জেএসএসএফ এর অনুষ্ঠানে ডা. জাহেদ

গুলিবর্ষণে মানুষ মারা যায় সেই বাংলাদেশ চাই না

গুলিবর্ষণে মানুষ মারা যায় সেই বাংলাদেশ চাই না
ডা. জাহেদ

আমরা জুলাই শহীদদের ভুলতে পারি না, এই জাতি এরকম অকৃতজ্ঞ না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি আরো বলেন, বিএনপি জুলাইকে ধারণ করে, মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে। কোনদিন আরেকটা গণঅভ্যুত্থান দূরে থাকুক আন্দোলন করে গুলিবর্ষণে মানুষ মারা যায় সেই বাংলাদেশ আমরা চাই না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় ফিল্ম আর্কাইভে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন (জেএসএসএফ) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা তোমাদের ভুলবো না -এটা যারা শহীদ হয়েছেন তাদের জন্য বলছি। এটা যারা আহত হয়েছেন তাদের কথাও বলছি। আমরা আসলে আপনাদের (জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের উদ্দেশ্যে) ভুলবো না। আমরা ভুলতে পারিনা। এই জাতি এরকম অকৃতজ্ঞ না। যে দলটা জুলাইয়ের পর এখন সরকারের দায়িত্বে এসেছে, সরকার গঠন করেছে সেই সরকার এই জুলাই অত্যন্ত একটিভলি জড়িত ছিল। এই দলটা জুলাইকে ধারণ করে। এই দল মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে। আমাদের যে একটা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যে স্বপ্ন ছিল আমরা মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার এইটা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম ওটা হয় নাই। আমরা যদি ফেইল করি আবার এই লড়াইটা কোনদিন হবে। সেটা ৩৪ অথবা ৪৪ এ হবে, ফর শিওর।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু আমরা চাই না এইরকম আরেকটা লড়াই হোক। শহীদ আবু সাঈদ আমাদের মধ্য থেকে চলে গেছেন। সাঈদ সম্পর্কে দুটা কথা বলা দরকার। সাঈদ ইজ ডিফারেন্ট ফ্রম অল আদারস। যারা যুদ্ধে নেমেছেন সবাই মৃত্যুর ঝুঁকে নিয়ে নেমেছেন। কিন্তু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিলেন বুলেটের সামনে। একদম ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে। কিন্তু সাঈদের মত আরেকটা বীর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে তৈরি হোক আমরা চাই না। কোনদিন আরেকটা গণঅভ্যুত্থান দূরে থাকুক আন্দোলন করে গুলিবর্ষণে মানুষ মারা যায় সেই বাংলাদেশ চাই না।

ডা. জাহেদ জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে বলেন, যারা রাস্তায় নেমেছেন এবং যারা বুলেটের সামনে বুক পেতেছে তারা জানতো না হাসিনা পালাবে। তারা কিছু পাবেন এই আশায়ও সেটা করেন নাই। চিকিৎসা বা সাহায্য দূরে থাকুক জেল কপালে জোটার সম্ভাবনা ছিল। সেটা জেনেই তারা গেছে। সুতরাং রাষ্ট্র তাদের দেখবে এটা ভেবে তারা আন্দোলনে যান নাই। কিন্তু এতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। তারা কেউ কিছু চান না। কিন্তু যাদের জন্য আমরা আজকে এই জায়গায় আসতে পেরেছি আমি বিশ্বাস করি সরকারের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকার। অন্যথায় আমাদের মত অকৃতজ্ঞ কেউ হবে বলে আমি মনে করি না।

স্বাগত বক্তব্যে জেএসএসএফ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল আকবর বলেন, জুলাই বিপ্লবে নিজে জীবন দিতে পারিনি, কিন্তু তাদের জন্য কিছু করতে পারাটাই বড় বিষয়। আমরা চাই তাদের একটি সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যেতে। যেন এই স্মৃতি কখনো হারিয়ে না যায়। শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার নিশ্চয়তা আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার মৃত্যু পর্যন্ত দিচ্ছি।

অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিস্তার জাহান কবির বলেন, পলাতক শক্তি নানা চক্রান্ত করছে দেশের বাইরে থেকে। বিশেষ করে একটি প্রতিবেশী দেশ -যাকে সবাই বন্ধুপ্রতিম দেশ বলে। সে কী করে বন্ধু হলো তা আমার মাথায় আসে না। এদেশের উন্নয়নে তাদের কন্ট্রিবিউশন কী? অথচ তারা বন্ধুপ্রতিম। আমাদের শুধু তাদের ও চক্রান্তকারীদের বিষয়ে একটু সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষ্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক হেলাল খান, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি, শহীদ মনিরুল ইসলামের কন্যা রুফাইদা ইসলাম চাদনী প্রমুখ।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি চৌধুরী মাজহার আলী বলেন, আমি লজ্জিত হই একজন শিল্পী হিসেবে যখন দেখি অনেক শিল্পী জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করে কথা বলেন। তারা কী ধরনের ব্যাখ্যা দেয় বা কী বলে, তা দেখে অবাক হই। একজন শিল্পী হওয়া কি এতই সোজা? যার ভেতরে আবেগ নেই, চেতনার বোধ নেই, যার বিবেক কাজ করে না—সে কি আদৌ শিল্পী হতে পারে? অন্য কেউ থাকুক বা না থাকুক, আমরা আছি। আমি আছি, আমার ভাইরা আছেন। আমাদের মতো অনেক শিল্পী আছেন যারা দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে এবং জুলাইয়ের শক্তির জন্য কাজ করবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন