আলফাজ আনাম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্ধকার অধ্যায় হয়ে আছে শেখ হাসিনার দেড় দশকের নিপীড়নমূলক শাসনের সময়। পতনের আগে তিনি দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। গণবিক্ষোভের মুখে হাসিনার পতন ও পলায়ন ছিল অনেকটা প্রকৃতির বিচারের মতো। তার পলায়নের পর থেমে থাকা বা সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ ছিল না। নিষ্ঠুর

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে পলাতক হাসিনা ও তার সহযোগীরা। এই পরিকল্পনায় দিল্লির যে সক্রিয় সমর্থন আছে, তাও স্পষ্ট। গত বছরের ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছুদিন নীরব ছিলেন হাসিনা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভোটের ট্রেন চলতে শুরু করল। বাধাহীন নির্বাচনি কার্যক্রম শেষ হতে আরো কিছু পথ অতিক্রম করতে হবে। বিএনপি মনোনীত পদপ্রার্থীদের যে নাম প্রকাশ করেছে, তা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়ে, জরিপের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের প্রচারণার কৌশলকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটির মহিলা বিভাগকে নির্বাচনি প্রচারণার পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিয়মিত বৈঠক করছেন মহিলা জামায়াতের সঙ্গে।

হাসিনার দেড় দশকের শাসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ইসলামোফোবিয়া ভয়ংকর মাত্রায় রূপ নিয়েছিল। টুপি কিংবা হিজাব পরার কারণে বহু শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। দাড়ি রাখা, নামাজ পড়া কিংবা প্রাথমিকপর্যায়ে মাদরাসায় পড়েছেন এমন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। বহু শিক্ষার্থীকে ধ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দেশের তরুণদের রাজনৈতিক ভাবনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এর প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পারছি দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভোটের ফল থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয় দেশের রাজনীতির ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে।

দেশের প্রধান চার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এ যাত্রা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে।

হাসিনার দুঃশাসনের গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার স্মৃতিগুলো যেন ফিকে হয়ে আসছে। এর মধ্যে গুমের ওপর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সম্প্রতি এক ঘণ্টার একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করা হয়েছে। এই ডকুমেন্টারিটি সারা দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছে। গুম করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের যে

রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষের বড় প্রত্যাশা হচ্ছে রাজনীতিতে কিছুটা হলেও যেন গুণগত পরিবর্তন আসে। নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের মাঠের রাজনীতি ধীরে ধীরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। হাসিনার পতন ও পলায়নের পর দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি এখন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের ভেতরে নানা ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও একাধিকবার সতর্ক করেছেন, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে একটি বিশেষ মহল। অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর মেয়াদের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব বিস্তারের নানা

বিএনপির সঙ্গে বাম ধারার ও ইসলামপন্থি কয়েকটি দলের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করা হেফাজতে ইসলামের সমর্থন পেতে বিএনপি ও এনসিপির নেতারা তৎপর হয়েছেন। আবার হেফাজতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দলের নেতারা জামায়াতে ইসলামীর জোটেও আছেন।

একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ, অন্যদিকে ভারতপন্থি সুশীল সমাজের তৎপরতায় রাজনীতির আকাশে ঈশান কোণে কালো মেঘ জমছে বলে অনেকে মনে করেন। রক্তাক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হাসিনার পতন ও পলায়নের পর বাংলাদেশে নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও ইসলামপন্থি জামায়াতে ইসলামীক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিধস বিজয়ে অনেকে বিস্মিত। কিন্তু যারা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণদের মনোজগতে পরিবর্তনের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন, তাদের কাছে এই ফল মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন জেনারেল এরশাদ। এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর শেখ হাসিনা তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বিবিসিকে জানিয়েছিলেন—‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপি।’ এরশাদের ক্ষমতা দখলে শেখ হাসিনার অখুশি না হওয়া, কিংবা খুশি হওয়ার কার

আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি এখন প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। এদিক দিয়ে বিএনপির দায়িত্ব সর্বাধিক। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং রাজনৈতিক নিপীড়ন নিয়ে যখন সোচ্চার ছিল, তখন একমাত্র ‘অধিকার’ ছাড়া সব মানবাধিকারের দোকানদাররা ছিলেন অনেকটা নীরব। তাদের অনেকে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে সরকারের নিপীড়নকে সমর্থন দিয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করেছে। দেশ এখন নির্বাচনের ট্রেনে উঠতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর জনসমর্থন নিয়ে বেশ কয়েকটি জরিপ প্রকাশ হয়েছে। এসব জরিপের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে নানাভাবে প্রশ্ন তোলা যায়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর এক বছর চলে গেল। ভারতের সেবাদাস হিসেবে হাসিনা এখন দিল্লিতে স্থায়ী হয়ে গেছেন। বিচারের মুখোমুখি হতে তিনি আর কখনোই এ দেশে ফিরবেন না। এমনকি ভারতের বাইরে আর কোনো দেশ তাকে গ্রহণ করবে না। তিনি যে এ দেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছেন, তা আজ আন্তর্জাতিকভাব

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। মিয়ানমারের মতো দেশের কাছে যে ধরনের যুদ্ধবিমান আছে, আমাদের বহরে সে ধরনের কোনো যুদ্ধবিমান নেই। শুধু অর্থনৈতিক সামর্থ্যের অভাবে আমরা তা পারি না, এমন নয়—দুর্নীতি ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে ভার

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বছর পূর্তি হতে চলছে। ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে গেলেও পুরো জুলাই ছিল রক্তভেজা এক বর্ষার মাস। ১৪ জুলাই হাসিনা আওয়ামীপন্থি দলদাস সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময়ে বসেছিলেন।

দুনিয়ার সব স্বৈরশাসকদের পাশে থাকে কিছু পোষা ব্যবসায়ী। ধনবান ও প্রভাবশালী এই ব্যবসায়ীরা ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।

রক্তাক্ত জুলাই ফিরে এসেছে। যে মাসে শুরু হয়েছিল দানবীয় শাসনের বিরুদ্ধে অন্যরকম এক প্রতিরোধ। শেখ হাসিনার দেড় দশকের দুঃশাসনে বাংলাদেশ আগে থেকেই ছিল অগ্নিগর্ভ। দরকার ছিল স্ফুলিঙ্গের। কোটাবিরোধী আন্দোলন ছিল সেই স্ফুলিঙ্গের নাম। এই আন্দোলনের শুরুর দিকে ছাত্রদের একটি স্লোগান ছিল—সারা বাংলায় খবর দে, কোটা

এই যুদ্ধ যে ইসরাইলের জন্য কতটা বিপর্যয়কর ছিল, ইতোমধ্যে দেশটির বিশ্লেষকরা তা বলতে শুরু করেছেন, টাইমস অব ইসরাইলে ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান

ইরানের সামরিক সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাদের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠেছে ইরান সেনাবাহিনী বা আরতেশ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এবং আইন প্রয়োগকারী ইউনিটগুলোর সমন্বয়ে। ইরান তাদের মিসাইল কর্মসূচিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে, যা প্রতিরক্ষার প্রধান মেরুদণ্ড

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সাথে সাথে এসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো শুধু লক্ষ্যবস্তু হবে না, পুরো আরব বিশ্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সাথে যে কোনা মার্কিন স্বার্থ আঘাত হানা হতে পারে। ফলে যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেতে পারে এবং অন্য দেশগুলো তাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর জামায়াতে ইসলামী প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও অঞ্চলভিত্তিক ভোটপ্রাপ্তি সবসময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কিছু গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে অনেকে আশা করেছিলেন

তিনি বলেছেন, আমরা এমন নির্বাচন চাই যা দেখে অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মা তৃপ্তি পাবে, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। আমরা চাই আগামী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোটার, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ও দল অংশ নিক। এটা সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে জাতির কাছে স্মরণীয় থাকুক।

শেখ হাসিনার দেড় দশকে হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রধান সহযোগী ছিল জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির এই বোঝাপড়া নতুন নয়। জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা দখল ও রাজনৈতিক দল গঠনের পর থেকে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেন এক অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছে ভারত। এ দেশে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানকে শুধু অস্বীকার করেনি, শত শত ছাত্র-জনতার হত্যাকারী হাসিনা ও তার দোসরদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে নয়াদিল্লি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এখন বছর অতিক্রান্ত হয়নি। এর মধ্যে ফ্যাসিবাদের সফট পাওয়ারগুলো সরব হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে সামরিক দিক দিয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পর এবার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপের মুখে পড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সময় যত যাচ্ছে, এই যুদ্ধের অজানা অনেক তথ্য বেরিয়ে আসছে।

ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান ইসরাইলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক গভীর করে তোলে। ইসরাইলের মতো সম্প্রসারণবাদী ও বর্ণবাদী নীতি এখন ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে।

উপমহাদেশের মানুষ নতুন এক যুদ্ধের রূপ দেখল। এবারের পাক-ভারত সংঘাতে প্রথাগত যুদ্ধের বদলে ব্যবহার হয়েছে নতুন অস্ত্র ও কৌশল। মাত্র তিন দিনের সীমিত আকারের যুদ্ধে ধুলায় মিশে গেছে ভারতের অহংকার।

সামরিক অভিযানে যুদ্ধের সমীকরণ পাল্টে দিচ্ছে ড্রোন। পাকিস্তান ও ভারতের হামলার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রেও অসামান্য সাফল্য দেখিয়েছে পাকিস্তান।

যুদ্ধ উন্মাদনায় ভাসছে ভারতের গণমাধ্যম। পাক-ভারত সংঘাতের প্রকৃত তথ্য তো দূরে থাক ভুয়া তথ্য ছড়ানো, ভারতের ক্ষতির তথ্য অস্বীকার করা- এমনকি গাজা যুদ্ধের ছবিকে পাকিস্তানে হামলার ছবি হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে ফ্রান্সের তৈরি রাফায়েলসহ পাঁচটি যুদ্ধবিমান হারানোয় বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে মোদি সরকার। কীভাবে রাফায়েল ভূপাতিত হলো, তা নিয়ে বিশ্বের সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে নানা ধরনের আলোচনা।

ফ্যাসিবাদী শাসনের দেড় দশকে বিনোদনমূলক সাংবাদিকতা ছিল বিদেশ সফর শেষে গণভবনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনগুলো। সেখানে প্রশ্ন নয়, প্রশংসার বাণী নিয়ে হাজির হতেন বাংলাদেশে সাংবাদিকতা বাহিনীর জেনারেলরা। তাদের চোখে শেখ হাসিনা হয়ে উঠতেন ম্যাজিক্যাল লেডি, আবার কারো চোখে তিনি ছিলেন বিশ্বনেত্রী।

উপমহাদেশে আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর সশস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে ভারত বেশ কিছুদিন থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত ভারত একযোগে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রকৃত চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফরের সময় বাংলাদেশের নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য চীনের কাছ থেকে ৫০ বছরের একটি মাস্টারপ্ল্যান চেয়েছেন। অববাহিকাভিত্তিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীন একই সঙ্গে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী। এখন বাংলাদেশের সামনে একমাত্র পথ হচ্ছে ভারতের প

বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে ভারত দেখছে রেডলাইন অতিক্রম হিসেবে। শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশের কার্যত কোনো পররাষ্ট্রনীতি ছিল না। এ সময় বাংলাদেশের অবস্থান শুধু ভারতের পক্ষপুটে ছিল না, দিল্লির পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি অনুসরণ করেছে ঢাকা।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতিহাস হচ্ছে সংঘাত, সহিংসতা ও জোরপূর্বক ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার ইতিহাস। দলটির ডিএনএতে আছে ফ্যাসিস্ট রাজনীতির সব উপাদান। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী বামপন্থি দলগুলোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে ফ্যাসিস্ট দলটিকে এ দেশের মানুষের কাছে হাজির করা হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির এই বৈঠকে দুদেশের সম্পর্কে কতটা বরফ গলবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে ইউনূসের সফল চীনা কার্ডে ভারতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

দেশের প্রভাবশালী দুই সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচীর অনুষ্ঠানগুলোয় মুসলিম সংস্কৃতি উপেক্ষিত থাকছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোকে তারা দেখছেন বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান হিসেবে। বছরজুড়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন দুটো নানা কর্মসূচি পালন করলেও মুসলমানদের কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারা কর্মসূচি পালন করেন না।

সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্থান ঘটে জিয়াউর রহমানের। শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন কায়েমের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলেন।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার উন্নয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে চীন। ভারত একরকম বাদ (আউট) হয়ে যাচ্ছে বন্দর থেকে। হাসিনা সরকারের আমলে মোংলা বন্দর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও পরিচালনায় ভারতের ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডকে (আইপিজিএল) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন নিয়ে ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রকাশ্য নানা ধরনের মন্তব্য করছে। তাদের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, বাংলাদেশে দ্রুত একটি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে ভারত।

ফেইক নিউজ বা ভুয়া খবর প্রচারের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে ভারতের অবস্থান শীর্ষে। দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের অবনমনের অন্যতম একটি কারণ হলো ভুয়া খবর প্রচার।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের কালে ভারত হয়ে উঠেছিল এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বরকন্দাজ। একই সঙ্গে চীন ঠেকানোর জন্য পশ্চিমা বিশ্ব ভারতকে এশিয়ার উদীয়মান শক্তি হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করে। এর ফলে ভারতের জনমানসে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়—‘ভারত হয়তো এশিয়ার সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়েছে।’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ছয় মাসের মাথায় গণহত্যাকারীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। গত দেড় দশকে মুজিবের রাজপরিবার দেশে যে নিপীড়নমূলক শাসক চাপিয়ে দিয়েছিল, তা স্বাভাবিক করতে ফ্যাসিস্টদের প্রতি মানবিক আচরণ ও সম্মান জানানোর বয়ান হাজির করা হচ্ছে।