বাংলাদেশকে আবার পিছনে টেনে নিয়ে যাওয়ার অনেক রকম চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব একথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যু উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এখনো অনেক চক্রান্ত আছে। অনেক ষড়যন্ত্র আছে। বাংলাদেশকে আবার পেছনে টেনে নিয়ে যাওয়ার অনেক রকম চক্রান্ত আছে। সেখান থেকে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আপনারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশেকে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন সবাই মিলে আসুন আমরা আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশকে আবার গড়ে তুলি। তাহলেই কেবল আমাদের নেত্রীর প্রতি সত্যিকার শ্রদ্ধা জানানো হবে।’
এ সময় খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি বেগম জিয়া তাদের কাছে সত্যিকার অর্থেই একজন আইকন। তার জানাজায় লাখো মানুষ এসেছে, এটা কোনো অর্গানাইজড সমাবেশ ছিল না। এটা সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে হয়েছিল। তারা প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ছুটে এসেছেন, কেঁদেছেন। এখনো যদি আপনারা তার কবরে যান, দেখবেন হাজার হাজার মানুষ সেখানে আসছে, দোয়া করছে। এর কারণ হচ্ছেÑ এই নেত্রীর মধ্যে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষগুলো বাংলাদেশকে খুঁজে পেয়েছিল। তাদের ভবিষ্যৎকে দেখতে পেয়েছিল, তারা ভেবেছিল যে তাদের আশা-আকাঙক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন এই নেত্রী।
বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে খালেদা জিয়ার অবদান কখনো অস্বীকার করা যাবে না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি কষ্ট করেছেন, জেলে গেছেন। যখন মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে যান, তখন তিনি সুস্থ ছিলেন। যখন তিনি জেল থেকে বেরিয়ে আসেন দু বছর পরে, তখন তিনি হইলচেয়ার ছিলেন। তাকে যে প্রকষ্ঠে আবদ্ধ রাখা হয়েছিল, সেটা ছিল একটা পরিত্যক্ত ঘর। সেটির পলেস্তারা খসে পড়ছিল, প্লাস্টার সব খসে পড়ছিল, ইঁদুর দৌড়াদৌড়ি করতো। সেখানে বেগম খালেদা জিয়াকে দুই বছর বিনা চিকিৎসায় রাখা হয়েছে, যার ফলে তিনি অসুস্থ হন। সে অসুস্থতাই আজকে তাকে এই পরিণতিতে নিয়ে গেছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, আইসিসিবির সহসভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

