ভাইরাল ‘ভারচুয়াল’ সংস্কৃতির পথপরিক্রমা

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

ভাইরাল ‘ভারচুয়াল’ সংস্কৃতির পথপরিক্রমা
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

রবীন্দ্রনাথ তার ৮০তম জন্মদিনের প্রাক্কালে (১৩৪৮-এর পহেলা বৈশাখে) ‘সভ্যতার সংকট’ শীর্ষক বক্তৃতায় যখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের সুবিধা অসুবিধার জাবেদা বইয়ে চোখ রাখছিলেন, তখন তার গলায় হতাশা ও ক্ষোভের সুরই শোনা গিয়েছিল। ঠাকুরবাড়ির বড় কর্তারা ভেবেছিলেন সাতসাগর তেরো নদীর পাড় থেকে ভেসে আসা সভ্যতা ও সংস্কৃতির সুরের মাধুর্যে ভারতবর্ষের জ্ঞান-বিজ্ঞানর্চ্চায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে; কিন্তু রবীন্দ্রনাথের উপলব্ধির উপলব্ধিতে ধরা খেল ‘জীবনের প্রথম আরম্ভে সমস্ত মন থেকে বিশ্বাস করেছিলুম যুরোপের অন্তরের সম্পদ এই সভ্যতার দানকে। আর আজ আমার বিদায়ের দিনে সে বিশ্বাস একেবারে দেউলিয়া হয়ে গেল।’ ...‘এই দুর্গতির রূপ যে প্রত্যহই ক্রমেই উৎকট হয়ে উঠেছে, সে যদি ভারত শাসনযন্ত্রের ঊর্ধ্বস্তরে কোনো এক গোপন কেন্দ্রের প্রশ্রয়ের দ্বারা পোষিত না হতো, তাহলে কখনোই ভারত-ইতিহাসের এত বড় অপমানকর অসভ্য পরিণাম ঘটতে পারত না।’ ...‘এই বিদেশির সভ্যতা, যদি একে সভ্যতা বলো, আমাদের কী অপহরণ করেছে তা জানি; সে তার পরিবর্তে দণ্ড হাতে স্থাপন করেছে, যাকে নাম দিয়েছে ল’ অ্যান্ড অর্ডার, বিধি এবং ব্যবস্থা, যা সম্পূর্ণ বাইরের জিনিস, যা দারোয়ারি মাত্র। পাশ্চাত্য জাতির সভ্যতা-অভিমানের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা অসাধ্য হয়েছে। সে তার শক্তিরূপ আমাদের দেখিয়েছে, মুক্তিরূপ দেখাতে পারেনি। মানুষে মানুষে যে সম্বন্ধ সবচেয়ে মূল্যবান এবং যাকে যথার্থ সভ্যতা বলা যেতে পারে, তার কৃপণতা এই ভারতীয়দের উন্নতির পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিয়েছে।’ ৮৫ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ সমকালীন সভ্যতার যে সংকট শনাক্ত করতে পেরেছিলেন, আজ এই ইথর ইলেকট্রনিক-সংস্কৃতি-সভ্যতার পাদপীঠে করোনা ও সমরে সম্মোহিত পরিবেশেও দেখি একই পরিস্থিতি—‘এই মানবপীড়নের মহামারি পাশ্চাত্যসভ্যতার মজ্জার ভেতর থেকে জাগ্রত হয়ে ওঠে আজ মানবাত্মার অপমানে দিগন্ত থেকে দিগন্ত পর্যন্ত বাতাস কলুষিত করে দিয়েছে।’

বছর-ছয় আগে করোনা নিজের নামসহ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনেক স্বনামধন্য শব্দ খতিয়ান পর্চায় যেভাবে তাদের পরিচয় ছিল, তা ক্রমেই কেমন যেন ভিন্নরূপে প্রকাশ পাচ্ছে। সে সময় ভাইরাসকে ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে প্যাঁচানো হতো। ভাইরাস সম্পর্কিত বিষয় প্রকাশই ‘ভাইরাল’ হওয়ার কথা থাকলেও আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কিছু ছড়ানো বা রটানো ‘ভাইরাল’ হয়ে যাচ্ছে, অনলাইনে সভা-সমিতি-সেমিনার করাকে ‘ভারচুয়াল’ এবং ওয়েবে সেমিনারকে কাটছাঁট করে ‘ওয়েবিনার’ বলার চল চালু হয়েছে। শ্রীমান এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) টিকটক ইনস্টাগ্রামদের করিতকর্মায় ঘরের কথা পরকে জানানোয় পর্দা পুশিদা তো মানা হচ্ছেই না; বরং সচিত্র ব্যঙ্গ-বিব্রতকর ভয়েসে ভেসে বেড়ানো হচ্ছে । মেন্যু বলতে সবাই এখনো খাবার-দাবার মনে করলেও এখন সেটাকে সফটওয়ার হার্ডওয়ারের ব্যঞ্জন ভাবা হচ্ছে। যেকোনো শব্দের আঞ্চলিক মর্মার্থ বৈশ্বিক পরিসরে গিয়ে ‘জাতকুল মান’ খোয়াতে বসছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাপী মশহুর বলে খ্যাত অক্সফোর্ড অভিধানে ‘ভারচুয়াল’ শব্দের মর্মার্থ ‘সশরীরে উপস্থিত না থেকেও দূরভাষে দূর থেকে দর্শন দিয়ে (দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো হলেও চলত) কোনো কিছুতে অংশ নেওয়া’—এমনই আছে যদিও ‘গুণবাচক’, ‘মর্যাদা’ ও ‘মহত্ত্বের’ প্রকাশক ‘ভারচু’ ধাতুমূল থেকে এটির উৎপত্তি। করোনা আসার আগে এ ধরনের দূরভাষ দূরালাপ দূরদর্শন কমবেশি চলতে শুরু হয়েছিল । কিন্তু করোনাকালের অনলাইনে ‘ভারচুয়াল’ আলাপ-আলাপন দূর থেকে দেখা-সাক্ষাৎ এখন যেন মৌরশী পাট্টায় পরিণত হয়েছে। ‘ভারচুয়াল’ মিটিং-সিটিংকে ( ইটিং বাদে) এখন বেশ সহজসাধ্য উপায় উপলক্ষ ভাবা হচ্ছে। সভা আয়োজনে যোগদানে সমাপনে ঝামেলা-ঝক্কি কমে যাচ্ছে, সময় বেঁচে যাচ্ছে, নাশতা খরচ, মধ্যাহ্ন কিংবা নৈশভোজের বিপুল ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। সামাজিক মেলামেশা, খোশগল্প, রাজা-উজির মারার স্বভাবগুলো সামনাসামনি হওয়ার অভাবে অবর্তমানে মাঠে মারা যাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টির এমন মহৎ উপায় জুম, টিম, স্টিমইয়ার্ডদের বদৌলতেই। তবে এআই টিকটকদের দোষগুণ খোঁজার আয়োজন এরই মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।

করোনা-উত্তর পরিবেশে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোতে নতুন নতুন আকাঙ্ক্ষা ও অভাবের জীবনে অধিকাংশ মানুষ হয়ে উঠছিল এমন নুড়িপাথর, যার কাছে শ্যাওলা ও শিকড়ের গন্ধময় হারানো জীবনটি বর্জ্য বৈ কিছুই নয়। লোভ ও ভোগের আবর্তে মানুষ যদি হারিয়ে ফেলে তার অনুসন্ধানের স্পৃহা, নিজের অজান্তে সে হয়ে উঠতে পারে ক্ষমতাবানদের ক্রীড়নক এবং ভোগবাদী সমাজের পণ্য। করোনাকালেও যেসব মানুষ ইতিবাচক চিন্তা ও বিশ্বাসের মধ্যে মুক্তি খুঁজেছিল, পরবর্তীকালে তাদের কেউ কেউ যেন বিকৃত ও অসুস্থ চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়ছে। সর্বোপরি স্বার্থচিন্তা ও ভোগবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ২০২২ সালে শ্রীলংকায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এবং ২০২৬ সালে নেপালে পটপরিবর্তন ঘটে সেসবের পতনের মধ্য দিয়ে।

২০২১ সালে করোনার চেয়ে করোনার টিকা নিয়ে আলোচনা চারদিকে বেশি ছড়িয়ে পড়েছিল। টিকা আবিষ্কারকরা সে বছরের অক্টোবরের নোবেল পুরস্কার পর্যন্ত পাননি। তখন ঘরে ঘরে টিকা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। কে টিকা পাবে, কে পাবে না—এ ধরনের তালিকা তৈরির রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছিল।

কিছুদিনের মধ্যে মনে হয়েছিল টিকার পেছনে মানুষ নয়, টিকাই ছুটবে মানুষের পিছে। কেননা টিকার মেধাস্বত্ব কেনা থেকে শুরু করে এর বাজারজাতকরণের পেছনে অঢেল অর্থ বিনিয়োগ করে ফেলছিল অনেক দেশ, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান। মানবসভ্যতায় জীবিকার চেয়ে জীবন বাঁচানোর নামে নতুন নতুন প্রয়াস-প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল, এখন যেমন অস্ত্র বিক্রি আর তেল দখলের জন্য স্বঘোষিত মহাসমর চলছে মহাসমারোহে । কদিন আগেও ড্রোন নামক খেলনাজাতীয় যন্ত্রটি উপর থেকে ভিডিও করার কাজে ব্যবহার হতো, ট্রাম্প, নেতানিয়াহু, খামেনি, পুতিন, প্রমুখদের সমরচর্চায় তা এখন মারণাস্ত্রবাহী শকটে সংকটে পরিণত হয়েছে। গণভোটের মতো মতপ্রকাশের পদ্ধতিটি চাণক্যীয় মস্তিষ্ক প্রক্ষালনের প্যাঁচে পড়ে এখন দড়ি টানাটানির ব্যাপার হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

করোনার পর ইউক্রেন -রাশিয়া যুদ্ধ হলে তেল আবিব তেহরানের কারণে এই পরিবর্তিত চিন্তা ও দর্শনের আবর্তে, সংক্রমণ ও মৃত্যুর নানা আঘাতের আবর্তে প্রত্যেক মানুষ নতুন করে খুঁজে নিতে চেষ্টা করে আপন সত্তা ও অনুভবের ভূমিকে। নতুন করে সে নির্মাণ করে আত্মপরিচয়। যে মূল্যবোধের কারণে জননী জন্মভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনে সন্তান, বাবার প্রতি ছেলের, গ্রামীণ নারীটি বা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েটি নিটোল, নিস্তরঙ্গ পবিত্র জীবনে অভ্যস্ত ছিল, সে-ই হয়ে ওঠে বেপরোয়া ও সাহসী। অবাধে চলে আসা প্রযুক্তির প্রাকার যেন সবাইকে আপন ভুবনে না হয়ে হয়ে ওঠে পরবাসী। অভ্যস্ত যেন না হয়ে ওঠে অনিকেত জীবনে।

ভাইরাল-‘ভারচুয়াল’-সংস্কৃতির-পথপরিক্রমা

অতিদ্রুত ধাবমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যদি ন্যয়নীতি বোধকে, ন্যয়নীতি নির্ভরতার উপায় উপলক্ষকে গ্রাস করতে উদ্ধত হয়, তাহলে সভ্যতার সংকট বাড়বে বই কমবে না। ‘ভারচুয়াল’ সংস্কৃতি বড্ড দ্রুত এর বুদ্ধিবৃত্তিক ধীমান গতিকে বিপথগামী করছে। অনলাইন ব্যবসা লেনদেন প্রথম প্রথম চটক ও চমৎকারিত্বের সৃষ্টি করছে বটে; কিন্তু প্রতারণার ফাঁকফোকর দিয়ে একদিন এর ইতিবাচকতাকে নেতিবাচক করে না তোলে, সে জন্য সময় থাকতে সাবধানতার প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন। করোনাভাইরাস যেমন মূল্যবান মানব জীবনযাপনকে বিশ্বব্যাপী মহা-আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছিল, তেমনি ‘আইলাভ ইউ’, ‘মেলিসা’, ‘মাইডম’ ম্যালোয়ার ভাইরাসরা খোদ হার্ড ডিস্ককে দাফন-কাফন ছাড়া কবরে পাঠাতে পারে। সুতরাং ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভেদবুদ্ধির বিগ্রহ এড়িয়ে ডেটার যথার্থ ও যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ আসতেই থাকবেই, তাই ডিজিটাল ওরফে অনলাইন ওরফে ‘ভারচুয়াল’ ওরফে ই-খাওয়া-দাওয়া, ই-ঘোরাফেরা, ই-চিন্তাভাবনা, ই-স্বপ্ন—সবই যেন যতদূর সম্ভব বাস্তবতার পাটাতনে, সাশ্রয়ী ও শ্রেয়োবোধের বিবেচনার মধ্যে থাকে, সেটি লক্ষ রাখতে হবে। ওষুধ সেবনবিধি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন জ্ঞান না থাকলে, পথ্য অনুসরণে সতর্কতা না থাকলে শুধু চিকিৎসক এবং চিকিৎসাব্যবস্থার বাহাদুরিতে উপযুক্ত উপশম মিলবে না। হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কায় সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার চেতনাকে জাগ্রত না রাখলে রবীন্দ্রনাথের মতো আশাহত হতে হবে, বাড়বে সামনে সভ্যতার সংকট ।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আসার আগে করোনা মানুষের জীবনীশক্তি, তার সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি হরণের ক্ষেত্র প্রস্তুতের দায়দায়িত্ব নিয়ে এসেছিল, বর্তমানে ভাইরাল ভার্চুয়ালে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দুই পরাশক্তির ঠান্ডা যুদ্ধের গরম কড়াইয়ে ঘি ঢালার উপকরণ ছিল যে কোভিড-১৯ ওরফে করোনা এবং বর্তমানে তেল ও ইউরেনিয়াম ভাগবাটোয়ারার জন্যই যে যুদ্ধ এখন, তা আর বুঝতে কারো বাকি নেই। করোনার প্রভাবে প্রযুক্তির উদগ্র উন্নয়নের ইতি কিংবা নেতিবাচকতার দিকেও তাকানোর সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে—অতিদ্রুত গ্রাস করছে মানবতার মূল্যবোধকে, ম্যান অ্যান্ড মেশিনের শ্রেষ্ঠত্বের যে লড়াই সামনে শুরু হবে, সেখানে সমাজবিচ্ছিন্ন, পরিবারচ্যুত, ভাবলেশহীন ও আত্মকেন্দ্রিক মানুষ কীভাবে সে লড়াইয়ে টিকে থাকবে, তার সংশয় জাগছেই।

আধুনিক-বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির প্রসার মানুষের লোভকে লাগামহীন করে তুলছে। মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা উৎসারিত লোভ ও আগ্রাসনই মানুষের মন্দকাজের মূল। একসময়কার বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস থেকে জনগণই ক্ষমতার উৎস এই আশা-ভরসাকে ভূরাজনীতির ভায়রা ভাইদের কাছে বন্ধক দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতি এবং মানুষের মধ্যে যেখানে পরস্পরের সহযোগিতা সহ-অবস্থান করার কথা, সেই প্রকৃতিকে প্রতিপক্ষ বানাচ্ছেন মানুষ। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পরিবর্তে প্রকৃতিকে ধ্বংসের উৎসবে মেতে উঠছেন মানুষ। ক্ষমতালাভের হাতিয়ার হিসেবে মানুষ বিজ্ঞানকে এমনভাবে ব্যবহার করছে, আজ তার নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উৎকণ্ঠা প্রবল হচ্ছে । মারণাস্ত্র তৈরি করে তার বিক্রি বাড়ানোর জন্য মানুষই যুদ্ধ বাধাচ্ছে মানুষের বিরুদ্ধে। পারমাণবিক অস্ত্র সঞ্চয় করে নিজের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে চলেছে। সবাইকে বুঝতে হবে করোনাকে আসতে হয়েছিল যুগ যুগ ধরে মানবতার অবমাননা, বৈষম্য, লোভ, লালসা, মিথ্যাবাদিতা ও অহমিকার যে পাপাচার বিশ্বকে গ্রাস করছিল তার প্রতিকারে বিশ্বময় একটা প্রবল ঝাঁকুনি দিতেই । পেরেছে কি করোনা? যদিও দেশে দেশে এআই ভাইরাল ভার্চুয়াল সাফল্যের স্বঘোষিত পদাবলি কঠিন গদ্যের কাছে পরাভূত হচ্ছে।

লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...