আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

দলীয় দালালতন্ত্রে বন্দি রাজনীতি ও মিডিয়া

সরদার ফরিদ আহমদ

দলীয় দালালতন্ত্রে বন্দি রাজনীতি ও মিডিয়া
সরদার ফরিদ আহমদ

বাংলাদেশে রাজনীতি বিশ্লেষণ এখন আর সহজ কাজ নয়। সত্য বললেই আপনি হয়ে যান বিতর্কিত। কাউকে সমালোচনা করলেই আপনার কপালে সেঁটে দেওয়া হয় দলীয় তকমা। বিএনপির ভুল ধরলে আপনি জামায়াতি। জামায়াতের সমালোচনা করলে আপনি বিএনপির দালাল। বাস্তবতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সত্য কথা বলাটাই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণতন্ত্র; কারণ গণতন্ত্র টিকে থাকে সমালোচনার ওপর, টিকে থাকে প্রশ্নের ওপর। কিন্তু আমরা আজ এমন এক বাস্তবতায় বাস করছি, যেখানে প্রশ্ন করাই অপরাধ।

এর ফলে জন্ম হয়েছে একদল দলদাস রাজনৈতিক বিশ্লেষকের। টকশো খুললেই দেখা যায় একই মুখ, একই বুলি, একই ভাষা। তারা বিশ্লেষক নন। তারা মুখপাত্র। তারা দলীয় মুখপাত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা দলের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্রের চেয়েও বেশি আগ্রাসী। তাদের কথাবার্তার উদ্দেশ্য একটাই—নেতাকে খুশি করা, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সন্তুষ্ট করা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি সুবিধাজনক জায়গা নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

রাজনীতিতে আদর্শের জায়গা অনেক আগেই সংকুচিত হয়েছে। এখন চলছে সুবিধার রাজনীতি, স্বার্থের রাজনীতি। রাজনীতিবিদদের মতো অনেক বিশ্লেষকও এখন হিসাব কষে কথা বলেন। এই কথা বললে কে অসন্তুষ্ট হবে? ওই কথা বললে কে খুশি হবে? সত্য কোথায়, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। এটি শুধু নৈতিক সংকট নয়, এটি একটি কাঠামোগত সংকট। আমেরিকার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট ডাল বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শর্ত হলো ‘এনলাইটেনড আন্ডারস্ট্যান্ডিং’; অর্থাৎ জনগণের কাছে পর্যাপ্ত, নির্ভরযোগ্য ও বহুমাত্রিক তথ্য থাকা। যখন এই তথ্যপ্রবাহ বিকৃত হয়, তখন গণতন্ত্র কেবল নামমাত্র থাকে। বাংলাদেশে এখন ঠিক সেটাই ঘটছে।

বিএনপি একটি বড় দল, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। এই দলের ভেতরে চাঁদাবাজ আছে, দখলবাজ আছে, প্রভাব খাটানোর রাজনীতি আছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তৃণমূলে এই বাস্তবতা সবাই জানে। কিন্তু এই কথাগুলো বললেই আপনি হয়ে যাবেন বিএনপির শত্রু। আপনাকে বলা হবে ষড়যন্ত্রকারী, বলা হবে আপনি অন্য দলের এজেন্ট। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে—রাজনৈতিক সুযোগসন্ধান, সুবিধাভিত্তিক অবস্থান এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্বাসনের অভিযোগ। এসব কথা বললেই আপনি জামায়াতবিরোধী শক্তির দালাল হয়ে যান। রাজনীতিতে কেউই নিষ্পাপ নয়। কিন্তু আমরা এমন ভান করি যেন আমাদের পছন্দের দলটি ফেরেশতা।

বিএনপি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি—এই অভিযোগ অমূলক নয়। ভারতের আধিপত্যের প্রশ্নে দলটির অবস্থানও স্পষ্ট নয়। ভোটের অঙ্কে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট কাঠামোর সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগও রয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ না ‘না’—এই প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্পষ্ট ছিল না। আর এই অস্পষ্টতাই তরুণদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে। একটি বড় দল হিসেবে বিএনপির কাছ থেকে স্পষ্টতা প্রত্যাশিত ছিল সবার; কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছিল ভিন্ন চিত্র। কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, বিষয়টি জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলে নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ‘না’ প্রচার চালান। কোথাও আবার ‘হ্যাঁ’-বিরোধী সভাও হয়েছে। তরুণরা মনে করেছিল, বিএনপি দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা বলছিল, ভারত, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে বিএনপির অবস্থান মিলছে কীভাবে? জুলাই বিপ্লব তরুণদের আন্দোলন; রক্ত তরুণদের, শহীদ তরুণদের। গণভোট সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক স্বীকৃতি। সেখানে দাঁড়িয়ে অস্পষ্টতা মানে আন্দোলনের চেতনাকে আঘাত করা। তবে তারেক রহমান সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, “আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সেজন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব—ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে, একই সঙ্গে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটা দেবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’-এর, সেখানে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।”

অনেকে বলছেন, তারেক রহমান দলকে অনেক ঝুঁকি থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ নিয়ে দলের অস্পষ্ট অবস্থান থাকলে সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি হতো। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলকে হতে হয় সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্ষম ও নীতিগতভাবে সুসংগঠিত। যে দল সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়, সে দল নেতৃত্ব দিতে পারে না।’ তরুণরা প্রশ্ন করছিল, বিএনপি আসলে কী চায়—পরিবর্তন, নাকি সুবিধাজনক সমঝোতা? এই প্রশ্নের উত্তর না দিলে ক্ষোভ বাড়ত, দূরত্ব বাড়ত। তারেক রহমান ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিতর্কের অবসান হলো। সাধারণ মানুষও স্বস্তি পেল।

আজ আমাদের রাজনীতিতে সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবে দেখা হয়। এই সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বহু বছর ধরে। আওয়ামী লীগ আমলে এটি চরমে পৌঁছেছিল। এখন নতুন করে রূপ বদলে চলছে। মূলধারার মিডিয়ার বড় অংশও এই সংকটের শরিক। সংবাদ নির্বাচন এখন আর নিউজ ভ্যালুর ভিত্তিতে হয় না, হয় আনুগত্যের ভিত্তিতে। কে কোন দলকে কতটা খুশি করতে পারছে, সেটিই বড় বিষয়। ফলে মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নোয়াম চমস্কি বহু আগেই বলেছিলেন, ‘করপোরেট ও রাজনৈতিক স্বার্থ যখন মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তখন মিডিয়া জনগণের চোখ নয়, ক্ষমতার মাইক হয়ে ওঠে।’

বাংলাদেশে আজ মিডিয়ার বড় অংশই ক্ষমতার মাইক। যেসব মিডিয়া দলদাস হতে চায় না, তারা আছে চাপে। বেশিরভাগ সাংবাদিক হয়ে গেছেন দলীয় কর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্ট্যাটাস দেখলে হতবাক হতে হয়। আর এই শূন্যতায় মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে গেছে। সেখানে তথ্য আছে, ভিডিও আছে, লাইভ আছে, বিকল্প কণ্ঠ আছে; কিন্তু সেখানে মিথ্যা তথ্যও আছে, গুজব আছে এবং পরিকল্পিত বিভ্রান্তিও আছে। তারপরও সামাজিক মাধ্যম একটি জানালা খুলে দিয়েছে। মানুষ নিজের চোখে কিছু দেখছে, নিজের কানে কিছু শুনছে।

এতে কি মানুষ পুরো সত্য পাচ্ছে? না। কিন্তু মানুষ কি কিছুই জানছে না? সেটাও নয়। বিশেষ করে তৃণমূলের মানুষ অনেক কিছু জানে। কে চাঁদা নেয়, কে ভয় দেখায়, কে দখল করে, কোন নেতা কোন কর্মীকে আশ্রয় দেয়—এগুলো তাদের অজানা নয়। ভুক্তভোগীরা জানে। ছোট ব্যবসায়ীরা জানে। মাঝারি ব্যবসায়ীরা জানে। বড় ব্যবসায়ীরা জানে। তারা জানে, কারা মাস শেষে টাকা নিতে আসে, কারা ফোন করে হুমকি দেয়, কারা থানার নাম ভাঙায়। এই বাস্তব জ্ঞান কোনো টকশো বিশ্লেষকের ভাষণের চেয়ে শক্তিশালী। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জেমস স্কট বলেছেন, সাধারণ মানুষের একটি ‘হিডেন ট্রান্সক্রিপ্ট’ থাকে। অর্থাৎ প্রকাশ্যে তারা চুপ থাকে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা সব বোঝে। বাংলাদেশের মানুষও অনেক কিছু বোঝে। তাই ভোটের সময় তারা অনেক ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। জনগণ পুরোপুরি অন্ধ নয়।

তবে বিপদ অন্য জায়গায়। যখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মিথ্যা বলেন, যখন মিডিয়া পক্ষ নেয়, তখন সমাজে একটি নৈতিক মানদণ্ড ভেঙে পড়ে। মানুষ ভাবতে শেখে—সবাই মিথ্যাবাদী। এই মানসিকতা দীর্ঘ মেয়াদে ভয়াবহ। কারণ তখন সত্য আর মিথ্যার পার্থক্য গুরুত্ব হারায়। গণতন্ত্র তখন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে হলে কয়েকটি বিষয় জরুরি—

এক. রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কথা বলতে হবে।

দুই. মিডিয়াকে ন্যূনতম পেশাদারত্বে ফিরতে হবে।

তিন. রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সমালোচনাকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা।

চার. নাগরিক সমাজকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

সত্য বলা যদি অপরাধ হয়ে যায়, তবে সমাজ টিকে থাকতে পারে না। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে বিএনপির ভুল ধরলে আপনি বিএনপিবিরোধী হবেন না। জামায়াতের সমালোচনা করলে আপনি জামায়াতবিরোধী হবেন না। আপনি হবেন কেবল একজন নাগরিক, যিনি সত্য বলেন। সত্যের পক্ষ নেওয়াই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় পরিচয়। এই জায়গায় পৌঁছাতে পারলেই কেবল রাজনীতি আবার মানুষের হবে। নইলে রাজনীতি থাকবে কেবল দলবাজদের দখলে।

হয়তো বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকেই ভাবছেন—এখন যা ইচ্ছা তা-ই করে ফেলা যাবে। এটি ভয়ংকর ভুল ধারণা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের চাওয়া খুবই সাধারণ। তারা ক্ষমতা দখলের খেলায় আগ্রহী নয়। তারা একটাই জিনিস চায়—ভোটাধিকার। নিজের ভোট নিজে দেওয়ার অধিকার। যাকে খুশি তাকে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা। মানুষ যাকে রায় দেবে, তিনিই ক্ষমতায় আসবেন। অপছন্দের কেউ এলেও সমস্যা নেই; কিন্তু ভোটটা যেন মানুষের নিজের হয়। এই মৌলিক চাওয়াটুকুই এখন হুমকির মুখে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে ভয়াবহ খবর। ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে। খুন করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের লক্ষ করে ভয় ছড়ানো হচ্ছে। তারা যেন ভোটকেন্দ্রে না যান, সেই উদ্দেশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রহনন করা হচ্ছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো পরিকল্পিত।

কিন্তু ইতিহাস বলে, এর পরিণতি কখনো ভালো হয় না। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। দিনের ভোট রাতে করেছে। কেন্দ্র দখল করেছে। ফল কী হয়েছিল, সবাই দেখেছে। ক্ষমতা যত শক্তই মনে হোক, টেকেনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এবার পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর। দেশে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ভোটার আছে, যারা কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি বা ভোট দেয়নি। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৮ বছর। এই প্রজন্ম ভোটাধিকার কী জিনিস, তা জানতে চায়। তারা ভিক্ষা চায় না, তারা অধিকার চায়। এই প্রজন্মই ছিল জুলাই বিপ্লবের চালিকাশক্তি। জুলাইয়ের তরুণরা ভ্যানগার্ড হিসেবে সামনে ছিল। এখনো তারা আছে—সংগঠিত, সচেতন, দৃঢ়।

৫ আগস্টের স্মৃতি এখনো টাটকা। জুলাই বিপ্লবে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। ৪০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকে পঙ্গু হয়েছেন। অনেকে চোখ হারিয়েছেন। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। দেয়ালের লেখা এখনো মুছে যায়নি। এই তরুণরা হাসিনার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্রনির্ভর ফ্যাসিস্টকে তাড়াতে পেরেছে। তাহলে নতুন কোনো চাঁদাবাজ, দখলদার বা ভোটকেন্দ্র দখলের স্বপ্নদ্রষ্টা তাদের কাছে কিছুই নয়—একেবারে তুচ্ছ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হান্না আরেন্ট বলেছেন, ‘ক্ষমতার আসল উৎস হলো জনগণের সম্মতি। বন্দুক, লাঠি বা ভয় দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না।’ রবার্ট ডাল বলেছেন, ‘গণতন্ত্র মানে কেবল নির্বাচন নয়; গণতন্ত্র মানে নাগরিকদের সমান ও কার্যকর অংশগ্রহণ। ভোটাধিকার ছাড়া গণতন্ত্র একটি ফাঁকা শব্দ।’

যারা ভাবছেন ভয় দেখিয়ে মানুষকে ঘরে আটকে রাখবেন, তারা ইতিহাস থেকে কিছুই শেখেননি। বাংলাদেশের মানুষ নির্বোধ নয়। তারা দেখছে। বুঝছে। মনে রাখছে। ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারলেও মানুষ ঠিকই হিসাব রাখে—কে বাধা দিল, কে হুমকি দিল, কে অপমান করল। এই হিসাব একদিন চুকাতে হয়। আজ যারা নারীদের ভয় দেখাচ্ছে, কাল তারাই জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়বে।

সাধারণ মানুষের চাওয়া খুব ছোট। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। একটি নিরাপদ ভোটকেন্দ্র। একটি সিল দেওয়ার অধিকার। এই চাওয়াকে উপেক্ষা করলে তার মূল্য দিতে হবে। কারণ জুলাইয়ের তরুণরা এখনো রাস্তায় আছে। কারণ শহীদদের রক্ত এখনো শুকায়নি। কারণ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে।

লেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন