শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় সংসদে এবং রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এই আন্দোলন সফল করতে জাতীয় ইউনিয়ন, ক্রাফট ফেডারেশন ও বিভিন্ন সেক্টরের দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কর্মশালা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাতীয় ইউনিয়ন, ক্রাফট ফেডারেশন ও বিভিন্ন সেক্টরের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় পর্যায়ে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। ১৯৬৮ সালের ২৩ মে তৎকালীন শ্রম আইন অনুযায়ী ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য দাবি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিল-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণ-বঞ্চনা দূর করা এবং জীবনমান উন্নয়নে ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকা অপরিসীম। শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আইনসম্মত ও নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবের অধীন না হয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কেবল শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

ফেডারেশনের সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অধীনে এক হাজারের বেশি নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও আদর্শিকভাবে গড়ে তোলাও সংগঠনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিক সেক্টরের নেতৃত্ব অবশ্যই শ্রমিকদের মধ্য থেকেই গড়ে তুলতে হবে। তাদের বাস্তব সমস্যা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন পরিচালনা, মালিকপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি এবং শ্রমিকদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য নেতাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিক নেতাদের নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী আদর্শ, নৈতিকতা, উন্নত চরিত্র এবং সততার চর্চা বাড়াতে হবে। এসব গুণের সমন্বয়েই শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে প্রকৃত ও কার্যকর নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

ফেডারেশনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তিনি অতীতের শ্রমিক নেতাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে তৎকালীন সময়ে সহকর্মী শহীদ আবদুল মালেকের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে অতীতের ত্যাগ ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিম।

কর্মশালায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান। শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তুলে ধরেন লেবার কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এ কে এম নাসিম। পবিত্র কোরআন থেকে দার্স পেশ করেন আন-নাহদা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা কামরুল হাসান শাহীন।

এ সময় ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, কবির আহমেদ, মাস্টার শফিকুল আলম ও মুজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন