জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ ও বিস্তারে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ। আন্দোলনকালীন শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি সহমর্মিতা, এবং অভ্যুত্থানপন্থী নাগরিকদের সম্মান জানাতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্যসচিব জাহিদ হাসান কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “গত বছরের জুলাইয়ে আমরা এক ঐতিহাসিক গণজাগরণের সাক্ষী হয়েছিলাম। জনগণ কীভাবে বুক চিতিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে- এই চেতনা ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছি।”
সংগঠনটির ঢাবি শাখার মুখপাত্র আশররেফা খাতুন বলেন, “জুলাই আমাদের জীবনের শিক্ষা। এই অভ্যুত্থানের চেতনা থেকেই গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের জন্ম। আমরা চাই, জুলাই শুধুই স্মৃতি না হয়ে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে উঠুক। তাই এই উদ্যোগ।”
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩৬ জুলাই অর্থাৎ ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে নানা আয়োজন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-
৪ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা সভা- ‘সাহসী সাংবাদিক সমিতি: অভ্যুত্থানের দিনলিপি’;
৭ জুলাই: সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও পেশাজীবীদের সম্মাননা প্রদান ও মতবিনিময়;
৭–১৪ জুলাই: ‘স্বজনের সঙ্গে মোলাকাত’- শহীদদের কবর জিয়ারত ও আহত-শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ;
১৪ জুলাই: ‘নারীর নেতৃত্বে দূরীভূত অন্ধকার’ শীর্ষক দিবস পালন;
১৫ জুলাই: উইমেন্স কার্নিভ্যাল;
১৬–১৭ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস;
১৮ জুলাই: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মতবিনিময়;
১৮–২৫ জুলাই: ‘জুলাই ৩৬ ইন্টার ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’;
২১ জুলাই: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়;
২৩ জুলাই: জুলাই বিষয়ক সংগঠনসমূহকে সম্মাননা প্রদান।
এছাড়া ২৫ জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া পথশিশু, শ্রমজীবী ও রিকশাচালকদের সঙ্গে আনন্দ উৎসব, ২৬ জুলাই দেশজুড়ে গ্রাফিতি অঙ্কন, ৩১–৩৬ জুলাই কার্জন হল, টিএসসি ও মল চত্বরে ‘জুলাই এক্সিবিশন’ আয়োজন করা হবে।
সবশেষে ৩৩ জুলাই (৩ আগস্ট) ফ্ল্যাগ মুভ এবং ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) ‘ভিক্টোরি মার্চ’-এর মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা শুধু স্মৃতিকে ধারণই করবেন না, বরং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও তুলে ধরবেন- একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায্য সমাজ নির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

