৈশ্বিক অবস্থান সম্পূর্ণ বদলে যাবে। অর্থনীতির আকার বাড়লে দেশের জিডিপি বহুগুণ বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মানুষের মাথাপিছু আয়ের ওপর। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সঞ্চয় করার সামর্থ্য বেড়ে যাবে। বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয়ের পথ তৈরি হবে, যা দারিদ্র্যের হারকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনবে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ায় শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ বাসস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে বরাদ্দ বাড়বে। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের জন্য দেশে হাজার হাজার নতুন শিল্পকারখানা, স্টার্টআপ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। ফলে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিক্স এবং লজিস্টিকস খাতের মতো উচ্চ আয়ের খাতগুলো বিকশিত হলে তরুণরা দেশেই বসেই আন্তর্জাতিক মানের বেতনে কাজ করার সুযোগ পাবে।

ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বাজার বৈশ্বিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাজার। এর ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। আগেই বলেছি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ হবে। এমন অবস্থায় সারা দেশে উন্নত হাইওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে, বুলেট ট্রেন, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। গড়ে উঠবে ক্যাশলেস ও ডিজিটাল সোসাইটি। বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা বাড়বে। সংক্ষেপে বলতে গেলে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মানে হলো উচ্চ-মধ্যম আয়ের উন্নত বাংলাদেশ। অর্থাৎ ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবের সদস্য হওয়া মানে বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে (যেমন বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাতিসংঘ) বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। বিশ্বমঞ্চে আমরা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিতি পাব।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে কী কী প্রাতিষ্ঠানিক, কাঠামোগত ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। এগুলো ছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা মোকাবিলা করা অন্যতম বড় বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট। শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এমনকি নতুন বিনিয়োগ—এ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহ। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই এই বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সংকটের সমাধান করতে হবে।

গৃহীত অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়িত করতে হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লাগাতার হরতাল-অবরোধের কারণে দেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বিএনপির শাসনামলে আওয়ামী লীগের ১৭৩ দিনের হরতালে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং দলগুলোর মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশ্নে ঐকমত্য থাকতে হবে। পতিত আওয়ামী লীগকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না। তাদের অরাজকতা শক্ত হাতে দমন করতে হবে।

ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবের সদস্যরা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৬ সালের জিডিপি র‍্যাংকিং অনুযায়ী ২১ দেশ ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবের সদস্য। অর্থাৎ এসব দেশের জিডিপি বা বার্ষিক দেশজ উৎপাদন এক ট্রিলিয়ন বা এক হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ, যার আকার ৩২ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় হলো চীন, বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। জিডিপি প্রায় ২০ দশমিক ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলারের। জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি, রাশিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো ও স্পেন দুই থেকে ছয় ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। এক থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ক্ষেত্রে নতুন উদীয়মান দেশগুলো হচ্ছে—দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডস, সৌদি আরব, সুইজারল্যান্ড ও পোল্যান্ড।

সার্কভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা

সার্কভুক্ত আটটি দেশের মধ্যে ভারতই একমাত্র ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ। ভারতের বর্তমান জিডিপি প্রায় ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার। বাকি দেশগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবে যেতে পারেনি। বাংলাদেশের জিডিপির আকার প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তানের ৩৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শ্রীলঙ্কার ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, নেপালের ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মালদ্বীপের সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ভুটানের জিডিপির আকার ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনসংখ্যার দেশ। আমাদের জনসংখ্যা ২০ কোটির কাছাকাছি। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী (প্রায় ১২ কোটি) কর্মক্ষম, যাদের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। এ দেশ হলো এক বিশাল ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজার। বিশাল তরুণ ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী যেকোনো পণ্যের বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (বিসিজি) গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ নতুন করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে। ফলে ভোগ্যপণ্য বা এফএমসিজি খাতের বাজারের আকার দ্রুত বড় হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা উদ্যোগী ও মনোযোগী হলে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়া দুঃসাধ্য নয়।

লেখক : সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা; সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন