শাওয়ালের বিদায়বেলা—তথা বাংলা নববর্ষের পয়লা সপ্তাহ। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে কোনো এক সন্ধ্যায় উত্তর চট্টগ্রামে কয়েকজন বাংলাদেশপন্থির জমায়েত। স্থানটি ছিল ‘চট্টগ্রাম টু হাটহাজারী’ রোডের কোল ঘেঁষে ক্যান্টনমেন্টের সন্নিকটে শাইনিং জুয়েলস ইনস্টিটিউট। বিশেষত, এ মকামকে ঘিরেই এ অঞ্চলে পাঠকমেলার বিস্তৃতি। শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল খায়ের উদ্দীন আহমেদ সোহেল ভাই এ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা। সজ্জন ব্যক্তিত্ব, এলাকার পরিচিত মুখ। মাঝেমধ্যে সমমনা মুখগুলোকে ডাকেন। লেখক, সংগঠক, শিক্ষক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার আলোচিত চরিত্রের সমাবেশ ঘটে এতে। কিছুক্ষণ ব্যয়। একটু চা খাওয়া, একটু আলাপ—দেশের কথা, দশের কথা। গল্পে গল্পে চিন্তার পরিশুদ্ধি। এগিয়ে যাওয়ার পথরেখা খোঁজার চেষ্টা।
কথায় কথায় উঠে আসে মিডিয়ায় দালালির দৌরাত্ম্য! তথ্যসন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতার হীন, নগ্ন প্রতিযোগিতা! এমতাবস্থায়, স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে আমার দেশ। ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার নিয়ামক শক্তি। দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রা। এ যাত্রা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং বটে। চুন থেকে পান খসলেই—মানে একটু ভ্রান্তি দেখলেই স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল এর বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নামবে। লঘু পাপে গুরু দণ্ড হবে। কারণ, আধিপত্যবাদের বিরোধিতা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ।
কাজেই, দেশপ্রেমিক হিসেবে নৈতিকতাবোধের জায়গা থেকে আমার দেশ মিডিয়ার প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা অধিকতর দৃঢ় করতে হবে। এ জন্য পাঠকমেলার ব্যানারে চলমান কার্যক্রম আরো গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার পক্ষে উপস্থিত সবাই।
এ অঞ্চলে সাতটি উপজেলায় পাঠকমেলার সংগঠন ছড়িয়ে দেওয়ার তৎপরতায় স্বাগত জানান উপস্থিত পাঠক সদস্যরা। সমসাময়িক ও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কর্মসূচি পালনে আরো জোর দেওয়া হয় এ আড্ডায়। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করে নানা আয়োজনে আবু সাঈদ, ওয়াসিম প্রমুখ জুলাই শহীদ ও হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবীদের স্মরণে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
পাঠকমেলার অপেক্ষাকৃত নবীন এক সদস্যের প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম আহ্বায়ক খায়ের উদ্দীন আহমেদ সোহেল বলেন, ‘আধিপত্যবাদ ও লুটেরা শ্রেণির আতঙ্ক ইঞ্জিনিয়ার ড. মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে আমার দেশ টিম যেভাবে ভীষণ ঝুঁকির মধ্যেও দায়িত্বশীল, পেশাদার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করছে, ঠিক তেমনি আগ্রাসন ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে তথা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সোচ্চার সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে একটি সৃজনশীল ও সচেতন পাঠক সমাজ তৈরি করাই পাঠকমেলার মুখ্য উদ্দেশ্য। এ জন্য, সবাইকে ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোয় সম্যক জ্ঞাত থাকতে হবে।’
আগামী ডিসেম্বরে পাঠকমেলা চট্টগ্রাম উত্তর শাখার প্রথম বর্ষপূর্তি। আবার একই সময়ে আমার দেশের নবযাত্রার দ্বিতীয় বর্ষ পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে বছরের শেষ নাগাদ বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তাব দেন কেউ কেউ। বলেন, এর সঙ্গে বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদীর শাহাদতবার্ষিকী পালনের বিষয়ও যোগ হতে পারে। এতে নির্ভীক সাংবাদিক, সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানের প্রধান অতিথিত্বে একটি অর্থবহ ও আকর্ষণীয় প্রকাশনা প্রকাশের আগ্রহও আলোচনায় স্থান পায়। এসব অনুষ্ঠানমালার জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার মত দেন আগ্রহীরা। অন্যরাও সমধিক সম্মত হন।
সর্বোপরি পাঠকমেলাকে প্রাণময়-গতিময় করতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাসও আসে সদস্যদের কাছ থেকে। বৈঠকে গৃহীত উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো—১. পাঠকমেলার কার্যক্রম গতিশীল করতে ‘মুষ্টি চাউল সংগ্রহের’ আদলে পাঠকমেলার প্রত্যেক সদস্য নিয়মিত দৈনিক হারে কিছু না কিছু টাকা এক জায়গায় জমা করে প্রতি মাসের নিয়মিত সভায় জমা দেবেন।
২. শিগগিরই উপজেলাগুলোর সেটআপ সম্পন্ন করে ঈদুল আজহার পর যত দ্রুত সম্ভব চট্টগ্রাম উত্তর জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এতে প্রত্যেক উপজেলা থেকে প্রতিনিধি রাখা হবে।
এ বৈঠকে অংশ নিয়ে সুচিন্তিত মতামত দেন মুহাম্মদ মহসীন আবুল কাশেম (সদস্য সচিব, পাঠকমেলা), মো. মনির উদ্দীন (যুগ্ম সদস্য সচিব, পাঠকমেলা), সায়ফুদ্দীন আহমদ (সমাজসেবক), অ্যাডভোকেট বরকত উল্লাহ্ চৌধুরী কায়সার, মো. আলমগীর (ব্যবসায়ী), কামাল হোসেন (বেসরকারি কর্মকর্তা), ডা. মোহাম্মদ জানে আলম, এসএম আরমান চৌধুরী (প্রবাসী), মো. এনায়েত কবির (ব্যবসায়ী), মো. ইয়াহিয়া (ব্যবসায়ী) ও মো. ফজলুল আজিম চৌধুরী (বেসরকারি কর্মকর্তা)। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষাবিদ খায়ের উদ্দীন আহমেদ সোহেল।
লেখক : সদস্য সচিব, আমার দেশ পাঠকমেলা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

