যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা

মহিউদ্দিন আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

একটি দেশের বিমানবাহিনী অতিশয় পুরোনো, অর্থনীতি নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতবিক্ষত, নেতৃত্ব কাঠামো হামলার ঝুঁকিতে—চারদিক থেকে সামরিক চাপ, আকাশে শত্রুর আধিপত্য। তাহলে কি তার পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা? কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কি তাকে নতিস্বীকার করতে হবে।

ইরান ঘিরে কয়েক মাসে অনেক বিশ্লেষক যেন আগেভাগেই রায় দিয়ে ফেলেছিলেন—‘না, ইরান বেশি দিন টিকবে না। তার সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়বে, জনগণ বিদ্রোহ করবে, তেহরান আত্মসমর্পণমূলক সমঝোতায় যেতে বাধ্য হবে।’ এই সরল হিসাবের প্রভাব শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যেই নয়, আরো অনেকের কথায়ও স্পষ্ট ছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বাস্তবতা সেই সহজ গল্পটি মানেনি। ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এ কথা সত্য। তার সামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, অর্থনীতি চাপে পড়েছে, জনগণ দুর্ভোগে পড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও সামরিক নেতৃত্বের ক্ষতিও হয়েছে। এর পারমাণবিক কর্মসূচিও হয়তো আরো কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারির মুখে পড়বে। তাই ইরানকে নিরঙ্কুশ বিজয়ী বলা সম্ভব না হলেও, এটাও সত্য—ইরান দ্রুত ভেঙে পড়েনি, আত্মসমর্পণমূলক অবস্থানে যায়নি এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে নিজের দর-কষাকষির ক্ষমতা ধরে রেখেছে। কেউ যদি একে পূর্ণ বিজয় বলতে না চান, তবু একে পরাজয় বলারও কোনো সুযোগ নেই।

সর্বশেষ ঘটনাবলি এই বাস্তবতাকে আরো স্পষ্ট করেছে। যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার প্রাথমিক কাঠামো, হরমুজ প্রণালি নিয়ে দর-কষাকষি, তেলবাজারের ওঠানামা, নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার প্রশ্ন, পারমাণবিক পরিদর্শন নিয়ে আলোচনা এবং লেবানন-হিজবুল্লাহ ফ্রন্টকে বৃহত্তর সমঝোতার অংশে পরিণত করা—এসবই দেখিয়েছে, ইরান শুধু বোমা খেয়ে চুপ করে বসে থাকেনি। সে যুদ্ধকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে সামরিক শক্তিশালী পক্ষকেও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক হিসাব করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

তাই যারা বলেছিল ইরান দীর্ঘদিন যুদ্ধ ধরে রাখতে পারবে না, তাদের প্রথম ভুল ছিল—তারা যুদ্ধকে শুধু অস্ত্রের হিসাব দিয়ে বিচার করেছিল। তারা দেখেছিল আমেরিকার বিমানশক্তি, ইসরাইলের গোয়েন্দা সক্ষমতা, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার যুদ্ধ এবং স্যাটেলাইট নজরদারি। বিপরীতে সব দিক দিয়ে অতিশয় দুর্বল ইরান। কিন্তু যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের খেলা নয়। যুদ্ধ হলো রাষ্ট্রের সহনশক্তি, জনগণের মনস্তত্ত্ব, ভূগোলের সুবিধা, শত্রুর ওপর খরচ চাপানোর ক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা।

দ্বিতীয় ভুল ছিল—সামরিক ক্ষতিকে রাজনৈতিক পরাজয় ভেবে নেওয়া। একটি দেশের ঘাঁটি ধ্বংস করা যায়, অস্ত্রাগার উড়িয়ে দেওয়া যায়, নেতাদের টার্গেট করা যায়; কিন্তু তাতে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি সবসময় ভেঙে যায় না। ইরানের ক্ষেত্রে সেটাই দেখা গেছে। সরকার পড়ে যায়নি, সামরিক কমান্ড পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়নি এবং কূটনৈতিক দর-কষাকষির টেবিলে তার অবস্থান হারিয়ে যায়নি।

তৃতীয় ভুল ছিল—ইরানের যুদ্ধপদ্ধতি না বোঝা। ইরান প্রচলিত অর্থে যুদ্ধ করতে যায়নি। সে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে—হরমুজ প্রণালি, তেলবাজার, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়া, ড্রোন, মিসাইল ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে। তার কৌশল ছিল সরাসরি পরাজিত করা নয়; বরং শত্রুর বিজয়কে ব্যয়বহুল করে তোলা।

এই জায়গায় হরমুজ প্রণালি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ শুধু একটি জলপথ নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির একটি শ্বাসনালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। ইরান জানে, সে আমেরিকার নৌবাহিনীকে সমুদ্রে পরাজিত করতে পারবে না। কিন্তু মাইন, ড্রোন, ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও অনিশ্চয়তার মাধ্যমে সে এই জলপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ না করেও সে তেলবাজার, বীমা খরচ, ট্যাংকার চলাচল ও গালফ মিত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকাকে প্রতিদিন নতুন হিসাব করতে বাধ্য করেছে। তেলবাজারও তাই যুদ্ধের অংশ হয়ে গেছে। যুদ্ধের ময়দানে শুধু মিসাইল পড়ে না; বাজারও কেঁপে ওঠে। হরমুজে উত্তেজনা বাড়লে তেলের দাম বাড়ে, জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সরবরাহ শৃঙ্খল চাপে পড়ে আর শান্তির আভাস এলেই দাম কমে। যে রাষ্ট্র বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথের পাশে দাঁড়িয়ে আছে, তাকে শুধু তার বিমানবাহিনীর দুর্বলতা দিয়ে বিচার করা যায় না।

লেবানন ফ্রন্টও একই কারণে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে ইরানের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ককে শুধু বোঝা মনে করেছিলেন। আংশিকভাবে তা সত্য; প্রক্সি নেটওয়ার্ক সবসময় নিয়ন্ত্রণে থাকে না এবং এসব ফ্রন্টে ইরানেরও ক্ষতি হয়। কিন্তু একই সঙ্গে এগুলো তাকে বিস্তৃত চাপ তৈরির সুযোগ দেয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রতিক্রিয়া শুধু তেহরান বা ইসফাহানে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা বৈরুত, বাগদাদ, সানা, গালফ জলপথ এবং তেলবাজার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। লেবাননে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাও ঝুঁকির মুখে পড়ে—এটাই ইরানের আঞ্চলিক লিভারেজের বাস্তবতা।

আরেকটি ভুল ছিল অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রধসের পূর্বশর্ত ধরে নেওয়া। ইরানে অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক দমন, তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ আছে—তা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কিন্তু ধরে নেওয়া হয়েছিল, বিদেশি হামলার মুখে এই অসন্তোষ জাতীয় সংহতিকে ছাপিয়ে যাবে। বাস্তবতা ভিন্ন প্রমাণিত হয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর সমালোচক হয়েও একজন ইরানি বিদেশি বোমার নিচে রাষ্ট্রের পতন চান না—কারণ পারস্য জাতীয়তাবাদের শিকড় অনেক প্রাচীন। ১৯৫৩ সালের মোসাদ্দেক উৎখাত থেকে আট বছরের ইরাক যুদ্ধ—বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রতিটি অধ্যায় শিখিয়েছে, বহিঃশত্রু সবসময় অভ্যন্তরীণ বিভেদের চেয়ে বড় শত্রু। দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী জাতির চরিত্র এত সহজে নিচে নামে না। এই মনস্তত্ত্ব না বুঝলে ইরানকে বোঝা যায় না।

এখন প্রশ্ন হলো—এই যুদ্ধে আমেরিকার লাভ-ক্ষতি কী হলো? সামরিক দিক থেকে আমেরিকা দেখিয়েছে, তার আকাশশক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও দূরপাল্লার আঘাত করার ক্ষমতা এখনো বিশাল। কিন্তু সেই ক্ষমতার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মূল্যও বিশাল। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম পর্যায়েই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এই যুদ্ধ আমেরিকার জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়েছে। CSIS-এর এক প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অপারেশন Epic Fury-এর প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। পরে মে মাসে পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের সরাসরি খরচ ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়।

ইরান তুলনামূলকভাবে কম খরচের ড্রোন ও মিসাইল ঠেকাতে আমেরিকা ও তার মিত্রদের অনেক বেশি দামের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়। সামরিকভাবে আঘাত ঠেকানো গেলেও অর্থনৈতিক ক্ষয় চলতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আমেরিকার অস্ত্রভান্ডার ও যুদ্ধপ্রস্তুতির ওপর চাপ—বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট, থাড, এসএম-৩, এসএম-৬ ধরনের ইন্টারসেপ্টর ও দূরপাল্লার প্রিসিশন গাইডেড মিসাইল দ্রুত খরচ হলে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতিও দুর্বল হয়।

কিন্তু এই ক্ষতির মধ্যেও একটি গোষ্ঠী লাভবান হয়েছে—আমেরিকার সমরাস্ত্র শিল্প। রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধ ব্যয়, কিন্তু অস্ত্র কোম্পানির জন্য যুদ্ধবাজার। পেন্টাগন যখন বলে অস্ত্রভান্ডার চাপে পড়েছে, তখন নতুন অর্ডার আসে। ফলে জনগণের করের টাকা একদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পুড়ে যায়, অন্যদিকে তা অস্ত্রশিল্পের আয় ও মুনাফার উৎসে পরিণত হয়।

সাধারণ মানুষ মুদ্রাস্ফীতি, করের চাপ, ঋণ, জ্বালানি মূল্য ও সামাজিক খাতে সংকোচনের বোঝা বহন করে; আর অস্ত্রশিল্প পায় নতুন চুক্তি, উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ ও ভবিষ্যৎ বাজেটের নিশ্চয়তা।

এই বাস্তবতা নতুন কিছু নয়। ১৯৬১ সালে বিদায়ি ভাষণে প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার নিজেই আমেরিকার জনগণকে সতর্ক করেছিলেন—সামরিক বাহিনী ও অস্ত্রশিল্পের মধ্যে গড়ে ওঠা এই আঁতাত, যাকে তিনি নাম দিয়েছিলেন ‘মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স’। তিনি বলেছিলেন এই আঁতাত একদিন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকেই প্রভাবিত করতে পারে। ছয় দশক পর ইরান যুদ্ধ সেই পুরোনো সতর্কবার্তাকেই নতুন করে আমেরিকার জনগণের সামনে সত্য হিসেবে তুলে ধরল।

এই যুদ্ধ আরো একটি বড় সত্য সামনে এনেছে : আমেরিকার যুদ্ধযন্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া ব্যয়বহুল, প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ব্যয়বহুল, প্রতিটি বিমানঘণ্টা ব্যয়বহুল, প্রতিটি বিমানবাহী রণতরী ব্যয়বহুল। এই ব্যয়বহুল যুদ্ধযন্ত্র যখন কম খরচের ড্রোন, ছোট নৌযান, মাইন, সস্তা মিসাইল ও ছড়ানো ফ্রন্টের মুখে পড়ে, তখন সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একক পরাশক্তির যুগ তখনই দুর্বল হতে শুরু করে, যখন সেই পরাশক্তির সামরিক শক্তি তার অর্থনৈতিক সামর্থ্যের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে যায়। তাহলে বড় শিক্ষা কী? সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব আর রাজনৈতিক বিজয় এক জিনিস নয়। আমেরিকা ও ইসরাইল আঘাত করতে পারে, অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে, আকাশে আধিপত্য দেখাতে পারে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে হলে তার রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি, জনগণের মনস্তত্ত্ব, ভূগোল, আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি সহনশক্তিকে ভাঙতে হয়। ইরানের ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। এই অভিজ্ঞতা দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর জন্যও শিক্ষা বহন করে। সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকা মানেই রাজনৈতিক পরাজয়ের নিশ্চয়তা নয়। যে দেশ নিজের ভূগোল বোঝে, আকাশসীমা ও উপকূলকে রক্ষা করতে পারে, সস্তা ও বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে, আঞ্চলিক ও কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখে—তাকে সহজে ভেঙে ফেলা যায় না। ভিয়েতনাম একসময় এই সহনশক্তি দিয়ে পরাশক্তিকে ক্লান্ত করেছে; ইউক্রেন সস্তা ড্রোন দিয়ে বড় সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে খরচের সমস্যা তৈরি করেছে; ইরান হরমুজ ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্ককে কৌশলগত চাপের অস্ত্রে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের জন্যও এখানে একটি প্রতিরক্ষামূলক শিক্ষা আছে। শক্তিশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে সামরিক সমতা বাস্তবসম্মত নয়; কিন্তু সস্তা দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, নদী-উপকূলভিত্তিক নিরাপত্তা, ড্রোন ও সাইবার সক্ষমতা, বহুমুখী কূটনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ন্যূনতম অভ্যন্তরীণ ঐক্য—এসব গড়ে তোলা সম্ভব। এটি কোনো আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নয়; বরং শান্তির সময়েই তৈরি করতে হয় এমন দূরদর্শী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি।

শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দানে শুধু কে বেশি বোমা ফেলল, সেটাই সব নয়। বড় প্রশ্ন হলো—কে নিজের লক্ষ্য অর্জন করল, কে কাকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে পারল, কে কার ওপর খরচ চাপাতে পারল এবং যুদ্ধ শেষে কার হাতে দর-কষাকষির কার্ড রইল। এই হিসাবেই ইরানকে বুঝতে হবে। ইরান আমেরিকাকে সামরিকভাবে হারায়নি; কিন্তু সে দেখিয়ে দিয়েছে—সামরিকভাবে দুর্বল হওয়া আর কৌশলগতভাবে পরাজিত হওয়া এক কথা নয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন