বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসরের পর্দা নামার অপেক্ষা এখন মাত্র কদিনের। ৪৮টি দল নিয়ে শুরু হওয়া ফুটবল মহাযজ্ঞের শিরোপা দৌড়ে টিকে আছে মোটে দুই পরাশক্তি—ইউরোপসেরা স্পেন আর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এ দুদল। এই হাইভোল্টেজ মেগা ফাইনালকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।
বিশ্বকাপের এই ব্লকবাস্টার ফাইনালের আগে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল মেটাতে মাঠে নেমেছে ডেটা অ্যানালাইসিস প্রযুক্তি ‘অপ্টা সুপারকম্পিউটার’। গাণিতিক হিসাব-নিকাশ ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সুপারকম্পিউটার জানিয়ে দিয়েছে ফাইনালে কার হাতে উঠতে পারে সোনালি ট্রফিটি।
অপ্টা সুপারকম্পিউটারের গাণিতিক পূর্বাভাস বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তোলার দৌড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন। স্প্যানিশদের সরাসরি ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৪৫.১ শতাংশ। ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা স্পেনের লক্ষ্য এখন ২০১০ সালের পর তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরা।
অন্যদিকে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার ওপর সুপারকম্পিউটার এবার ততটা ভরসা রাখতে পারছে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলবিসেলেস্তেদের টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ২৯.৪ শতাংশ। যদিও সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নাটকীয়ভাবে ফাইনালের টিকিট কেটেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি এখন আর্জেন্টিনার সামনে।
সুপারকম্পিউটারের হিসাবমতে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে যদি ফাইনালের নিষ্পত্তি না হয়, তবে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সে সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ। সেক্ষেত্রে পেনাল্টি শুটআউট বা টাইব্রেকারে নির্ধারিত হতে পারে বিশ্বসেরার মুকুট।
পরিসংখ্যান বলছে, সব ধরনের প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে স্পেন এবং আর্জেন্টিনা এ পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে দুদলেরই জয়ের রেকর্ড একদম সমান—উভয় দলই জিতেছে ছয়টি করে ম্যাচ, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দেবে নাÑতা বলাই বাহুল্য।
তবে ফুটবল রোমাঞ্চের আসল সৌন্দর্য এখানেই যে, খেলাটি কম্পিউটারের পর্দায় নয়, খেলা হয় মাঠের ঘাসে। চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ভুল হলেও দুই সেমিফাইনালের একটিতেও তার হিসাব মেলেনি। তাই সুপারকম্পিউটারের প্রেডিকশনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির দল টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয় করবে, নাকি লামিনে ইয়ামালদের মতো তরুণ তুর্কীদের নিয়ে স্পেন মেতে উঠবে উল্লাসে—তা দেখার জন্য ১৯ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

