অবরুদ্ধ দেশের সাংবাদিকতা: প্রেক্ষিত একাত্তর-১

স্পোর্টস রিপোর্টার

অবরুদ্ধ দেশের সাংবাদিকতা: প্রেক্ষিত একাত্তর-১

বিজয়ের মাসে যে লেখাটি লিখতে চাইছি, তাতে একাত্তরের সাংবাদিকতার কথাই থাকবে। অবরুদ্ধ বাংলায় স্বাধীনতাকামী সংবাদপত্রগুলো কীভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, সে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানিদের দালাল হয়ে যারা সাংবাদিক হত্যায় অংশ নিয়েছে, তাদের কথাও বলা হবে। ১৯৭১ সালের বাস্তবতা দিয়ে সে সময়টি বিশ্লেষণ করতে হবে। তথ্য-উপাত্ত থেকে সেই বাস্তবতাকে খুঁজে নিতে হবে।

সংবাদমাধ্যম স্বাধীন কি স্বাধীন নয়, সেটা বোঝা যায়, তাতে কী ছাপা হচ্ছে আর কী দেখানো হচ্ছে, তা অনুধাবন করে। যদি চলমান সরকারের গুণগান ও অন্যদের বিষোদ্গার করা হতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সংবাদমাধ্যম মোটেই স্বাধীন নয়। স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়ে ঘোষণা থাকলেও কেউ সেই স্বাধীনতা ভোগ করার অবস্থায় থাকে না। ১৯৭১ সালেও সে রকম একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল এবং সে সময় সাংবাদিকেরা কীভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালে আমার বাবা সিরাজুদ্দীন হোসেন ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে ইত্তেফাক গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এরপর পাকিস্তানে কোনো অঘটন ঘটেনি, তা প্রমাণ করার জন্য পাকিস্তানি সামরিক সরকারই ইত্তেফাক নতুন করে চালু করার দায়িত্ব নেয়। সিরাজুদ্দীন হোসেন প্রথমে সে পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হতে চাননি, পরে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগমের অনুরোধে দায়িত্ব নেন। শর্ত দেন, নিজে যা বোঝেন, সেভাবেই লেখালেখি করবেন। ১৯৭১ সালের ইত্তেফাকে সিরাজুদ্দীন হোসেনের সেই সাহসী সাংবাদিকতার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সেই সময় ইত্তেফাকে তিনি যা যা লিখেছেন, তা নিয়ে আমরা একটা বইও প্রকাশ করেছি ‘জাহান্নামের আগুনে বসিয়া’ নামে। আগ্রহী পাঠক তাতে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।

অবরুদ্ধ নগরীর সাংবাদিকতা নিয়ে কথা বলতে গেলে তার পটভূমি নিয়েও খানিক আলাপ করে নিতে হয়। আর তার বর্ণনা করতে হলে অবধারিতভাবে সে সময়ের রাজনৈতিক অবস্থাটি সম্পর্কেও জানতে হয়। নতুন প্রজন্ম যেন বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে না যায়, সে জন্য ইতিহাসের কাছে নতজানু হয়েই ঘটনার বর্ণনা করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: