অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ঝাল-তেল-মসলাযুক্ত খাবার, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, ধূমপান, বেশি চা-কফি এবং মানসিক চাপ—এসব কারণে অনেকেরই অ্যাসিডিটি, গ্যাস বা বুকজ্বালার সমস্যা দেখা দেয়। অস্বস্তি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের মতো করে গ্যাসের ওষুধ বা অ্যান্টাসিড খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও সহজ কিছু ঘরোয়া উপাদান অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়।
আদা ও লবঙ্গ
হজমের অস্বস্তি কমাতে দীর্ঘদিন ধরে আদা ব্যবহার হয়ে আসছে। অল্প পরিমাণ আদা কারও কারও গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। সামান্য লবণ দিয়ে অল্প কাঁচা আদা চিবিয়ে খাওয়া যায়। লবঙ্গও অনেকের কাছে হজমের অস্বস্তি কমানোর পরিচিত উপাদান। তবে বেশি কাঁচা আদা খেলে কারও কারও বুকজ্বালা বেড়ে যেতে পারে।
জোয়ান, মৌরি ও জিরা
পেট ফাঁপা বা হজমের অস্বস্তিতে জোয়ান, মৌরি ও জিরা ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অল্প জিরা পানিতে ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায় পান করা যেতে পারে। তবে এসব পানীয় অতিরিক্ত ঘন করে খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
দুধ ও টক দই
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুধ সাময়িকভাবে বুকজ্বালার অস্বস্তি কমাতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে দুধ খেলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই নিজের শরীরে এর প্রভাব লক্ষ্য করা জরুরি। অন্যদিকে টক দইয়ের প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে এবং হজমে সহায়তা করতে পারে।
ডাবের পানি
ডাবের পানি শরীরে তরল ও ইলেকট্রোলাইটের জোগান দিতে পারে। তবে এটি পাকস্থলীর অ্যাসিড সরাসরি কমানোর চিকিৎসা নয়। অ্যাসিডিটির পাশাপাশি পানিশূন্যতা থাকলে পরিমিত ডাবের পানি উপকারী হতে পারে।
বেকিং সোডা ব্যবহারে সতর্কতা
অ্যাসিডিটি কমাতে বেকিং সোডা ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও এটি নিয়মিত বা ইচ্ছেমতো খাওয়া উচিত নয়। এতে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমতে পারে এবং কিছু মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
অ্যাসিডিটি এড়াতে যেসব অভ্যাস গড়বেন
অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে অতিরিক্ত ঝাল, তেলেভাজা ও ভারী খাবার কমিয়ে দিন। কোন কোন খাবারে আপনার বুকজ্বালা বাড়ে, সেটিও খেয়াল রাখুন।
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন। খাবারের পর হালকা হাঁটাহাঁটিও উপকারী হতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত চা, কফি, কোমল পানীয় ও ধূমপান অনেকের অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই এগুলোর পরিমাণ কমিয়ে উপসর্গের পরিবর্তন লক্ষ্য করা ভালো।
তবে দীর্ঘদিন ধরে বুকজ্বালা বা পেটের সমস্যা থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এর পেছনে গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। পায়খানায় রক্ত, রক্তবমি, বারবার বমি, অনিচ্ছাকৃত ওজন কমে যাওয়া বা তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


