ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ধারাবাহিকতায় আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদে ধ্বংসযজ্ঞ

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ধারাবাহিকতায় আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদে ধ্বংসযজ্ঞ

ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ১ হাজার ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং ১০টিরও বেশি মসজিদ ধ্বংসের খবরে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী ও সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান এ উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রায়ই উদ্বিগ্ন হতে হয়। ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা উপমহাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের একটি দৃষ্টান্ত। আসামের ঘটনাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সংগঠনটির সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, ভারত সরকার এসব উচ্ছেদকে সরকারি ও বন বিভাগের জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বসবাসের ইতিহাস এবং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।

বিবৃতিতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা কিংবা তাদের জানমাল অনিরাপদ করে তোলা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ভারতীয় মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার বারবার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংগঠনটি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আসামে ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও মসজিদ ধ্বংসের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আসামের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো বেদনাদায়ক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রোধে মসজিদ, মানুষের বসতভিটা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা অপরিহার্য। ভারতের মুসলমানরাও দেশটির নাগরিক। ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...