আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শীর্ষ পদে নারী নয় কেন, যে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত নেত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

শীর্ষ পদে নারী নয় কেন, যে ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত নেত্রী

ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করতেই জামায়াতে ইসলামীতে নারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার সুযোগ নেই—এমন দাবি করেছেন দলটির মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। তার মতে, পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী পুরুষই নারীদের অভিভাবক ও নেতৃত্বদাতা, যা ইসলামী সংগঠনের জন্য অনুসরণীয় বিধান।

রোববার নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী আদর্শভিত্তিক সংগঠন। কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী নারীরা শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিতে পারেন না। এটি আমাদের ঈমান ও সাংগঠনিক নীতির অংশ।

বিজ্ঞাপন

সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নীতিগত সিদ্ধান্ত।

তবে তিনি দাবি করেন, শীর্ষ পদে নারী থাকা সংগঠনের প্রধান বিবেচ্য বিষয় নয়। তার ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীদের অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তারা সম্মান ও নিরাপত্তা পাচ্ছেন কি না।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশে একাধিক নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও নারীদের প্রতি সহিংসতা কমেনি বা নারীর অধিকার কাঙ্ক্ষিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তার মতে, নেতৃত্বে নারী বা পুরুষ নয়—মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বই সমাজ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠক করে।

অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। এ সময় জামায়াতের নারী উইংয়ের প্রধান হাবিবা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা কার্যকরভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে’ নারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় জামায়াত সংশ্লিষ্ট নারী কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ১৫টি ঘটনার তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এসব হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত নেত্রীরা।

জামায়াতের নারী নেত্রীরা দাবি করেন, তাদের সংগঠনের উপদেষ্টা ও নির্বাহী কমিটিতে ৪০ শতাংশের বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে এখনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়নি এবং সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে কিছু রাজনৈতিক দল অযৌক্তিক অভিযোগ তুলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন