বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলের হৃদয়বিদারক হার। তাই তো ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের হতাশা উগরে দিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ম্যাচটিতে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলেও, শেষ মুহূর্তের রক্ষণাত্মক কৌশল ও খেই হারিয়ে ফেলার কারণে হার মানতে হয়েছে থ্রি-লায়ন্সদের। কেইনের মতে, এটি ইংল্যান্ডের বিগত কয়েকটি টুর্নামেন্টের পুরোনো ও পরিচিত এক ব্যর্থতার গল্প।
ম্যাচ শেষে কেইন জানান, ম্যাচের প্রথম ৬০ মিনিট তারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। কিন্তু গোল পাওয়ার পর দল যেভাবে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, সেটাই কাল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে এটা আগের টুর্নামেন্টগুলোর মতোই একই গল্প। আমরা ৬০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের গতি খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি, গোল দিয়ে এগিয়েও গিয়েছিলাম। কিন্তু এরপর কোনো এক কারণে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছিলাম না, বলের ওপর চাপ তৈরি করতেও আমাদের কষ্ট হচ্ছিল।’
ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণাত্মক ৫-ডিফেন্ডার ফরমেশনে চলে যায়। কেইন মনে করেন, এই অতি-রক্ষণাত্মক মানসিকতাই আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেয়। তিনি আরো যোগ করেন, ‘এক গোলের লিড ধরে রাখার জন্য রক্ষণাত্মক হয়ে পড়া একটা স্বাভাবিক মানসিকতা, কিন্তু ম্যাচের তখনো ২০ মিনিট বাকি ছিল। আমাদের ম্যাচটি আবার দেখতে হবে এবং বুঝতে হবে কীভাবে এই পরিস্থিতিগুলোতে উন্নতি করা যায়। গত চারটা টুর্নামেন্ট ধরে এটাই সম্ভবত আমাদের দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতি।’
এই গ্রীষ্মে ৩৩ বছরে পা দিতে যাওয়া হ্যারি কেইনের পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় বয়স হবে ৩৬ বছর। এটিই ইংল্যান্ডের জার্সিতে তার শেষ বিশ্বকাপ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কেইন এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হননি। লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে কেইন বলেন, ‘এই বিষয়ে কথা বলার জন্য এখনো অনেক সময় বাকি। আমি বছর ধরে ধরে খেলে যেতে চাই। জাতীয় দল আমার গর্ব এবং আনন্দের জায়গা। আর যেকোনো কিছুর চেয়ে এটি করতেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। চার বছর অনেক দীর্ঘ সময়। তবে লিওনেল মেসির দিকে তাকান, তার কিন্তু শেষ হয়নি, সে এখনো সর্বোচ্চ স্তরে খেলে যাচ্ছে।’
কেইন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা টেনে দিতে চান না এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন।
২০১৮ সালের সেমিফাইনাল, ইউরো ২০২১-এর ফাইনাল, ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের এই সোনালি প্রজন্মকে ট্রফি ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হলো, যা হ্যারি কেইনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরো একটি বড় ধাক্কা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

