তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক কেন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক কেন

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মূল শর্তটি ধরা পড়ে অ্যাডাম প্রজেওয়ার্সকির একটি পর্যবেক্ষণে: গণতন্ত্র এমন ব্যবস্থা, যেখানে দলগুলো নির্বাচনে হারতে পারে এবং হেরে গেলে ফল মেনে নেয়। ফল অনিশ্চিত থাকা এবং ফল মেনে নেওয়া—এ দুটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ হলেই নির্বাচন অর্থবহ হয়। রাজনীতিবিজ্ঞানে দ্বিতীয় শর্তটিকে বলা হয় পরাজিতের সম্মতি। স্যামুয়েল পি হান্টিংটন এর সঙ্গে যোগ করেছিলেন তার দ্বৈত-হস্তান্তর পরীক্ষা (two-turnover test) : কোনো গণতন্ত্রকে সুসংহত বলা যায় তখনই, যখন ক্ষমতার হাতবদল অন্তত দুবার শান্তিপূর্ণভাবে ঘটেছে। এই দুই শর্তের কেন্দ্রে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়: নির্বাচন পরিচালনার সময় রেফারির আসনে কে থাকবেন এবং তার নিরপেক্ষতায় পরাজিত পক্ষ কতটা আস্থা রাখতে পারবে। বাংলাদেশ এই প্রশ্নের একটি উত্তর খুঁজে নিয়েছিল ১৯৯৬ সালে, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। তার নাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা কয়েকটি ধারণা তুলে ধরেন। প্রস্তাব এসেছে, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেখান থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। কেউ বলেছেন, উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে সেই দায়িত্ব দিতে হবে। কেউ বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকেই সরকারপ্রধান করা যায়। অথচ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; এমনকি সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত প্রস্তাবও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে। সরকারের চিফ হুইপ জানিয়েছেন, ৯ নভেম্বর শুরু হওয়া অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব উঠছে না। অর্থাৎ আলোচনার কক্ষে উচ্চারিত একটি ধারণা জনমনে সিদ্ধান্তের চেহারা নিয়েছে আর উত্তাপ ছড়িয়েছে এর আগেই।

বিজ্ঞাপন

এই বিতর্কের মধ্যে একটি বিষয় প্রায় অনুচ্চারিত থেকে যাচ্ছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট সেই বিলোপের বিধান বাতিল করেন এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে আপিল বিভাগ এর বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে সেই রায় বহাল রাখেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী ৫৮ক থেকে ৫৮ঙ পর্যন্ত যে অনুচ্ছেদগুলো সংযোজন করেছিল, সেগুলোর একটিতে (৫৮গ) সংসদ ভেঙে যাওয়া বা মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগের কাঠামো ছিল। আদালতের রায়ে এর সাংবিধানিক ভিত্তি আবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থাকবে কি না—সে প্রশ্নের উত্তর এখন রায়ের মধ্যেই আছে। কোন পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা অবশ্য এখনো নেই। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি ত্রয়োদশ সংশোধনীর কাঠামোয় ফেরার কথা বলে আসছে আর এনসিপি চায় জুলাই সনদের পদ্ধতি। আমার অবস্থান পুরোনো ও পরীক্ষিত কাঠামোর পক্ষে, প্রয়োজনে যার নির্দিষ্ট ধারা সংশোধন করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই ২০১১ সালের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন কমিটি তখন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখার পক্ষে একমত হলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিলুপ্তির সিদ্ধান্তই জানানো হয়েছিল। এ থেকে একটি শিক্ষা পাওয়া যায় : কমিটির কক্ষে ঐকমত্য হওয়া আর সেই ঐকমত্য টিকে থাকা এক কথা নয়। মন্ত্রী এ-ও বলেছেন, সে সময়ের একদলীয় প্রবণতার সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিস্থিতি মেলে না। কথাটি ঠিক হলে আজকের সুযোগ আরো বড় : আদালতের রায়ের ওপর দাঁড়িয়ে একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা বেছে নেওয়া যায়, নতুন করে বিতর্কের ময়দান খোলার প্রয়োজন পড়ে না।

এখন দেখা যাক, ‘নতুন’ প্রস্তাবগুলো কতটা নতুন। গত বছরের জুলাইয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল, তাতেই উচ্চকক্ষের ভূমিকা ছিল। উচ্চকক্ষের স্পিকার বা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় কমিটি প্রধান উপদেষ্টার নাম ঠিক করবে; সেখানে সিদ্ধান্ত না হলে উচ্চকক্ষের সদস্যরা ক্রমভিত্তিক ভোটে (ranked-choice voting) তা নির্ধারণ করবেন। সেই আলোচনায় ঐকমত্য হয়নি। পরে জুলাই সনদে ভিন্ন একটি ধাপভিত্তিক পদ্ধতি এসেছে, যার কয়েকটি ধাপ নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল আপত্তি জানিয়েছিল। তার মানে, যে ধারণা নিয়ে আজ আবার আলোচনা হচ্ছে, তা এক বছরের বেশি আগে একবার আলোচিত হয়ে অমীমাংসিত থেকেছে। একই প্রশ্নে ফিরে গিয়ে ভিন্ন পোশাকে একই প্রস্তাব হাজির করলে নতুন কোনো সমাধান আসে না; আসে শুধু মতভেদের নতুন সুযোগ।

উচ্চকক্ষকেন্দ্রিক প্রস্তাবের একটি কাঠামোগত দুর্বলতাও আছে। যে প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখনো অস্তিত্বেই আসেনি আর তার গঠন নিয়েই সরকারি ও বিরোধী দল একমত নয়। বিএনপি তার ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলেছে; জামায়াতে ইসলামী চায় ভোটের অনুপাতে। কমিটির বৈঠকে কেউ কেউ প্রশ্নও তুলেছেন, বাংলাদেশের উচ্চকক্ষ আদৌ দরকার কি না; বরং একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা যায় কি না। এমন অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি নির্দিষ্ট ও জরুরি ব্যবস্থাকে একটি অনিশ্চিত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল করলে একটি অমীমাংসিত বিতর্ক আরেকটিকে আটকে দেয়। দ্বিকক্ষ সংসদ হবে কি না, হলে কীভাবে হবে—এ সিদ্ধান্ত যত দিন না হচ্ছে, ততদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতিও ঝুলে থাকবে।

দ্বিতীয় আপত্তিটি নিরপেক্ষতার প্রশ্নে। জেমস ম্যাডিসন ফেডারেলিস্ট পেপার্সের দশম নিবন্ধে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, কাউকে তার নিজের মামলার বিচারক হতে দেওয়া হয় না । উচ্চকক্ষের সদস্যরা ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হোন বা আসনের অনুপাতে, তারা দলের প্রতিনিধি; সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারও দলীয় দর-কষাকষিরই ফল। যে সরকারের কাজ দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিচালনা করা, তার নেতৃত্ব সেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোরই গড়া কাঠামো থেকে এলে নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি নতুন করে ওঠে। হান্টিংটন প্রতিষ্ঠানের মান যাচাইয়ে যে চারটি মানদণ্ড দিয়েছেন (Adaptability, Complexity, Autonomy, Coherence), তার একটি স্বাতন্ত্র্য (Autonomy), অর্থাৎ অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মূল শক্তি ওই স্বাতন্ত্র্যেই।

ইতিহাসের দিকেও একবার তাকানো যায়। ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিবারই ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে। হান্টিংটনের হাতবদল-মানদণ্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এ অভিজ্ঞতা তুচ্ছ নয়। এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বর্জন করেছে, আর ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ তুলনা কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না, কিন্তু যে ব্যবস্থা তিন দফায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর নিশ্চিত করেছিল, তাকে নিয়ে নতুন নকশার পরীক্ষায় নামার আগে সেই ইতিহাসকে হিসাবে রাখাও জরুরি।

বিপরীত মতেরও যুক্তি আছে এবং তা উপেক্ষণীয় নয়। এনসিপি বলছে, ত্রয়োদশ সংশোধনীর কাঠামো বিচার বিভাগের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল এবং অতীতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে; তারা ১/১১-এর মতো পরিস্থিতির কথাও বলেছে। তাদের মতে, জুলাই সনদে বর্ণিত পদ্ধতিই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য উপযুক্ত। এই সমালোচনার একটি অংশ যথার্থ : সর্বশেষ বিকল্পে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে এবং নিয়োগ নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে সংকট কীভাবে এড়ানো যাবে, তার উত্তর স্পষ্ট থাকা দরকার। তবে কোনো কাঠামোর নির্দিষ্ট দুর্বলতা চিহ্নিত হলে তার প্রতিকার হয় সেই দুর্বলতা সংশোধনেই, পুরো স্থাপত্য বদলে নয়। বিশেষ কমিটির বৈঠকেও রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্প বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমন সুনির্দিষ্ট সংশোধনের পথ খোলাই আছে।

সময়েরও একটি বিবেচনা আছে। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হতে এখনো অনেক দেরি; তাড়াহুড়োর কোনো কারণ নেই। হাতে যে সময় আছে, তার সদ্ব্যবহার হতে পারে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার মতো কাজে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান যিনিই হোন, নির্বাচন পরিচালনার যন্ত্রগুলো স্বাধীনভাবে কাজ না করলে তার পক্ষেও নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করা কঠিন। প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, সে প্রশ্নের চেয়ে এই প্রশ্ন কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তাহলে করণীয় কী? আমার বিবেচনায় একটি ক্রম অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত, আদালতের রায়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধানকে ভিত্তি হিসেবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা। দ্বিতীয়ত, যেসব জায়গায় আপত্তি সুনির্দিষ্ট, যেমন সর্বশেষ বিকল্পে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও নিয়োগ নিয়ে অচলাবস্থা এড়ানোর উপায়, সেগুলো চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করা। তৃতীয়ত, উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে, সে প্রশ্নটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা থেকে আলাদা করে নিজস্ব যুক্তিতে বিবেচনা করা। চতুর্থত, এসব আলোচনায় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোকে কার্যত অংশীদার করা, যাতে পরবর্তী সময়ে কেউ বলতে না পারে যে ব্যবস্থাটি তার সম্মতি ছাড়া তৈরি হয়েছে। ঐকমত্য এভাবেই টেকসই হয়।

সামগ্রিক বিশ্লেষণে তিনটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। প্রথমত, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি আদালতের রায়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, উচ্চকক্ষভিত্তিক বিকল্প এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, যা এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। তৃতীয়ত, সেই বিকল্পে নির্বাচনকালীন সরকারের স্বাতন্ত্র্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বের দৃষ্টিতে কোনো ব্যবস্থার কার্যকারিতা বহুলাংশে নির্ভর করে তার স্থায়িত্ব ও পূর্বানুমেয়তার (Predictability) ওপর। নির্বাচনের নিয়ম যখন বারবার পুনর্বিবেচনার বিষয় হয়, তখন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মনোযোগ ফল থেকে সরে নিয়মের দর-কষাকষিতে আটকে যায় এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ম্যাকিয়াভেলি দ্য প্রিন্সে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, নতুন বিধিব্যবস্থা প্রবর্তন সবচেয়ে কঠিন ও অনিশ্চিত উদ্যোগ। তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষিত কাঠামোর নির্দিষ্ট ত্রুটি সংশোধন করে এগোনোই অধিক যুক্তিসংগত পথ। ইতোমধ্যে আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া প্রশ্নকে নতুন নকশায় আবার উন্মুক্ত করা কোনো নতুন সমস্যার সমাধান দেয় না; এ কারণেই বিতর্কটি এই পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয়।

লেখক : অধ্যাপক (অব.), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন