প্রধানমন্ত্রীর কাজে আস্থা বেশিরভাগ নাগরিকের

প্রধানমন্ত্রীর কাজে আস্থা বেশিরভাগ নাগরিকের

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে পরিচালিত এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের প্রতি ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষের সন্তুষ্টির চিত্র উঠে এসেছে। একই জরিপে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা।

বিজ্ঞাপন

‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ শীর্ষক এই জরিপ পরিচালনা করেছে ডপলার অপিনিয়ন রিসার্চ। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনের মাল্টিপারপাস হলে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপে জানতে চাওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব কতটা ভালো বা খারাপভাবে পালন করছেন। উত্তরে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তিনি ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়—বিভিন্ন শ্রেণির উত্তরদাতাদের মধ্যেই এ মূল্যায়নের পার্থক্য খুব বেশি নয়।

রাজনৈতিক সমর্থনের হিসাবেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইতিবাচক মূল্যায়ন দেখা গেছে। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৮০ শতাংশ তার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যেও ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের তুলনায় সরকারের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির হার কিছুটা কম। জরিপে ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিপরীতে ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশ সরকারের কর্মকাণ্ডকে খারাপ বলেছেন।

দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে কি না—এ প্রশ্নে ৪৮ দশমিক ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ৩৫ দশমিক ৬০ শতাংশ মনে করেন, দেশ ভুল পথে যাচ্ছে। কোনো মত দেননি ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।

দলীয় সমর্থনের দিক থেকে বিএনপির ৬৫ দশমিক ৫০ শতাংশ সমর্থক মনে করেন দেশ সঠিক পথে রয়েছে। জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে এ হার ৪৪ শতাংশ এবং এনসিপির সমর্থকদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ২০ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ দেশ সঠিক পথে রয়েছে বলে মনে করেন।

জরিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে মানুষের অর্থনৈতিক ও দৈনন্দিন জীবনের চাপ। কোনো তালিকা না দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা জানতে চাইলে ৫৯ দশমিক ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কথা বলেছেন। প্রায় একইসংখ্যক—৫৯ দশমিক ১০ শতাংশ—নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং কর্মসংস্থান—৩০ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেই সরকারের প্রতি অসন্তোষ সবচেয়ে বেশি। জরিপে ৮৯ দশমিক ৪০ শতাংশ মানুষ সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে খারাপ বলেছেন। গ্যাস ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ৭৯ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ৬৯ দশমিক ১০ শতাংশ নেতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন।

ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও অধিকাংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক মত দিয়েছেন। ৯৫ দশমিক ২০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা নিজেদের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনে নিরাপদ বোধ করছেন। মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে এ হার ৯৭ দশমিক ১০ শতাংশ। হিন্দুদের মধ্যে ৮২ শতাংশ এবং বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে ৮১ দশমিক ১০ শতাংশ এমন মত দিয়েছেন।

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের প্রতি ৭৮ দশমিক ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন জানিয়েছেন। করনীতির প্রতি সমর্থন রয়েছে ৭০ দশমিক ৭০ শতাংশের। এ ছাড়া ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, গণভোটে দেওয়া রায় সরকারের বাস্তবায়ন করা উচিত।

সংসদে বিরোধী দলের নেতাদের ভূমিকা নিয়েও জরিপে মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সংসদীয় ভূমিকা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন ৪৭ দশমিক ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে এ হার ৩৯ দশমিক ৮০ শতাংশ।

জরিপের জন্য ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের একটি জরিপে অংশ নেওয়া ১০ হাজার ৪১৩ জনের সঙ্গে সম্প্রতি টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জন এবার অংশ নেন। দেশের ৬৪ জেলার ৪৮৯টি ওয়ার্ড ও গ্রামের মানুষের মতামত এতে প্রতিফলিত হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন