ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার জন্য নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী নানা ধরনের আচরণ করেন। ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল।
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘যেকোনো আচরণ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হতে চান। সেই শিশু নেতা বলেছেন, ১১ দলের দাবি মেনে নিলে ককটেল মারা বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে এই ককটেল তারা মারছে। সমস্ত ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুনের ঘটনায় তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ককটেল মারার হোতা হিসেবে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের প্রসঙ্গে যুবদল সভাপতি বলেন, তার কুকর্ম ও চরিত্র দেশবাসী দেখেছে। তার কারণে গরিব পরিবারের ১৯ বছরের একটি মেয়ে সারা দেশের ট্রোলের শিকার হয়েছেন। মানুষের কুৎসা রটানোর কারণে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। গত পরশু মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় একজন মানুষের দায়িত্ব ছিল এলাকার ভোটারদের নিরাপদ রাখা। কিন্তু এখানে পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মেয়েটির ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করতেন। তাকে কি মেরে ফেলা হয়েছে? বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি রিমান্ডে আছেন। এটা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার। মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
যুবদল সভাপতি আরও বলেন, গতকাল জামায়াতের আরেক নেতা মাদ্রাসার এক ছাত্রের সঙ্গে অন্যায় কাজ করেছেন। ‘এই যদি হয় তাদের ধর্মের রাজনীতির নমুনা। তারা যদি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে, তাহলে দেশকে ধ্বংস করে দেবে, মানুষের জীবনকে অনিরাপদ করে তুলবে’—বলেন তিনি।
জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আরেকটি তাদের মোনাফেকি। তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে। অতীতে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছিল। আমার মনে হয়, এখনো তারা গোপনে গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে।’
মোনায়েম মুন্না বলেন, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, জনগণ তাদের চিহ্নিত করেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণকে সজাগ করতে হবে। যুবদল রাজপথে আছে এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান যুবদল সভাপতি। একই সঙ্গে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, সহসভাপতি জিয়াউর রহমান, সহসভাপতি (দপ্তর) নুরুল ইসলাম সোহেল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


