রাজনীতি বিজ্ঞানে জাতীয়তাবাদ তত্ত্বের মধ্যে দুটি তত্ত্ব সাম্প্রতিককালে বহুলভাবে আলোচিত। এর একটিতে বলা হয়েছে, ‘The Nation creates the state.’ এবং অপরটিতে বলা হয়েছে, ‘The state creates the nation.’ অর্থাৎ, জাতিরাষ্ট্র গঠনের কারক; অপরপক্ষে, রাষ্ট্র জাতি গঠনের কারক। প্রথম প্রপঞ্চটি ইউরোপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; আর দ্বিতীয়টি উপনিবেশ-উত্তর এশিয়া ও আফ্রিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইউরোপে জাতি গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মানচিত্রের উদ্ভব রাষ্ট্র ও জাতি উভয়কেই দিয়েছে একটি টেকসই চরিত্র। এশিয়া ও আফ্রিকার ক্ষেত্রে উপনিবেশবাদ থেকে মুক্ত হয়ে যেসব রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে, সেগুলো অবশ্যম্ভাবী রূপে জাতিতে রূপান্তরিত হতে পারেনি, কিংবা রূপান্তরের পথে দুরতিক্রম্য বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে। মানবসন্তানদের একটি অংশকে জাতি হিসেবে তখনই গণ্য করা যায়, যখন তারা নিজেদের মধ্যে স্বেচ্ছামূলক অনুভূতির বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হয়। এই সমানুভূতি মানবগোষ্ঠীর এই নির্দিষ্ট অংশ অন্য কারো সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অনুভব করতে চায় না। এই সমানুভূতির ফলে তারা একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করে, যা তারা অন্য লোকের সঙ্গে করে না। তারা সবাই একসঙ্গে বাস করতে চায় এবং কামনা করে, সরকার তাদের দ্বারা অথবা তাদের মধ্য থেকে নেওয়া ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত হবে। জাতি গঠনের জন্য এ ধরনের সমানুভূতি অপরিহার্য।
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে জওহরলাল নেহেরু একজন বিরোধী রাজনীতিক থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রচণ্ড অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছিলেন। ক্ষমতা লাভের পর তাকে এমন একটি নীতি কার্যকর করতে হয়েছিল, যা তিনি তার কংগ্রেস রাজনীতির মধ্য দিয়ে প্রচার করেছেন; অথচ কখনো পছন্দ করেননি। প্যাটেল ও সীতা রামাইয়ার সঙ্গে তিনিও ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠন কমিটির সদস্য হয়েছিলেন। প্রায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কংগ্রেস ভারতে ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল এবং ব্রিটিশ শাসকদের ভাষাভিত্তি-বিবর্জিত স্বৈরাচারী প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের বিরোধিতা করে আসছিল। যুক্তি ছিল, ভাষার ভিত্তিতে প্রদেশ গঠন না করে ব্রিটিশরা সাম্রাজ্যবাদী ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি অনুসরণ করছে। ভাষাভিত্তিক প্রদেশ গঠন কমিটিতে কাজ করতে গিয়ে নেহেরু তার তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন: (This inquiry) has been in some ways an eye-opener for us, the work of 60 years of the Indian National Congress was standing before us, face to face with centuries old India of narrow loyalties, petty jealousies and ignorant prejudices engaged in mortal conflict and we were simply horrified to see how thin was the ice upon which we were skating. Some of the ablest men in the country came before us and confidently and emphatically stated that language in the country stood for and represented culture, race, history, individuality and finally a sub-nation.
আতঙ্কিত বোধ করে থাকুন বা নাই থাকুন, নেহেরু, প্যাটেল ও সীতারামাইয়া অবশেষে অন্ধ্রকে তেলেগুভাষী রাজ্য হিসেবে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হলেন। যে হালকা বরফের আস্তরণের ওপর নেহেরু স্কেটিং খেলার কথা বলেছেন, তা ভেঙে গেল। এক দশকের মধ্যে সমগ্র ভারতীয় প্রশাসনকে ভাষার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা হলো। দেশ-বিদেশের পণ্ডিত ও চিন্তাবিদরা ভাবতে শুরু করলেন, যেভাবে সংকীর্ণ আনুগত্য, ক্ষুদ্র হিংসা-বিদ্বেষ ও মূর্খ সংস্কারকে প্রশ্রয় দেওয়া হলো, তাতে করে ভারত এক রাষ্ট্র হিসেবে কতদিন টিকে থাকবে? নবগঠিত ভারত রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নেহেরু যে সমস্যা ভাষার মধ্যে দেখেছিলেন, এশিয়া-আফ্রিকার নবগঠিত রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে সে সমস্যা দ্বি-বাচনিক অথবা বহুবাচনিক অথবা বহুতরবাচনিক সমাজের সমস্যা হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। কখনো বলা হয়েছে, এই সমস্যা যৌগিক সমাজ অথবা নিম্ন সমাজের সমস্যা। কখনো বলা হয়েছে, এগুলো রাষ্ট্র কিন্তু জাতি নয়। আবার কখনো বলা হয়, এগুলো জাতি বা রাষ্ট্র হতে পারেনি। আবার কখনোবা গোত্রবাদ, সংকীর্ণতাবাদ, সাম্প্রদায়িকতাবাদ অথবা অধিজাতীয়তাবাদের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় বৈপরীত্য, মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে জাতিগত বৈপরীত্য এবং কঙ্গোর ক্ষেত্রে গোত্রগত বৈপরীত্য নির্দেশ করে। ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হলো আঞ্চলিক অসন্তোষ। আর মরক্কোর ক্ষেত্রে সমস্যা হলো সামাজিক প্রথা আচরণে পার্থক্য। শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু তামিলরা সংখ্যাগুরু সিংহলিদের থেকে ভাষা, জাতিগত বৈশিষ্ট্য, আঞ্চলিক অবস্থান ও সামাজিক প্রথার বিচারে পৃথক। ইরাকের ক্ষেত্রে একই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে রয়েছে বিরোধ। এভাবে কুর্দিস্তান, লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে জাতি, গোত্র ও ভাষাগত বিরোধ রয়েছে। সম্প্রদায়ের প্রতি আনুগত্য শেষ বিচারে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যে পরিণত নাও হতে পারে। রাষ্ট্র যখন সম্প্রদায়গুলোকে একটি চূড়ান্ত সম্প্রদায়ে রূপ দিতে সক্ষম হয়, তখনই একটি রাষ্ট্র জাতির বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। এ ক্ষেত্রে জাতির কথা না বলে চূড়ান্ত আনুগত্যের কথা বলাই শ্রেয়। ইমার্সনের দৃষ্টিতে জাতি হলো: ‘Terminal community, the largest community that when the chips are down, effectively commands men’s loyalty, overriding the claims both of the lesser communities within it and those that cut across it or potentially enfold it within a still greater society... .’
ইমার্সনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করলে সংগতভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে—অনাগত দিনের সংকটে ভারত, ইন্দোনেশিয়া অথবা নাইজেরিয়া জাতি হিসেবে উত্তরণে সক্ষম হবে কি না? ১৯৭১ সালে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সমধর্মী রাষ্ট্র। এতৎসত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ অবধি একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠেছে কি না, তা প্রশ্নাতীত নয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উদ্ভবলগ্নে যে পার্থক্য এই রাষ্ট্রকে জাতি হিসেবে সুসংহত হতে বাধা সৃষ্টি করে, তা মূলত আদর্শিক। আমাদের জাতি গঠনের সমস্যা ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া অথবা মালয়েশিয়ার অনুরূপ নয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এসব দেশে ভাষাগত, জাতিগত, কৃষ্টিগত অথবা অঞ্চলগত বিরোধ জাতি গঠনের অন্তরায়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও জাতি গঠন কেন পরিপূর্ণভাবে সফল হলো না, সেই প্রশ্ন স্ববিরোধী মনে হতে পারে। আসলে কি তাই? বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জনগোষ্ঠীর একটি অংশ (ক্ষুদ্র অংশ) হলেও পাকিস্তানে বিশ্বাস করত। সেই অংশটি অবিভক্ত ব্রিটিশ-ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠের হাতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার কথা ভুলতে পারেনি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উদ্ভবের পর যে দলটি ক্ষমতাসীন হয়েছিল, তাদের দায়িত্ব ছিল জাতি গঠনের স্বার্থে এই আদর্শিক দ্বন্দ্বের রাজনীতিসম্মত সুরাহা করা। বাংলাদেশকে একান্তভাবেই ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে এই দলটি একটি আত্মবিরোধের জন্ম দিল। আমাদের সংবিধানে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের আগস্টে যে ভূখণ্ড নিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল, তাই হবে বাংলাদেশ। অথচ রেডক্লিফের রোয়েদাদে পূর্ব পাকিস্তানের যে মানচিত্র, সে মানচিত্রের ভিত্তি ছিল এ দেশেরই সংখ্যাগুরু মানুষেরই ধর্ম। পশ্চিমবঙ্গের লোকেরাও বাংলা ভাষায় কথা বলে, কিন্তু তারা ও তাদের নেতারা ১৯৪৭ সালে ভাষার ভিত্তিতে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চাননি। ইমার্সন যে আনুগত্যের কথা বলেছেন, সেই আনুগত্যের বিচারে তারা দিল্লিকেন্দ্রিক ভারত রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত। নিজেদের সত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে তারা বলে থাকেন, তারা হলেন ভারতীয় এবং ভারতীয় বাঙালি। সুতরাং এটা অত্যন্ত স্পষ্ট, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি এবং এর জাতিগত পরিচয় শুধু ভাষাভিত্তিক হতে পারে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অধীনে একটি সুসংহত জাতি গঠন করতে হলে ভাষা ও ধর্ম দুটোকেই গুরুত্ব দিতে হয়। আমাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই দুটোরই আবেগানুভূতি প্রবল। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর যে সংবিধান গৃহীত হয়, তাতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করায় এ দেশের জনগোষ্ঠীর বিপুল অংশের ধর্মানুভূতি আহত হয়। অথচ জাতীয় সংহতির স্বার্থে প্রয়োজন ছিল এ রকম আহত অনুভূতির উদ্ভব না ঘটানো।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়কালীন এবং অভ্যুদয়ের অব্যবহিত পর যে দলটি ক্ষমতায় গিয়েছিল, তারা জাতীয় ঐক্যের কথা চিন্তা না করে জাতীয় জীবনে একটি আদর্শিক ফাটল সৃষ্টি করে। এই ফাটল আরো প্রবল আকার ধারণ করে স্বাধীনতার সপক্ষ ও বিপক্ষ শক্তির বিভেদাত্মক স্লোগানের ফলে। অথচ নবীন রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন ছিল জাতীয় ঐক্যের। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার ধর্মানুভূতিকে স্বীকার করে নেওয়া এবং যুদ্ধকালীন বিরোধের ইতি ঘটিয়ে একটি সহমত সৃষ্টি করাই ছিল জাতীয় ঐক্য অর্জনের প্রশস্ত পথ। কিন্তু সেই পথে তো এই দলটি গেলই না, বরঞ্চ ১৯৭৫ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় শাসন কায়েম করে বিভিন্ন বিরোধী মত ও আদর্শের নিরাপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়ার যে সুযোগ ছিল, তারও কবর রচনা করা হলো। এর ফলে আদর্শিক দ্বন্দ্বের উত্তাপ প্রশমিত হওয়ার আর কোনো সুযোগই রইল না। অন্যদিকে ’৭২-এর সংবিধান প্রণেতারা মারাত্মক একটি স্ববিরোধিতার জন্ম দিয়েছিলেন; কারণ এই সংবিধানে বাংলাদেশের সব নাগরিকের ভোটাধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, অথচ নিজ নিজ আদর্শের ভিত্তিতে সব ধরনের দল গঠনের নিশ্চয়তা ছিল না। ধর্মীয় দলগুলো ছিল নিষিদ্ধ। এসব কারণে বাংলাদেশের অন্তর্গত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বহুমাত্রিক সমমর্মিতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ রাষ্ট্র জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হলো না।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান এদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে পরিবৃত হলেন। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা এই রাষ্ট্রের অন্তর্গত সব মানুষকে সত্তার পরিচয় আবিষ্কারে একটি আদর্শগত ভিত্তি দিয়েছে। এই ভিত্তি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান আদর্শিক দ্বন্দ্ব নিরসনে সুদূরপ্রসারী অবদান রাখতে সক্ষম। জিয়াউর রহমান লিখেছেন, ‘এ পর্যায়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যা ছাড়া জাতীয়তাবাদী দর্শনের আন্দোলন এবং তার মূল লক্ষ্য অর্থাৎ শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার কাজ হয়ে পড়বে অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর। আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে মোটামুটি সাতটি মৌলিক বিবেচ্য বিষয় রয়েছে, যা হচ্ছে—
১. বাংলাদেশের ভূমি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সীমানার মধ্যবর্তী আমাদের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক এলাকা।
২. ধর্ম ও গোত্র নির্বিশেষে দেশের জনগণ।
৩. আমাদের ভাষা বাংলা ভাষা।
৪. আমাদের সংস্কৃতি, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, উদ্দীপনা ও আন্তরিকতার ধারক ও বাহক আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি।
৫. দুইশ বছর উপনিবেশ থাকার প্রেক্ষাপটে বিশেষ অর্থনৈতিক বিবেচনার বৈপ্লবিক দিক।
৬. আমাদের ধর্ম, প্রতিটি নারী ও পুরুষের অবাধে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন ও রীতিনীতি পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা।
৭. সর্বোপরি আমাদের ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ, যার মধ্য দিয়ে আমাদের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন বাস্তব ও চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে সাতটি ভিত্তির কথা বলেছেন, সেই সাতটি নীতির সফল রূপায়ণই বাংলাদেশের অন্তর্গত জনগোষ্ঠীকে সমানুভূতির মানুষে পরিণত করতে পারে; একে রূপান্তরিত করতে পারে সর্বোচ্চ সম্প্রদায়গত সংহতিতে ও সংকটে একাট্টা হতে। এতেই শুধু বাংলাদেশ রাষ্ট্র থেকে জাতিতে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হবে। জিয়াউর রহমানের আরেকটি বড় অবদান বহুদলীয় গণতন্ত্র। এই বহুদলীয় গণতন্ত্র ’৭২-এর সংবিধানে নির্দেশিত খণ্ডিত বহুদলীয় গণতন্ত্র নয়। জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের সুবাদে সব মত ও পথের মানুষ রাষ্ট্রক্ষমতার অঙ্গনে নিরাপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের এই ধারা বাংলাদেশে জাতীয় সংহতি অর্জনের পথকে সুগম করে দিয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক জাতিবিরোধী চক্রান্তের ফলে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শাহাদাতবরণ করেন। তার তিরোধানের ফলে বাংলাদেশি জাতি গঠনের যে প্রয়াস তিনি পেয়েছিলেন, তাতে সাময়িকভাবে ছেদ পড়ে। আজ জিয়াউর রহমান নেই, রয়েছে তার কালজয়ী আদর্শ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। আগামী দিনে বাংলাদেশি জাতিরাষ্ট্র গঠনের জন্য এই আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। আজ বাংলাদেশে যে বিপর্যস্ত সময় চলছে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ যেভাবে বাংলাদেশকে গ্রাস করতে চাইছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই হতে পারে একমাত্র আদর্শিক ভিত্তি। শহীদ জিয়ার স্মৃতি অমর হোক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

