ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দেড় দশকের দিল্লিকেন্দ্রিক প্রক্সি পররাষ্ট্রনীতির অবসান হয়েছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পর পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মমর্যাদার অনুভূতি ফিরে পায়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নেওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই ধারার সূচনা করেছিলেন মূলত তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশ তার মর্যাদা হারিয়ে রাশিয়া ও ভারতের পক্ষপুটে আশ্রয় নিয়েছিল। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তন এসেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যেমন সুদৃঢ় হয়েছিল, তেমনি চীন ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল। জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির এই ধারাবাহিকতা খালেদা জিয়ার সরকার অনুসরণ করেছিল।
কিন্তু শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে এসে আবার তার পিতার ভারতমুখী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশের স্বাধীন কোনো পররাষ্ট্রনীতি ছিল না। দিল্লির স্বার্থ পূরণই ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। খোদ হাসিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন দুই দেশের পররাষ্ট্র সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের সঙ্গে সঙ্গে দিল্লি-ঢাকার এই দাসত্বের সম্পর্কের অবসান ঘটে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের স্বল্প সময়ের শাসনকালে প্রথম সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়ে যথেষ্ট কূটনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।
নানা দিক থেকে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মালয়েশিয়া শুধু বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান বাজারই নয়, উন্নয়নমুখী ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে মুসলিম বিশ্বে দেশটির বিশেষ মর্যাদাও রয়েছে। অন্যদিকে গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসনের পতনের পর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য এমন একটি দেশকে বেছে নিয়েছেন, যার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।
প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনে মালয়েশিয়া নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সেই সম্পর্কের অন্যতম অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীন সফর করবেন। তিনি এমন একসময়ে চীন সফরে যাচ্ছেন, যখন ইরান যুদ্ধ এবং গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান-ভারত আকাশযুদ্ধের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূকৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে চীনের পুরোনো মিত্র ইরানের পরোক্ষ বিজয় এবং আরেক মিত্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতার মাধ্যমে বেইজিং নেপথ্যের বড় খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে গত বছরের যুদ্ধে চীনের সহায়তায় পাকিস্তান প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে আকাশযুদ্ধে যেভাবে ভারতকে পরাজিত করেছে, তাতে চীন অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভাব ঘটেছে।
স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে চীনের এই গুরুত্বকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। বরং বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা সময়ের দাবি।
চীন সফরের আগে পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই সফরে দুটি চুক্তি, ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং একটি অ্যাকশনপ্ল্যান বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা এগিয়ে নিতে চায়। তিস্তা নদীর অববাহিকা অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন এবং পানি-সংকট নিরসনে গৃহীত ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট’ বা তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীন প্রধান ও কৌশলগত ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ও সমর্থন জোরালোভাবে আহ্বান করেছে। এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে নিয়মিতভাবে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা হবে তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ শুধু নিশ্চিত করা নয়, বরং যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের কাজ শুরু করা। এ ছাড়া মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন কার্যক্রমে চীনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (১৯৭৫-১৯৮১) শাসনকাল ছিল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার সময়েই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি স্থাপিত হয়। জিয়াউর রহমানের শাসনামলেই চীন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সামরিক খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহে অস্বীকৃতি জানায়। এই সংকটময় মুহূর্তে চীন দ্রুত সেই শূন্যতা পূরণ করে এবং বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ শুরু করে। তার সরকারের সময়েই বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে বৃহৎ পরিসরে ট্যাংক, যুদ্ধবিমান এবং প্রশিক্ষণ বিমান (ট্রেইনার এয়ারক্রাফট) ক্রয়ের জন্য ১৯৭৫, ১৯৭৬ ও ১৯৮০ সালে পৃথক তিনটি বড় চুক্তি সম্পাদন করে।
১৯৭৫ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট সামরিক আমদানির প্রায় ৭৮ শতাংশই এসেছিল চীন থেকে। এটি বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠিত করতে সাহায্য করেছিল।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চীনের সঙ্গে শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্কই গড়ে তোলেননি, বরং ঢাকাকে বেইজিংয়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারে পরিণত করেছিলেন। তার প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে ২০০২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত।
নিরাপত্তা-বিশ্লেষকরা বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। মাত্র কিছুদিন আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং মাল্টিরোল ফাইটার বিমান কেনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
দেশের বিমান প্রতিরক্ষা বা এয়ার পাওয়ারের দুর্বলতা এবং মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ক্রয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবের কারণেই ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকটের তীব্রতা এতটা প্রকট রূপ নিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, যদি ওই সময়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বাংলাদেশের একটি ‘শক্তিশালী ও আধুনিক’ বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন থাকলে মিয়ানমার হয়তো এমন দুঃসাহস দেখাত না এবং রোহিঙ্গা সংকটও আজকের এই জটিল রূপ ধারণ করত না।
বাংলাদেশ হয়তো চীনের কাছ থেকে জে-১০সি মাল্টিরোল ফাইটার জেট কেনার দিকে এগোতে পারে। যদি তা বাস্তবায়িত হয়, তবে তা হবে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে তার পিতার পথ অনুসরণ করবেন। বর্তমান বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্পর্ক মূলত প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে।
এবারের সফরে হয়তো তার কিছু প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় ধরনের কোনো মতপার্থক্য নেই।
চীনের সঙ্গে সহযোগিতাকে শুধু ‘অস্ত্র কেনাকাটার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ উৎপাদন এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মনে হয়। চীনের সহযোগিতায় ড্রোন কারখানা নির্মাণের বিষয়ে এ বছরের জানুয়ারি মাসে একটি কৌশলগত ও আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ডিফেন্স ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে এ বিষয়ে আরো অগ্রগতি হবে বলে আশা করা যায়।
নিরাপত্তা সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিরতা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে চীনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও অন্যান্য পক্ষের ওপর চীনের যে প্রভাব রয়েছে তা ব্যবহার করে যাতে একটি টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন পরিবেশ তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে তারেক রহমান সরকার বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে ঝুঁকে না পড়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, চীনের সঙ্গে এই প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় এবং এটি আঞ্চলিক অন্য কোনো দেশের (যেমন ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র) সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
বাংলাদেশের মানুষ আশা করে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের পথে আরও এগিয়ে যাবে, যেখানে জাতীয় স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয় এবং অন্য কোনো দেশের প্রভাবশালী ছায়া থাকবে না।
লেখক : সহযোগী সম্পাদক, আমার দেশ
alfaz@dailyamardesh.com
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


