বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবিত থাকতে কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবিত থাকতে কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অহেতুক মানুষকে উত্তেজিত করে দেশকে বিপদগ্রস্ত করা এবং স্বৈরাচারের রাস্তাকে খুলে দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র চলছে, বিএনপি বা বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবিত থাকতে বাংলাদেশে তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

বুধবার রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া।

অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বাকস্বাধীনতা মানে অবারিত স্বাধীনতা নয়। কাউকে ম্যালাইন করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বা সম্মানহানি করা গণতন্ত্রের শিক্ষা নয়। তাই ভাষা ও বক্তব্যে সংযত হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে গালিগালাজ বা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। অহেতুক মানুষকে উসকে দিয়ে দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া এবং স্বৈরাচারের পথ সুগম করার যে অপচেষ্টা চলছে, বিএনপি বা বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবিত থাকতে সেই ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেবে না।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, যারা স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন, তাদের উদ্দেশে বিএনপি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চায়—বিএনপির ইতিহাস আপোষকামিতার ইতিহাস নয়, পলায়নপরতার ইতিহাসও নয়; বিএনপির ইতিহাস স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইতিহাস। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টার জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির বর্তমান নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর প্রবাসে অবস্থান করেও তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও মোহনীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্ব ছিল অবিচল, দেশের মানুষও ছিল ঐক্যবদ্ধ। ফলে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ের মাধ্যমে সব ধরনের ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে কোনো ধরনের দ্বিচারিতা বা আপোষকামিতার স্থান নেই। বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের কল্যাণ, সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য। তাই যখনই বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, দলটি সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দেশসেবার সুযোগ পেয়েছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা থেকে শিক্ষা নিতে হবে, যাতে কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি না হয়।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে কোনো অবস্থাতেই এ দেশ থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র তার অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি, সেলিমুজ্জামান সেলিম এমপি, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথিকা বিনতে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন