গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

স্টাফ রিপোর্টার

গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

গণভোটে প্রদত্ত গণরায়ের বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করা, সীমান্তে পুশইন ও বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং জনগণের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধানের দাবিতে আগামী ১১ জুলাই ২০২৬ রংপুরে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর মহানগর আমির এটিএম আযম খান, রংপুর জেলা আমির ও রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, মহানগর প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট কাওছার আলী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রংপুর মহানগর সভাপতি মাওলানা ইব্রাহিম খলিল, খেলাফত মজলিসের রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুফতি নেয়ামতুল্লাহ সহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক সংকট ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ যে গণঅভ্যুত্থান গড়ে তুলে স্বৈরাচারের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে ছিল, তার ধারাবাহিকতায় দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে জনগণ তাদের সুস্পষ্ট মতামত প্রদান করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, যা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের রায়ই সর্বোচ্চ। সেই রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন রাষ্ট্র ও সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বহু প্রতিশ্রুতির পরও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। তিস্তার ন্যায্য পানিপ্রবাহ নিশ্চিত এবং মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও পুশইনের ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং বিভিন্ন জনদুর্ভোগে সাধারণ মানুষ চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে। জনগণের এসব বাস্তব সমস্যার সমাধানে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশগুলোতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে জনগণ তাদের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং জনকল্যাণমূলক দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় রংপুর বিভাগীয় সমাবেশও উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবি ও প্রত্যাশার একটি শক্তিশালী গণমঞ্চ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ১১ জুলাই রংপুরে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সর্বস্তরের জনগণ, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক এবং সচেতন নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন