প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকিকে চরম দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রেমিট্যান্স দেশের কোটি পরিবারের জীবন-জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেওয়া দেশের মানুষকে ক্ষুধার্ত রাখা এবং জাতীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার শামিল।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও ‘কমল কুঁড়ি’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সম্প্রতি বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সমালোচনা কিংবা সংবাদ সম্মেলন করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবার রয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা বা অন্য কাউকে আক্রমণ করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ব্যক্তির অপরাধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দেশের নাকি বিরোধী দল? একজন ব্যক্তির অপরাধের মাত্রা বিবেচনা না করে চট করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। এখন বলা হচ্ছে, ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ করে দিন। কীভাবে করবেন? বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী। তাঁদের মধ্যে অনেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত নন। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে আপনারা রেমিট্যান্স বন্ধ করবেন?
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা তাঁদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠান। দেশের অসংখ্য পরিবার এই অর্থের অপেক্ষায় থাকে। রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেওয়া মানে এসব পরিবারের জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া এবং জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা।
ছাত্ররাজনীতির লক্ষ্য শুধু মিছিল ও স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না উল্লেখ করে রিজভী বলেন, শিক্ষার্থীদের সমাজ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ভূগোল বা ইতিহাসের পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে মেধা, জ্ঞানচর্চা ও গণতন্ত্রচর্চার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একের পর এক আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় একসময় তরুণদের সক্ষমতা নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছিল। অনেকে মনে করেছিলেন, তরুণেরা হয়তো আর ইতিহাস নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারবে না। কিন্তু ২০২৪ সালের উত্তাল আন্দোলনে তরুণেরা অগ্রদূত ও অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের সাহসিকতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলেই স্বৈরাচারী শাসনের পতন সম্ভব হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন নিয়ে আয়োজিত এই রচনা প্রতিযোগিতায় ৭ হাজার ৬৬২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ তরুণদের মধ্যে ইতিহাস ও দেশমাতৃকার বিষয়ে জানার গভীর আগ্রহের প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘কমল কুঁড়ি’র আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বেবী নাজনীন, স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি। অনুষ্ঠান শেষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

